ঢাকা সোমবার, ১০ ডিসেম্বর ২০১৮, ২৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৫
১৯ °সে

দ্রুত কমছে পৃথিবীর অক্সিজেন

দ্রুত কমছে পৃথিবীর অক্সিজেন
ছবি: ইন্টারনেট

পৃথিবী থেকে দ্রুত নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে অক্সিজেন। পৃথিবীর এই অক্সিজেন হারিয়ে যাচ্ছে মহাকাশে। এত দ্রুত অক্সিজেন নিঃশেষ হয়ে যাওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বিজ্ঞানীরা। অক্সিজেন হারিয়ে ওজনে হালকা হচ্ছে পৃথিবী। নাসার বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল উত্তরোত্তর হালকা হওয়ার পাশাপাশি বাতাসের অক্সিজেন প্রত্যাশার চেয়ে অনেক দ্রুত মহাকাশে হারিয়ে যাচ্ছে। আশঙ্কার আরও একটি কারণ, দ্রুত অক্সিজেন কমলেও কার্বন-ডাই-অক্সাইড সেই হারে কমছে না। কমছে না নাইট্রোজেন কিংবা মিথেনের মতো অন্যান্য গ্যাস। পৃথিবী থেকে প্রতিনিয়ত অক্সিজেন কমে যাওয়ার কারণ খুঁজতে নাসার বিজ্ঞানীরা নজর রাখছেন মেরু অঞ্চলের মেরুজ্যোতির ওপর।

নাসার গবেষণা দলের অন্যতম সদস্য, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাটমস্ফেরিক সায়েন্স বিভাগের সহকারী অধ্যাপক হিমাদ্রি সেনগুপ্ত বলেছেন, পৃথিবীর অক্সিজেন মহাকাশে হারিয়ে যাওয়ার পেছনে বড় ভূমিকা রয়েছে ‘অরোরা বোরিয়ালিস’ বা ‘মেরুজ্যোতি’র। মেরুজ্যোতির কারণে কীভাবে পৃথিবীর অক্সিজেন কমে যাচ্ছে সেটা বোঝার জন্য মেরিল্যান্ডের গ্রিনবেল্টে নাসার গার্ডার্ড স্পেস সেন্টারের একটি গবেষক দলও পৌঁছে গেছে নরওয়ের উত্তর উপকূলে। একই সঙ্গে নরওয়ের উত্তর উপকূল থেকে পাঠানো হয়েছে ‘ভিশন্?স-২’ সাউন্ডিং রকেট। অভিনব এই রকেটটিকে নির্দিষ্ট লক্ষ্যে পাঠানোর কয়েক মুহূর্ত পরেই ফিরিয়ে আনা যাবে পৃথিবীতে। মেরুজ্যোতির মধ্যে প্রবেশ করে খবর নিয়ে এই সাউন্ড রকেটটি ফিরে আসবে পৃথিবীতে। এইভাবে অক্সিজেন কমে যাওয়া নিয়ে বিজ্ঞানীদের উদ্বেগের মূল কারণ এইভাবে চলতে থাকলে পৃথিবীকেও হয়ত একদিন মঙ্গলের ভাগ্য বরণ করতে হবে। বিজ্ঞানীদের অনুমান, বহু কোটি বছর আগে এমন অবস্থা হয়েছিল আমাদের সবচেয়ে কাছের প্রতিবেশী ‘লাল গ্রহ’ মঙ্গলের।

পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল দিন দিন পাতলা হয়ে যাওয়ার ধারণাটি প্রথম দিয়েছিলেন স্যার জেমস জিনস। ১৯০৪ সালে ‘দ্য ডাইনামিক্যাল থিয়োরি অব গ্যাসেস’ তত্ত্বে তিনি বলেছিলেন, পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল একদিন আমাদের এই পৃথিবী থেকে মহাকাশে হারিয়ে যাবে। সেদিন পৃথিবীর আর কোনো বায়ুমণ্ডল থাকবে না। ফলে বেঁচে থাকার অন্যতম প্রধান উপকরণ অক্সিজেন আর পাবে না নীলাভ গ্রহের জীবজগত্। অবশ্য এই ঘটনা ঘটতে অন্তত একশ কোটি বছর সময় লাগবে।

স্যার জেমস জিনস পৃথিবীকে বায়ুমণ্ডলশূন্য হতে একশ কোটি বছরের কথা বললেও নাসার বিজ্ঞানীরা শুনিয়েছেন আতঙ্কের কথা। তাদের দাবি, অক্সিজেন হারিয়ে বায়ুমণ্ডলের পাতলা হওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত দ্রুত ঘটছে। নরওয়ের উত্তর উপকূলে নাসার ‘ভিশন্?স-২’ মিশনের প্রধান বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ডগ রাউল্যান্ড বলেছেন, প্রতিদিন পৃথিবীর কয়েকশ টন বায়ুমণ্ডল চলে যাচ্ছে মহাকাশে। এর ফলে দ্রুততার সঙ্গে ওজন হারাচ্ছে আমাদের গ্রহ। দ্রুত হালকা হয়ে যাচ্ছে পৃথিবী।

বায়মণ্ডল থেকে অক্সিজেন মহাকাশে হারিয়ে যাওয়ার ঘটনাটিকে তারা এভাবে ব্যাখ্যা করেছেন, সৌরবায়ু এসে পৃথিবীর দুই মেরুর চৌম্বক ক্ষেত্রে আছড়ে পড়লে কেঁপে ওঠে পৃথিবীর চৌম্বক ক্ষেত্র। সৌরবায়ুকণার শক্তিতে উত্তেজিত হয়ে মেরুর বায়ুমণ্ডলের পরমাণু আয়নে ভেঙে যায়। বেরিয়ে আসে খুব শক্তিশালী ইলেকট্রন কণা। তার ফলেই তৈরি হয় বিভিন্ন ধরনের অরোরা। পৃথিবীর আশপাশের বৈদ্যুতিক ও চৌম্বক ক্ষেত্রে পড়ে সেই ইলেকট্রন কণাগুলোর গতিবেগ আরও অনেকগুণ বেড়ে যায়। সেটাই ভেঙে দেয় বায়ুমণ্ডলকে আরও দ্রুত হারে। ওই ‘উন্মাদ’ ইলেকট্রন কণাদের ভয়ঙ্কর ছোটাছুটিতে যে প্রচণ্ড শক্তিশালী বৈদ্যুতিক ক্ষেত্রের সৃষ্টি হয়, তা বায়ুমণ্ডলের উপরের স্তরগুলোকে ভীষণ তাতিয়ে দেয়। তার মধ্যে ‘ছিদ্র’ তৈরি করে। অতিরিক্ত এই তাপ বায়ুমণ্ডলের অক্সিজেন পরমাণু ভেঙে আয়ন বানিয়ে তাকে পৃথিবীর মায়া কাটানোর প্রয়োজনীয় শক্তি জোগায়। -আনন্দবাজার

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
১০ ডিসেম্বর, ২০১৮
আর্কাইভ
 
বেটা
ভার্সন