ঢাকা বুধবার, ২৩ জানুয়ারি ২০১৯, ১০ মাঘ ১৪২৫
২২ °সে

মিয়ানমারে রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের আপিল খারিজ

মিয়ানমারে রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের আপিল খারিজ
এর ফলে রয়টার্সের ওই দুই সাংবাদিকের সাত বছরের কারাদণ্ড বহাল থাকলো। ছবি: সংগৃহীত।

মিয়ানমারের রাষ্ট্রীয় গোপন নথি ফাঁসের অভিযোগে কারাদণ্ড প্রাপ্ত রয়টার্সের দুই সাংবাদিকের আপিল আবেদন খারিজ করে দিয়েছে দেশটির একটি আদালত। শুক্রবারের রায়ে বিচারক অং নাইং এ আদেশ দিয়েছেন। এর ফলে রয়টার্সের ওই দুই সাংবাদিকের সাত বছরের কারাদণ্ড বহাল থাকলো।

বিচারক অং নাইং রায় দেওয়ার সময় বলেন, এটা তাদের যথাযথ সাজা। এছাড়া বিবাদীপক্ষ নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করতে যথেষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেনি।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, তবে এই রায়ের বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে আপিল আবেদন করার সুযোগ থাকছে দণ্ডপ্রাপ্ত ওই সাংবাদিকদের।

মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুনের জেলা জজ আদালত গত বছরের ৩ সেপ্টেম্বরে দুই সাংবাদিক কো ওয়া লোন (৩২) এবং কিয়াও সো ওর (২৮) কে দোষীসাব্যস্ত করে সাত বছরের কারাদণ্ড দেয়।

তখন ওই রায়ের ফলে গোটা বিশ্বজুড়ে ব্যাপক সমালোচনার ঝড় ওঠে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে। মানবাধিকার ও সাংবাদিকতার স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠন এর বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ করেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র,কানাডা,ব্রিটেনসহ বেশ কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ রয়টার্স সাংবাদিকদের মুক্তি দেওয়ার জন্য এরইমধ্যে আহ্বান জানান।

এদিকে মিয়ানমারের শুক্রবারের এ রায়ের ফলে রয়টার্সের প্রধান সম্পাদক স্টেফেন এক বিবৃতিতে বলেন, ওয়া লোন ও কিয়াও সো ওর উপর যেসব নিপীড়ন চালোনে হচ্ছে আজকের রায় সেসব অন্যায়ের একটি। তারা এখনও গরাদের পেছনে থাকার একটাই কারণ। সেটা হলো যারা ক্ষমতায় আছে তারা সত্যের মুখ বন্ধ করতে চায়।

স্টেফেন আরো বলেন, সাংবাদিকদের সংবাদ সংগ্রহ করা অপরাধ নয়। যতক্ষণ পর্যন্ত মিয়ানমার এই ভয়ঙ্কর ভুল শুধরে নিচ্ছে না তক্ষণ পর্যন্ত দেশটিতে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা আসবে না।

এছাড়া তিনি আরো অভিযোগ করে বলেন, মিয়ানমারের নিম্ম-আদালত এই মামলা ভুলভাবে উপস্থাপন করে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণের দায় দুই সাংবাদিকের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন।

আরো পড়ুন: মেক্সিকো সীমান্ত থেকে ২১ লাশ উদ্ধার

অন্যদিকে এই মামলার সরকার পক্ষের আইনজীবী খিনে খিনে সোয়ে বলেন, আপিলের শুনানির সময় দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে গোপন নথি সংগ্রহ এবং তা নিজেদের কাছে রাখার প্রমাণ পাওয়া গেছে। জাতীয় নিরাপত্তা এবং জাতীয় স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত করাই তাদের উদ্দেশ্য ছিল।

মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দেশটির সংখ্যালঘু রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর যে গণহত্যা ও নির্যাতন চালায় তারই কিছু চিত্র তুলে ধরেন রয়টার্সের দুই সাংবাদিক। এজন্য ওই দুই সাংবাদিককে এ খেসারত দিতে হলো বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স, টাইমস, আল-জাজিরা।

ইত্তেফাক/এসআর

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৩ জানুয়ারি, ২০১৯
আর্কাইভ
 
বেটা
ভার্সন