বৃহস্পতিবার, ১৯ মে ২০২২, ৪ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ হ্রাসের আশায় শুরু কপ২৬ সম্মেলন

আপডেট : ০১ নভেম্বর ২০২১, ০০:৩৪

জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার ও বৈশ্বিক উষ্ণায়ন কমিয়ে আনা, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ হ্রাস আর ভুক্তভোগী দেশগুলোর জন্য জলবায়ু তহবিলের প্রতিশ্রুতি আদায়ের বড় প্রত্যাশা নিয়ে গতকাল রবিবার স্কটল্যান্ডের গ্লাসগোতে শুরু হয়েছে জাতিসংঘের ২৬তম জলবায়ু সম্মেলন। ১৯৭টি দেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সরকারের প্রতিনিধিরা স্কটলান্ডের গ্লাসগোতে জড়ো হয়েছেন প্রত্যাশা পূরণের চাপ নিয়ে। বিশ্ব নেতারা সেখানে একত্রিত হয়েছেন। তারা চেষ্টা করবেন জলবায়ু পরিবর্তনজনিত দুর্যোগ হ্রাস করতে। এবারের শীর্ষ সম্মেলনের সভাপতি, ব্রিটিশ মন্ত্রী অলোক শর্মা বলেছেন, এই শতাব্দীর শেষ নাগাদ বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধি হার এক দশমিক ৫ ডিগ্রিতে বা তার নীচে সীমাবদ্ধ রাখতে হলে এখনই পদক্ষেপ নিতে হবে। আর ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন বলেছেন, এবার গ্লাসগো ব্যর্থ হলে সবই ভেঙে পড়বে। খবর বিবিসি ও ডয়চেভেলের

অলোক শর্মা বলেন, ছয় বছর আগে প্যারিসে আমরা একটি যৌথ লক্ষ্য নির্ধারণ করেছিলাম, বৈশ্বিক উষ্ণতা দুই ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামিয়ে আনার চুক্তি হয়েছিল। সেখানে এক দশমিক পাঁচ ডিগ্রি সেলসিয়াসে নামিয়ে আনার চেষ্টার কথা বলা হয়েছিল। এজন্য কপ-২৬ হচ্ছে শেষ সুযোগ। তিনি হুঁশিয়ারি করে বলেন, এই পরিকল্পনা যদি সফল না হয় তাহলে উষ্ণ তাপমাত্রায় পুরো পৃথিবী যেমন বিপর্যয়ের মুখে পড়বে, তেমনি সমুদ্রসীমা বেড়ে অনেক দেশ পানির নিচে তলিয়ে যাবে।

স্বল্পোন্নত দেশ থেকে শুরু করে উন্নত, উত্তর গোলার্ধ্ব থেকে শুরু করে দক্ষিণ—জলবায়ু পরিবর্তন এখন আর কারো একার মাথাব্যথার বিষয় নয়। যে দেশগুলো এত দিন নিজেদের নির্ভার মনে করেছে, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বৃদ্ধির আঁচ তারাও টের পেতে শুরু করেছে। চলতি বছরই অস্বাভাবিক দাবানলে পুড়েছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও তুরস্ক। অভূতপূর্ব বন্যা দেখা দিয়েছে চীন ও জার্মানিতে। অন্যদিকে বাংলাদেশের মতো নিচু দেশগুলো দায়ী না হয়েও আগে থেকেই জলবায়ু পরিবর্তনের ভুক্তভোগী। তাই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বিশ্বের তাপমাত্রা যে প্রতিনিয়ত বেড়ে চলছে সে ব্যাপারে ব্যবস্থা নিতে বিশ্ব নেতাদের এবারের জলবায় সম্মেলনে নানান প্রশ্নের মুখে পড়তে হবে। ৩১ অক্টোবর থেকে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত এই সম্মেলন চলবে। সম্মেলনে দুইশর বেশি দেশের কাছে জানতে চাওয়া হবে, কীভাবে ২০৩০ সালের মধ্যে তারা কার্বন নিঃসরণের মাত্রা কমিয়ে আনতে চান। এই সম্মেলনে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলার নানা দিক নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস বলেছেন, এখন সঠিক পদক্ষেপ নিতে ব্যর্থ হলে ক্ষতির শিকার হবে ভবিষ্যত্ প্রজন্ম। এর আগে ইতালির রোমে জি-২০ শীর্ষ সম্মেলনে চূড়ান্ত আলোচনার আগে ইতালির প্রধানমন্ত্রী মারিও ড্রাঘি বলেছিলেন, বিশ্ব নেতাদের এখনই কাজ শুরু করতে হবে। না হলে পরে তাদের চরম মূল্য দিতে হবে। ব্রিটিশ সিংহাসনের উত্তরাধিকারী প্রিন্স চার্লস এই সম্মেলনকে ‘শেষ ও চূড়ান্ত সুযোগ’ হিসাবে বর্ণনা করেছেন। এই সুযোগ কাজে লাগাতে না পারলে ভয়াবহ বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন তিনি। স্কটল্যান্ডের গ্লাসগো শহরে দুই সপ্তাহের এই সম্মেলনে ২৫ হাজারের বেশি মানুষ অংশ নিয়েছেন। সম্মেলন থেকে প্রায় দুইশ’র বেশি দেশকে অনুরোধ করা হবে যেন তারা কার্বন নিঃসরণে আরও উচ্চাকাঙ্খী লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেন। এবারের সম্মেলনে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার বৃদ্ধি, কয়লা ভিত্তিক বিদ্যুত্ কেন্দ্র বাতিল করা, যতটা সম্ভব কম গাছ কাটা এবং জলবায় পরিবর্তনের প্রভাব থেকে যত বেশি সম্ভব মানুষকে রক্ষার বিষয়ে ঘোষণা আসতে পারে।

বিশ্বের সবচেয়ে কার্বন নিঃসরণকারী দেশ চীন এবং যুক্তরাষ্ট্র কার্বন ডাই অক্সাইড নির্গমন কমানোর লক্ষ্য পূরণের জন্য লড়াই করে যাচ্ছে। এই জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সবচেয়ে ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে দরিদ্র দেশগুলো। তাদের একটি জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সাহায্য করার জন্য দরিদ্র দেশগুলোকে গ্রিন টেকনোলজি বা পরিবেশ বান্ধব প্রযুক্তি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি করেছিল ধনী দেশগুলো। কিন্তু এ জন্য যে অর্থ প্রয়োজন ছিল, এই ধনী দেশগুলো তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

প্রতিবারের মতো এবারও তাদের ওপর চাপ প্রয়োগে হাজারো জলবায়ুকর্মী প্রতিবাদের জন্য জড়ো হয়েছেন গ্লাসগোতে। তাদের অভিযোগ, ধনী দেশগুলো মোটেও তাদের প্রতিশ্রুতি রক্ষা করছে না। আন্দোলনকর্মী গ্রেটা থুনব্যার্গ যেমনটা বলেছেন, তথাকথিত নেতারা এমন সব কথা বলছেন, যা ভালো শোনায়। কিন্তু তাদের কাজের বেলায় তার কোনো প্রতিফলন নেই। এবার আর প্রতিশ্রুতির ফুলঝুরি নয়, বরং বাস্তবায়ন দেখতে চান তারা। আমন্ত্রণ না পেলেও গ্লাসগোতে হাজির হয়েছেন গ্রেটা থুনবার্গ। বর্তমানে সবচেয়ে বেশি কার্বন নির্গমনকারী দেশ চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন না। থাকছেন না আরেক জি-২০ সদস্য রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট পুতিনও। এমন বাস্তবতায় এই সম্মেলনে অভিন্ন ও সুস্পষ্ট কোনো সিদ্ধান্ত আসবে কি না, সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

 

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

একজন অনন্য ফারহানা কাউনাইন

অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষকদের আন্দোলন স্থগিত

কানাডার আন্তর্জাতিক শিক্ষা সম্মেলনে অর্ণব চক্রবর্তী

আন্তর্জাতিক জাদুঘর দিবস বুধবার

এ সম্পর্কিত আরও পড়ুন

বঙ্গবন্ধু পরিষদ বাংলাদেশ ব্যাংক শাখার নতুন কমিটির ঘোষণা

কোন কোন দেশে টাকা রেখেছেন পি কে হালদার, জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট

পি কে হালদারকে দেশে আনতে রুলের শুনানি আজ

বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতিতে শেখ হাসিনার অবদান অপরিসীম