মুম্বাই উপ-হাইকমিশনে গণহত্যা দিবস স্মরণ

আপডেট : ২৫ মার্চ ২০১৭, ১৯:৪৪
ভারতের মুম্বাই-এ বাংলাদেশ উপ হাইকমিশনে যথাযোগ্য মযার্দায় স্মরণ করা হল জাতীয় গণহত্যা দিবস। দিবসটি স্মরণে শনিবার উপ হাইকমিশনে মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বাণী পাঠ এবং এক আলোচনা সভা ও প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়। 
 
স্বাধীনতার ৪৬তম বার্ষিকীর প্রাক্কালে দিবসটিতে পাকিস্তানী আর্মি কর্তৃক নির্বিচার ও নির্মম গণহত্যায় নিহত ও মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের শহীদদের আত্মার মাগফেরাত এবং বাংলাদেশের উন্নতি ও সমৃদ্ধি কামনা করে দোয়া ও প্রার্থনা করা হয়।
 
এরপর ’২৫ মার্চ ১৯৭১ এর গণহত্যা এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা’ শীর্ষক এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।  মুম্বাই-এ বসবাসরত বিশিষ্ট ব্রাজিলীয়-ভারতীয় আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞ এবং সি.এন.এন কলামিস্ট মোহীনি প্রধান বক্তা হিসেবে আলোচনা  সভায় উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভায় মুম্বাই-এ বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশীদের প্রতিনিধিবৃন্দ, আমন্ত্রিত স্থানীয় অতিথিবৃন্দ এবং উপ হাইকমিশনের কর্মকর্তা ও কর্মচারীবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।  
 
উপ হাইকমিশনার সামিনা নাজ তাঁর বক্তব্যে মহান ২৫ মার্চ-এর গণহত্যার শিকার শহীদদের আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে জানান যে, কাল রাত্রি ২৫ মার্চকে গণহত্যা দিবস হিসেবে জাতিসংঘের মাধ্যমে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি লাভের জন্য বাংলাদেশ পদক্ষেপ গ্রহন করছে। এ প্রসঙ্গে তিনি তাঁর বক্তব্যে ২৫ মার্চের গণহত্যায় হানাদার বাহিনীর নিশংসতার চিত্র তুলে ধরেন। তিনি ইতিহাসের বর্বরতম এ দিনটিতে নিরস্ত্র সাধারণ মানুষের উপর সশস্ত্র আক্রমণকে নিন্দা জানান। পরিশেষে এ দিনটি সম্পর্কে নতুন প্রজন্মকে সচেতন করার এবং শোক থেকে শক্তিতে পরিণত করার গুরুত্বের কথা তিনি জোর দিয়ে উল্লেখ করেন। 
 
প্রধান বক্তা উপ-হাইকমিশনার বক্তব্যকে জোরালো সমর্থন জানান এবং ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের গণহত্যাকে সর্বকালের ইতিহাসে বিরলতম নৃশংস গণহত্যা বলে অবহিত করেন। তিনি তাঁর বক্তব্যে আরো জানান যে, এত স্বল্পতম সময়ে এত অধিক মানুষের হত্যা বিশে^র ইতিহাসে সত্যিই বিরল এবং বিষয়টি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবিদার।
 
পরিশেষে গণহত্যার উপর একটি প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শন করা হয়।
 
ইত্তেফাক/সাব্বির