বিশ্বকাপ ফুটবল | The Daily Ittefaq

বিশ্বকাপের মাসকটনামা

বিশ্বকাপের মাসকটনামা
স্পোর্টস রিপোর্টার১২ জুলাই, ২০১৮ ইং ১০:৪৬ মিঃ
বিশ্বকাপের মাসকটনামা
‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’ খ্যাত বিশ্বকাপ মানে কেবল মাঠের খেলাই নয়, এর মধ্যে থাকে মাঠের বাইরের অনেক কিছু। এর মধ্যে অন্যতম আলোচিত একটা বিষয় হলো মাসকট। মাসকটের ব্যবহার প্রথম শুরু হয় ১৯৬৬ সালে, ইংল্যান্ড বিশ্বকাপ দিয়ে। মাসকট মূলত আয়োজক দেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতির মিশেলে এমন একটা প্রতিকৃতি যা ওই বিশ্বকাপকে প্রতিনিধিত্ব করে। বিভিন্ন বিশ্বকাপে বিভিন্ন ধারণা এবং থিম কাজে লাগিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মাসকট সামনে এসেছে। সেসব নিয়েই আমাদের এই আয়োজন-
 
১৯৬৬ বিশ্বকাপ (ইংল্যান্ড)
 
এই মাসকটটিকে এখন অবধি বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা মাসকট বলে বিবেচনা করা হয়।  সিংহ হলো ইংল্যান্ডের প্রতীক। এবং সেই মাসকটের পরিহিত জার্সিতে ‘বিশ্বকাপ’ শব্দটি লেখা ছিল। ওয়ার্ল্ড কাপ উইলি নামক এই মাসকটটির ডিজাইনার ছিলেন শিশুতোষ বইয়ের প্রখ্যাত চিত্রশিল্পী রেগ হয়।
 
১৯৭০ বিশ্বকাপ  (মেক্সিকো)
 
১৯৭০-এর মেক্সিকো বিশ্বকাপের মাসকট ছিল ‘জুনাইতো’। এটি একটি মেক্সিকান ঐতিহ্যবাহী সবুজ জামা পরিহিত বালক যে মাথায় পড়েছিল মেক্সিকান ‘সোম্ব্রেরো’ নামক টুপি যেখানে লেখা ছিল ‘মেক্সিকো ৭০’। এটা ছিল বিশ্বকাপ ফুটবলের প্রথম রঙিন মাসকট।
 
১৯৭৪ বিশ্বকাপ (পশ্চিম জার্মানি)
 
১৯৭৪-এর পশ্চিম জার্মান বিশ্বকাপের মাসকটে ছিল নতুনত্ব। একের বদলে এখানে ছিল দুইটি বালক। উভয় বালক পরিহিত ছিল পশ্চিম জার্মানের জার্সি যার একটাতে  জার্মান ভাষায় লেখা ছিল ‘বিশ্বকাপ’। অন্যটিতে সাল ’৭৪-এর কথা লেখা ছিল। মাসকটের নাম ‘টিপ অ্যান্ড ট্যাপ’।
 
১৯৭৮ বিশ্বকাপ (আর্জেন্টিনা
 
১৯৭৮-এর আর্জেন্টিনা বিশ্বকাপের মাসকটের নাম ছিল ‘গাউচিতো’। পরপর তিনবারের মত মনুষ্য বালক মাসকট হিসেবে ব্যবহার করা হয়। আর্জেন্টিনা দলের জার্সি পরিহিত একটি বালক যার জার্সিতে লেখা ছিল ‘আর্জেন্টিনা ’৭৮’। এই বালকের গলায় বাঁধা ছিল একটা রুমাল আর হাতে ছিল ঐতিহ্যবাহী আর্জেন্টাইন চাবুক।
 
১৯৮২ বিশ্বকাপ (স্পেন)
 
স্পেনের প্রচলিত ফল কমলা, এই কমলার গায়ে স্পেন জাতীয় দলের জার্সি পরিহিত মাসকটটি ছিল ১৯৮২ সালের বিশ্বকাপ মাসকট। এর নাম ছিল ‘নারানজিতো’। এই নামটি এসেছে ‘নারানজা’ থেকে যার ইংরেজি অর্থ কমলা।
 
১৯৮৬ বিশ্বকাপ (মেক্সিকো)
 
১৯৮৬ সালের মেক্সিকো বিশ্বকাপের মাসকটটির নাম ছিল ‘পিকে’ যা এসেছিল মেক্সিকোর বিখ্যাত দৈত্যাকৃতির মরিচকে কেন্দ্র করে। এর নামটি নেয়া হয়েছিল স্প্যানিশ শব্দ ‘পিকান্তে’ হতে ‘পিকে’ নামটির উত্পত্তি যার অর্থ খুব ঝাল এক ধরনের মরিচ।
 
১৯৯০ বিশ্বকাপ (ইতালি)
 
ইতালিতে অনুষ্ঠিত এই বিশ্বকাপের মাসকটটি তৈরি হয় কতগুলো লাঠিখণ্ডকে মানুষের অবয়ব দিয়ে। প্রতিটি লাঠিখণ্ড ইতালির পতাকার রঙে রঞ্জিত ছিল। মানব আকৃতির এই ফুটবল খেলোয়াড়ের মাথা হিসেবে ব্যবহার করা হয় একটি ফুটবল। এই মাসকটটির নাম ছিল ‘সিয়াও’ যা ইতালীয় ভাষায় এক ধরনের বিশেষ সম্ভাষণ।
 
১৯৯৪ বিশ্বকাপ (যুক্তরাষ্ট্র)
 
১৯৯৪-এর আমেরিকা বিশ্বকাপের লোগো ছিল একটি  কুকুরের । লাল, সাদা এবং নীল রঙের জার্সি পরিহিত এই মাসকটের জামায় লেখা ছিল ‘ইউএসএ ’৯৪’। এর নাম ছিল ‘স্ট্রাইকার, দ্য ওয়ার্ল্ড কাপ পাপি’।
 
১৯৯৮ বিশ্বকাপ (ফ্রান্স)
 
১৯৯৮-এর ফুটবল বিশ্বকাপের মাসকট ছিল ‘ফুটিক্স’। ফ্রান্সের প্রচলিত ‘গালিক রুস্টার’-এর আদলে তৈরি এই মাসকটটি ছিল খুবই রঙিন। নীল রঙের শরীরবিশিষ্ট এই মাসকটের লাল রঙের মাথায় হলুদ ঠোঁট একে বিশেষত্ব দান করে। এর বুকে গাঢ় নীল রঙের একটি ব্যানারে সাদা রঙে লেখা ছিল: ‘ফ্রান্স ’৯৮’।
 
২০০২ বিশ্বকাপ (জাপান-কোরিয়া)
 
কমলা, বেগুনি এবং নীল রঙের ভিন্ন ভিন প্রাণীর আকৃতি নিয়ে তৈরি হয় এই বিশ্বকাপের মাসকট। এটা মোটেও দর্শকদের কাছে গ্রহণযোগ্যতা পায়নি। ‘অ্যান্ড, ক্যাজ অ্যান্ড নিক’ নামের এই মাসকটটির নাম নির্বাচিত হয় জাপান এবং কোরিয়ায় অবস্থিত ম্যাগডোনাল্ডসের আউটলেটে আগত ক্রেতাদের ভোটে।
 
২০০৬  বিশ্বকাপ (জার্মানি)
 
‘ষষ্ঠ গোলেও ও পিলে’ নামক জার্মান বিশ্বকাপের এই মাসকট গত পাঁচটি বিশ্বকাপের মধ্যে সেরা নির্বাচিত হয়েছে ফিফা’র অফিসিয়াল ওয়েব সাইটে প্রদত্ত ভোটে। সিংহের গায়ে জার্মান দলের জার্সি পরিহিত এই মাসকট ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। এর নাম ছিল ষষ্ঠ গোলেও আর ফুটবলের মধ্যে চোখ বসিয়ে এর সাথে ছিল পিলে।
 
২০১০ বিশ্বকাপ (দক্ষিণ আফ্রিকা)
 
দক্ষিণ আফ্রিকার এই বিশ্বকাপের মাসকট ছিল ‘জাকুমি’। ‘জা’ করে দক্ষিণ আফ্রিকাকে আর ‘কুমি’ দিয়ে আফ্রিকার অনেক আঞ্চলিক ১০টি ভাষাকে বোঝানো হয়। এর সবুজ এবং সোনালি রঙ দক্ষিণ আফ্রিকা জাতীয় পতাকার প্রতিনিধিত্ব করে।
 
২০১৪ বিশ্বকাপ (ব্রাজিল)
 
‘আরমাডিলো’ নামের ঐতিহ্যবাহী প্রাণীকে কেন্দ্র করে তৈরি হয় ব্রাজিল বিশ্বকাপের মাসকট। এর নাম ‘ফুলেকো দ্য আরমাডিলো’। এই মাসকট দিয়ে ব্রাজিলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।। নীল রঙের আঁচড় দিয়ে স্বচ্ছ আকাশ এবং পরিষ্কার জল বোঝানো হয়েছে। পরিবেশ বাঁচানোর আন্দোলনকে মাথায় রেখে এই মাসকটটির নকশা করা হয়। মাসকটটি বেশ সাড়া জাগায়।
 
২০১৮ বিশ্বকাপ (রাশিয়া)
 
এবারে রাশিয়া বিশ্বকাপের মাসকট হলো ‘জাভিকাকা’ নামের এক নেকড়ে। রাশিয়ান ভাষায় জাবিভাকা শব্দের অর্থ ‘যে গোল করে’। এই মাসকটটির নকশা করেন একাতেরিনা বোচারোভা নামের এক শিক্ষার্থী। ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার মতে এই মাসকটটি আকর্ষণীয়, আত্মবিশ্বাসী ও ফুটবল দিয়ে সামাজিক বন্ধন গড়ার প্রতীক। অনলাইন ভোটাভুটিতে নেকড়ে পেয়েছিল ৫৩ শতাংশ ভোট। দুই নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাঘ ২৭ শতাংশ এবং বিড়াল ২০ শতাংশ ভোট পেয়েছিল।
 
ইত্তেফাক/কেকে
এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩৩
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৩
মাগরিব৫:৫৭
এশা৭:১০
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫২