দেশের বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠনের প্রতিনিধি এবং বিশিষ্ট নাগরিকবৃন্দ দেশে বিদ্যমান সহিংস পরিস্থিতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে গতকাল শনিবার একটি বিবৃতি দিয়েছেন। যৌথভাবে স্বাক্ষরিত এই বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘আমরা গভীরতম উদ্বেগ ও উত্কণ্ঠা নিয়ে লক্ষ্য করছি যে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক গত বৃহস্পতিবার যুদ্ধাপরাধী জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ফাঁসির রায় ঘোষণার পর থেকে এই রায় প্রত্যাখ্যান করার নামে একটি মহল অতি পরিকল্পিত উপায়ে দেশকে নৈরাজ্য ও সংঘাতের দিকে ঠেলে দিতে সহিংস পথ বেছে নিয়েছে। এর পরিণতিতে ইতিমধ্যে প্রায় অর্ধশতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন এবং শত শত মানুষ আহত বা সংকটজনক অবস্থায় চিকিত্সাধীন আছেন। নিহত এবং আহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন আইন- শৃংখলা রক্ষার দায়িত্বে নিয়োজিত পুলিশ বাহিনীর সদস্য এবং নারী, শিশুসহ নিরীহ সাধারণ নাগরিক রয়েছেন।’
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ করতে চাই যে, ১৯৭১ সালে যারা মুক্তিযুদ্ধের সশস্ত্র বিরোধিতা করেছিল এবং পাক-হানাদার বাহিনীর সাথে সর্বাত্মক সহযোগিতায় নারী, পুরুষ, শিশু নির্বিশেষে দেশের মানুষ, বুদ্ধিজীবী, লেখক, শিক্ষক, সাংবাদিক, ডাক্তার ও অন্যান্য পেশাজীবীদের হত্যা করেছিল তাদের সেই জঘন্য যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবিটি দলমত, জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে গণমানুষের দাবি হিসেবে গত ৪২ বছর ধরে নানাভাবে ধ্বনিত ও উচ্চারিত হয়ে এসেছে। তারই পরিপ্রেক্ষিতে দেশে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছে। অতএব, এই যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় নিয়ে সন্ত্রাস বা নৈরাজ্য সৃষ্টি করে চরম অরাজক ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতির দিকে যারা দেশকে ঠেলে দিতে চাচ্ছে তারা আসলে নতুনভাবে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধেরই বিরোধিতায় নেমেছে।’
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘আমরা সংশ্লিষ্ট সকলকে সহিংস ও সশস্ত্র আক্রমণের পথ পরিহার করে প্রতিবাদ করার বিষয় থাকলে শান্তিপূর্ণ পথে তা জানাবার আহবান জানাচ্ছি। সরকার ও প্রধান বিরোধী দলসহ সকল রাজনৈতিক দল যাতে তাদের কথা ও আচরণে যথেষ্ট সংযম ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেন, সেটাই আশা করি।’
বিবৃতিতে যারা স্বাক্ষর করেছেন তারা হচ্ছেন : বিশিষ্ট সাংবাদিক কামাল লোহানী, মানবাধিকার নেত্রী এডভোকেট সুলতানা কামাল, শিক্ষাবিদ ড. মুহাম্মদ জাফর ইকবাল, শিক্ষাবিদ ড. ইয়াসমিন হক, মানবাধিকার নেত্রী খুশী কবির, সাধারণ সম্পাদক, অর্পিত সম্পত্তি আইন প্রতিরোধ আন্দোলন এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য, হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কাজল দেবনাথ, সাধারণ সম্পাদক, বাংলাদেশ আদিবাসী ফোরাম সঞ্জীব দ্রং, মানবাধিকার কর্মী শামসুল হুদা, সাধারণ সম্পাদক সম্মিলিত সামাজিক আন্দোলন এডভোকেট তোবারক হোসেইন, বাংলাদেশ অর্থনীতি সমিতির সভাপতি ড. আবুল বারকাত, নির্বাহী পরিচালক রিব ড. মেঘনা গুহঠাকুরতা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিম, নির্বাহী পরিচালক টিআইবি ড. ইফতেখারুজ্জামান, সমন্বয়কারী আরবান মোহাম্মদ কামাল উদ্দিন, আয়কর বিশেষজ্ঞ সুপ্রিয় চক্রবর্তী ও সাইদা কামাল।
