বিশ্বকাপ ফুটবল | The Daily Ittefaq

একতাই ক্রোয়েশিয়ার সাফল্যের রহস্য

একতাই ক্রোয়েশিয়ার সাফল্যের রহস্য
স্পোর্টস রিপোর্টার১৪ জুলাই, ২০১৮ ইং ০৯:০৭ মিঃ
একতাই ক্রোয়েশিয়ার সাফল্যের রহস্য
 
ক্রোয়েশিয়া দলে তারকা নেই, তা নয়। ইভান রাকিটিচ ও লুকা মদ্রিচের মতো বিশ্বসেরা দুই মিডফিল্ডার আছেন। মারিও মানজুকিচ, ইভান পেরিসিচের মতো পারফরমার আছেন। তারকা তাদেরও আছে। কিন্তু এরা কেউ লিওনেল মেসি, ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো বা নেইমারের মতো তারকা নন। অথচ মেসি, রোনালদো, নেইমাররা যা পারেননি, তাই করে দেখিয়েছেন মদ্রিচরা। তারা দলকে নিয়ে গেছে ফাইনালে।
 
মেসিরা যা পারলেন না, মদ্রিচরা তা কী করে পারলেন?
এর উত্তর আছে ক্রোয়েশিয়ার কোচ জ্লাতকো দালিচের কাছে। তিনি বলছিলেন, এসব মহাতারকার ওপর অতিরিক্ত নির্ভর করেই দলগুলো ডুবেছে। বিপরীতে যেসব দল একটা দল হিসেবে একতাবদ্ধ ছিল, তারাই টিকে আছে বিশ্বকাপে।
 
মেসি ও নেইমারের শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিয়েও দালিচ বলছিলেন, একতাবদ্ধতাই আসলে সাফল্যের মূল ব্যাপার। বিশেষ করে এই বিশ্বকাপে তারকা নির্ভরতা বিপদে ফেলেছে অনেক দলকে, এমন মনে করেন ক্রোয়েশিয়ার কোচ, ‘আমার কাছে মেসি বিশ্বসেরা খেলোয়াড় এবং নেইমার বিশ্বসেরার খুব কাছাকাছি। কিন্তু এই বিশ্বকাপে তারকানির্ভর দলগুলো তাদের বড় নামের খেলোয়াড়দের ওপর নির্ভর করেছে এবং তারা এখন দর্শক। এখনও টিকে আছে জমাট-ঐক্যবদ্ধ দল, যারা লড়াই করছে।’
 
বিপরীতে ক্রোয়েশিয়ার মতো যারা একক কোনো তারকার ওপর ভরসা করেনি, তারা সাফল্য পেয়েছে। তারকাদের বিদায় সম্পর্কে দালিচের ধারণা, বিশ্বকাপটা একটু অদ্ভুতুড়ে। তবে তারা এর মধ্যেও একতাবদ্ধ থাকায় সাফল্য পেয়েছেন। যেটা দশ বছর আগে ক্রোয়েশিয়ায় ছিল না বলে এই কোচের দাবি, ‘এটাই সবচেয়ে অদ্ভুতুড়ে বিশ্বকাপ। ফুটবল অনেক এগিয়ে যাওয়ায় যে কোনো দলেরই এখন গোছালো রক্ষণভাগ থাকতে পারে। তাই জয়ের ব্যবধান খুব বড় হচ্ছে না। গত ১০ বছরে এটাই আমাদের সমস্যা ছিল। আমাদের ব্যক্তিগত নৈপুণ্যনিভর্র খেলোয়াড় ছিল কিন্তু কোনো ঐক্য ছিল না। এ কারণেই আমাকে ওই ঐক্য তৈরি করতে হয়েছে।’
 
রিয়াল মাদ্রিদের লুকা মদ্রিচ ও বার্সেলোনার ইভান রাকিতিচ ক্রোয়েশিয়ার মাঝ মাঠের ইঞ্জিন। কিন্তু ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দলটির জয়ের নায়ক মারিও মানজুকিচ। বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ জেতা এই ফরোয়ার্ড এখন খেলছেন জুভেন্তাসের হয়ে; তার অতিরিক্ত সময়ের গোলেই ইংল্যান্ডকে হারায় ক্রোয়েশিয়া।
 
দালিচ বলছিলেন, দিনশেষে নায়ক যেই হোন না কেনো, পুরো দলের একটা ছুটি পাওনা ছিল ফাইনালের আগে। তিনি তার শিষ্যদের উত্সব করতে ও ক্লান্তি দূর করতে সেই সময়টা দিয়েছেন, ‘ছেলেরা ক্লান্ত ছিল। তারা ক্লান্ত হয়ে গিয়েছিল; তারা বাঁধভাঙা উচ্ছ্বাসে মেতে ছিল। তারা একটা দিন ছুটি পেয়েছে এবং আমি তাদেরকে আগামীকাল পরখ করব। তারা মুক্তভাবে উদযাপন করেছে এবং আমি তাদের অনুমতি দিয়েছি।’
 
কোচ হিসেবে এটাই জ্লাতকো দালিচের সেরা কৃতিত্ব। এর আগে বড় কোনো দলের কোচ ছিলেন না তিনি। মধ্যপ্রাচ্যে কয়েকটি ক্লাবে কোচিং করিয়েছেন। এ ছাড়া ক্রোয়েশিয়া যুবদলের দায়িত্বে ছিলেন। এই রকম ‘লো প্রোফাইলের’ দালিচের হাতে গত বছর তুলে দেওয়া হয় ক্রোয়েশিয়ার দায়িত্ব।
 
সেই দায়িত্ব এরই মধ্যে অসাধারণভাবে পালন করে ফেলেছেন এই কোচ। ক্রোয়েশিয়া দল ইতিমধ্যে তাদের সেরা সাফল্য ছাপিয়ে গেছে। এই সাফল্যের অংশীদার হতে পেরে যারপরনাই খুশী দালিচ, ‘এটা হয়ত যে কোনো ক্রোয়েশিয়ানের জন্য ক্রীড়াক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় অর্জন। এটা একটা বৈশ্বিক সাফল্য এবং এটা আমার অধীনে হওয়াতে আমি খুবই খুশি।’
 

ইত্তেফাক/এএম

এই পাতার আরো খবর -
সর্বশেষ
সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
২২ সেপ্টেম্বর, ২০১৮ ইং
ফজর৪:৩২
যোহর১১:৫২
আসর৪:১৪
মাগরিব৫:৫৮
এশা৭:১১
সূর্যোদয় - ৫:৪৭সূর্যাস্ত - ০৫:৫৩