রনির ব্যর্থতায় ফিলিস্তিনের কাছে হারলো বাংলাদেশ

আপডেট : ০২ মার্চ ২০১৩, ২১:৩৭
স্ট্রাইকার শাখাওয়াত হোসেন রনি সহজ সুযোগ পেয়েও গোল করতে না পারায় শেষ পর্যন্ত চ্যালেঞ্জ কাপ ফুটবলের ‘ডি’ গ্রুপের বাছাই পর্বে শক্তিশালী ফিলিস্তিনের কাছে ১-০ গোলে হারতে হলো বাংলাদেশকে। প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় খেলায় বাংলাদেশ আগামী সোমবার স্বাগতিক নেপালের মোকাবেলা করবে। নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুর দশরথ স্টেডিয়ামে গতকাল শনিবার খেলাটিতে হাজার হাজার স্বাগতিক সমর্থক বাংলাদেশকে অকৃপণভাবে সমর্থন দেয়। বাংলাদেশের ফুটবল লিগে যেসব নেপালী খেলে গেছেন তারাও ছিলেন মাঠে। ফিলিস্তিন ফুটবল দলের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স নেপালী দর্শকদের মুগ্ধ করেছে। মাঠে অবশ্য খেলার নিয়ন্ত্রণ নিতে বাংলাদেশের সময় লেগেছে ১২ মিনিট। এরপর আর সুযোগ পায়নি ফিলিস্তিন। পুরো ম্যাচে একটা সুযোগ কাজে লাগিয়ে ভাগ্যের সহায়তায় ম্যাচটা জিতে নেয় ফিলিস্তিন। অথচ গোল করে এগিয়ে যাওয়া সুযোগ ছিল বাংলাদেশের। কেননা ১৭ মিনিটে ফিলিস্তিনের ডিফেন্ডার খালেদ মাহাদি ব্যাক হেড করে দলের গোলকিপারকে বল দিলে রনি মাঝখান থেকে দৌড়ে বলটা আয়ত্তে নেন। এরপর রনি ফিলিস্তিনের গোলকিপার তৌফিককে একা পেয়েও বল গোলবারের উপর দিয়ে মারেন। বল থামিয়ে ভেবে চিন্তে পুশ করার মতো যথেষ্ট সময় ছিল রনির। তারওপর ফিলিস্তিনের গোলকিপার হলেন দীর্ঘকায়। গ্রাউন্ড শটেই গোল নিশ্চিত করা যেতো। কিন্তু রনি তাড়াহুড়া করে পোস্টের উপর দিয়ে বাইরে মারলেন, হিরো হওয়ার পরিবর্তে নিজেকে খুঁজে পেলেন ভিলেন হিসেবে। একটা বড় সুযোগ নষ্ট হলো। অপ্রত্যাশিত ভালো ম্যাচ খেলেও হারতে হয়েছে। ফিলিস্তিনের কোচও স্বীকার করেছেন তাদের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের ছেলেরা দারুণ ফুটবল উপহার দিয়েছে। নিরাশ হননি বাংলাদেশ ফুটবল দলের ডাচ কোচ লুডভিক ডি ক্রুইফ। যতটুকু আশা করেছিলেন, তার চেয়েও ভালো খেলেছে দল। রনি গোলটি পেলে পরিস্থিতি ভিন্নতর হতে পারতো। কিন্তু জয় তো দূরের কথা ৭৯ মিনিটে দুর্ভাগ্যক্রমে গোল হজম করে বাংলাদেশ। ফিলিস্তিনি স্ট্রাইকার আবু হাবিবের হেড গোললাইনে ড্রপ করে। এরপর বাংলাদেশের গোল মুখে ছোট বক্সে জটলা দেখা দিলে ডিফেন্ডার ওয়ালি ফয়সাল, কেষ্ট কুমার, আলমগীর রানা, নাসিরউদ্দিনরা বল ঠেকানোর জন্য ঝাঁপিয়ে পড়লে ভিড়ের মধ্যে ধাক্কাধাক্কিতে লুটিয়ে পড়েন গোলকিপার সোহেল। জটলায় সৃষ্ট সুযোগ থেকে ফিলিস্তিনি ডিফেন্ডার হাইতহাম তিবের গায়ে লেগে বল গোল লাইন পার হয়ে যায় ১-০। সর্বনাশ ঘটে বাংলাদেশের। ফিলিস্তিনের ফুটবলাররা শারীরিক শক্তিতে অনেক এগিয়ে। দশরথের খারাপ মাঠে ফিলিস্তিনিরা খেলেছে শরীরিক শক্তির উপর ভর করে। কালকের ম্যাচ থেকে প্রশ্ন দেখা দেয় কিভাবে ভারতকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে দলটি। যদিও ফিলিস্তিনের কোচ জামাল মাহমুদ দাবি করেছেন এটা তার পুরো শক্তির দল না। এদিকে গোলের সুযোগ নষ্ট করে স্ট্রাইকার রনি ছিলেন হতাশ। মনসংযোগের অভাব ছিল পুরো ম্যাচে। বল পাওয়ার জন্য তার কোনো চেষ্টা ছিল না। বিরতির সময় ডাচ কোচ এবং খেলোয়াড়রা রনিকে সান্ত্বনা দিয়েছেন মনসংযোগ ফেরানোর জন্য। কিন্তু তাতে খুব বেশি লাভ হয়নি। বাংলাদেশ যেন দশ জন নিয়ে খেলেছে। এক পর্যায়ে প্রাণতোষ কুচকিতে টান লাগায় ২২ মিনিটে স্ট্রেচারে করে ড্রেসিং রুমে চলে যান। বাংলাদেশকে চূড়ান্ত পর্বে যেতে হলে আগামীকাল নেপালের বিরুদ্ধে জিতবে হবে, নর্দান মারিয়ানাকে হারাতে হবে বড় ব্যবধানে। দিনের অপর খেলায় নেপাল নিজ মাঠে ৬-০ গোলে পরাজিত করে নর্দার্ন মারিয়ানাকে।