দেওবন্দ মাদরাসায় তাবলিগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ

প্রকাশ : ২১ জানুয়ারি ২০১৯, ২০:০৭ | অনলাইন সংস্করণ

  অনলাইন ডেস্ক

ভারতের ঐতিহ্যবাহী ধর্মীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসা ক্যাম্পাস। ফাইল ছবি।

ভারতের ঐতিহ্যবাহী দ্বীনি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান দারুল উলুম দেওবন্দ মাদরাসায় তাবলিগের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার একটি নোটিশের মাধ্যমে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।

মাদরাসার প্রধান ফটক ‘বাবুজ জাহের’-এর নোটিশ বোর্ডে টানানো নিষেধাজ্ঞায় বলা হয়, ‘প্রিয় ছাত্রবৃন্দ! দ্বীনের প্রচার ও প্রসারের কাজ করা আমাদের জন্য ফরজ করা হয়েছে। তবে তাবলিগ জামাতের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে সৃষ্ট ফেতনা থেকে দারুল উলুমকে বাঁচানোর জন্যে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মাদরাসার মুহতামিম আবুল কাসেম নুমানি স্বাক্ষরিত নোটিশ আরো বলা হয়, ‘প্রিয় ছাত্রবৃন্দ! দারুল উলুমের চৌহদ্দির ভেতর ও বাইরে তাবলিগ জামাতের চলমান সঙ্কট নিয়ে কোনো ধরণের মাথা ঘামাবে না। দারুল উলুমের কোনো ব্যক্তি তাবলিগের দুই পক্ষের কারো সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে পারবে না।’

‘যদি কোনো ছাত্র কিংবা বহিরাগত কেউ দারুল উলুমের চৌহদ্দির ভেতর তাবলিগের চলমান সঙ্কটের ব্যাপারে মাথা ঘামায়, তাহলে অন্য ছাত্ররা এতে নিজেদের না জড়িয়ে কর্তৃপক্ষকে দ্রুত অবহিত করবে। যদি কোনো ছাত্র মাদরাসার আইন অমান্য করে নিষিদ্ধারোপিত কাজে লিপ্ত হয়, তাহলে তার বিরুদ্ধে কঠিন ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

উল্লেখ্য, তাবলীগ জামাতের ভেতরে দুটি গ্রুপের দ্বন্দ্ব চরম আকর ধারণ করেছে। এই দ্বন্দের জেরে সংঘর্ষেরও ঘটনা ঘটে। শুধু তাই নয়, এই অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে নির্ধারিত সময়ে টঙ্গীতে ২০১৮ সালের বিশ্ব ইজতেমাও হতে পারেনি।

দ্বন্দ্বের কেন্দ্রে আছেন তাবলীগ জামাতের কেন্দ্রীয় নেতা ভারতীয় মোহাম্মদ সাদ কান্দালভি। ১১ জন শুরা সদস্যের মধ্যে ৬ জন নিজামুদ্দীন মারকাজ ও মাওলানা সাদের পক্ষে অবস্থান নিলেও বাকি ৫ জন তার বিরোধিতা করেন। সাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বেশ কিছু কাল ধরেই তাবলীগ জামাতে সংস্কারের কথা বলছেন তিনি। সাদ বলেন, ধর্মীয় শিক্ষা বা ধর্মীয় প্রচারণা অর্থের বিনিময়ে করা জায়েজ নেই। যার মধ্যে মিলাদ বা ওয়াজ মাহফিলের মতো কর্মকাণ্ড পড়ে বলে মনে করা হয়।

আরও পড়ুনঃ আমি কাজের সুযোগপ্রত্যাশী, মনোনয়নপ্রত্যাশী নই: অপু বিশ্বাস

সাদ আরো বলেন, মাদ্রাসাগুলোর শিক্ষকদের মাদ্রাসার ভেতরে নামাজ না পড়ে মসজিদে এসে নামাজ পড়া উচিত। কিন্তু তার বিরোধীরা বলছেন, সাদ যা বলছেন- তা তাবলীগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা নেতাদের নির্দেশিত পন্থার বিরোধী। তাদের বক্তব্য, সাদের কথাবার্তা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের বিশ্বাস ও আকিদার বাইরে।

তাবলিগের সংকট নিরসনে আগামী ২২ জানুয়ারির মধ্যে ধর্মপ্রতিমন্ত্রী শেখ আবদুল্লাহর নেতৃত্বে উচ্চতর একটি প্রতিনিধিদল ভারতের দেওবন্দ সফরের কথা রয়েছে। বাংলাদেশ থেকে প্রতিনিধিদল যাওয়ার প্রাক্কালে দেওবন্দ কর্তৃপক্ষ জানালো, তাবলিগের বিবদমান কোনো পক্ষের সঙ্গেই তারা নেই।

ইত্তেফাক/টিএস