সভাপতিত্ব নিয়ে এমপি-চেয়ারম্যানের বিরোধ

গোবিন্দগঞ্জ মডেল বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ব্যাহত

আপডেট : ০২ মার্চ ২০১৩, ২১:১৭
গাইবান্ধা জেলার শতবর্ষের ঐতিহ্যবাহী গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকটের কারণে মুখ থুবড়ে পড়েছে শিক্ষা কার্যক্রম। পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রতিমাসে বিদ্যালয় ফান্ড থেকে প্রায় লাখ টাকা খরচ করে খণ্ডকালীন শিক্ষক নিয়োগ দিলেও বিভিন্ন কারণে শিক্ষা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। ১৯১২ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিদ্যালয়ের বর্তমানে শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় দেড় হাজার। এ সকল শিক্ষার্থীর পাঠদানের জন্য ২২ জন শিক্ষকের পদ থাকলেও শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ৬ জন। ৭/৮ বছরে ১৬ জন শিক্ষক অবসর গ্রহণ করলেও বিভিন্ন কারণে শিক্ষক আর নিয়োগ করা হয়নি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর সারা দেশের বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগ উন্মুক্ত করা হলেও গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতির পদ নিয়ে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যানের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। গত ২০১২ সালের ১৬ এপ্রিল বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং ২২ এপ্রিল নির্বাচিত ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের প্রথম সভায় গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদকে সর্বসম্মতিক্রমে বিদ্যালয় পরিচালনা পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত করা হলে স্থানীয় এমপি নাখোশ হন। তিনি সভাপতি হওয়ার জন্য ডিও প্রদান করে ব্যর্থ হন। এরপর ১২ জুলাই শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে গাইবান্ধার অতিরিক্ত জেলা প্রশাসককে (সার্বিক) সভাপতি করে একটি কমিটি গঠন করলে নির্বাচিত কমিটির সভাপতি অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ হাইকোর্টে একটি রিট পিটিশন করেন। আদালত রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের গঠিত কমিটির কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করেন। এদিকে এ জটিলতার কারণে বিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগসহ স্বাভাবিক কার্যক্রম সর্বোপরি ছাত্র-ছাত্রীদের পাঠদান মারাত্মকভাবে বিঘ্ন্নিত হওয়ায় অভিভাবক মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক অভিভাবক জানান, ভোট দিয়ে ম্যানেজিং কমিটির সদস্য করে কি লাভ হলো? তারা দ্রুত নির্বাচিত কমিটির হাতে ক্ষমতা দিয়ে বিদ্যালয়ের শিক্ষাসহ স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করার দাবি জানান। গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ আবুল কালাম আজাদ বলেন, শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিপত্র অনুযায়ী একজন সংসদ সদস্য উপজেলার ৪টির বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হতে পারেন না। কিন্তু গাইবান্ধা-৪ গোবিন্দগঞ্জ আসনের এমপি মনোয়ার হোসেন চৌধুরী সেই নিয়মের ব্যত্যয় ঘটিয়ে ৫টি প্রতিষ্ঠানের সভাপতি হয়েছেন। তারপরও ক্ষমতার অপপ্রয়োগ করে গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি হওয়ার জন্য তিনি নির্বাচিত কমিটির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছেন। পক্ষান্তরে আমি শুধু গোবিন্দগঞ্জ বহুমুখী মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি তাও অভিভাবকদের ভোটে নির্বাচিত সদস্যরা আমাকে সভাপতি নির্বাচিত করেছেন। এ ব্যাপারে গাইবান্ধা-৪ গোবিন্দগঞ্জ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য প্রকৌশলী আলহাজ্ব মনোয়ার হোসেন চৌধুরী বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান ২টির বেশি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সভাপতি হতে পারেন না। অথচ ২২ এপ্রিল বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির মিটিংয়ে সভাপতি হওয়ার দিনেও তিনি ৩টি প্রতিষ্ঠানের সভাপতি ছিলেন। যদিও তিনি শহরগছি মডেল বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে তার সভাপতি পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন এটাও বিধিসম্মত হয়নি। তাকে বোর্ডের কাছে পদত্যাগপত্র দাখিল করতে হতো। তাই যেহেতু তিনি রিট করেছেন তাই এর রায় হলে এই বিদ্যালয়ের কার্যক্রম স্বাভাবিক হবে।