সফর পেছানোর অর্থ হবে মৌলবাদীদের জিতিয়ে দেয়া

আপডেট : ০২ মার্চ ২০১৩, ২২:৫৯
মৌলবাদীরা যতই তাণ্ডব চালাক, ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জী বাংলাদেশ সফরে অনড় রয়েছেন বলে রিপোর্ট করেছে আনন্দবাজার পত্রিকা। কলকাতা থেকে প্রকাশিত পত্রিকাটির প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘রাষ্ট্রপতি হিসেবে এটি তাঁর প্রথম বিদেশ সফর। বলতে গেলে তিনি নিজেই তাঁর প্রথম সফরের জন্য বাংলাদেশকে বেছে নিয়েছেন। কিন্তু তার আগেই জামায়াতে ইসলামির অন্যতম শীর্ষ নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ঢাকার আন্তর্জাতিক আদালত একাত্তরের খুন-ধর্ষণের জন্য প্রাণদণ্ড দেয়ায় বাংলাদেশ জুড়ে হাঙ্গামা শুরু করেছে মৌলবাদীরা। বৃহস্পতিবার কয়েক ঘণ্টার হিংসায় প্রায় ৪৭ জনের প্রাণ গিয়েছে।’ রবিবার প্রণব মুখার্জীর ঢাকা সফরের দিন থেকেই পরপর দু’দিন হরতাল ডেকেছে জামায়াতে ইসলামী। সফরের শেষ দিন মঙ্গলবারের হরতালটি ডেকেছে বিএনপি। এই পরিস্থিতিতে তাঁর সফর কি স্থগিত থাকছে? এমন প্রশ্ন তুলে পত্রিকাটির প্রতিবেদনে রাষ্ট্রপতি ভবনের মুখপাত্র বেণু রাজামনিকে উদ্বৃতি দিয়ে বলা হয়, ‘রাষ্ট্রপতি ঢাকার পরিস্থিতি জানেন। নিয়মিত খোঁজখবর নিচ্ছেন। তার পরেও তিনি বাংলাদেশে যেতে উদগ্রীব। রাষ্ট্রপতি ভবন সূত্র উল্লেখ করে আনন্দবাজার পত্রিকা লিখেছে, প্রণব বাবু মনে করেন, হাঙ্গামার ভয়ে পূর্ব নির্ধারিত সফর পিছিয়ে দেয়ার অর্থ হবে মৌলবাদীদেরই জিতিয়ে দেয়া। বাংলাদেশের মানুষ এখন রাস্তায় নেমে একের পর এক মৌলবাদী হরতাল বানচাল করে দিচ্ছেন। এই পরিস্থিতিতে শুধু সফরে যাওয়াই নয়, সেই সফর কোনও রকম কাটছাঁট করতেও রাজি নন প্রণব বাবু। বিদেশ সচিব রঞ্জন মাথাই আনন্দবাজারকে বলেন, “আমরা বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে নিয়মিত সম্পর্ক রেখে চলেছি। ঢাকা আজ শান্ত। রাষ্ট্রপতির সফরও হচ্ছে।” এক প্রশ্নের জবাবে বিদেশ সচিব মাথাই আনন্দবাজারকে জানিয়েছেন, রাজনৈতিক তত্পরতার জন্য প্রণব বাবু ঢাকায় যাচ্ছেন না। তিনি রাষ্ট্রপতি। তাঁর এই সফর পুরোটাই সৌহার্দ্যমূলক।’ রাষ্ট্রপতি ভবনের মুখপাত্র রাজামনিও বলেন, “একাত্তরে রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশ জন্ম নেয়ারও আগে থেকে প্রণব বাবুর সঙ্গে এই দেশের নেতাদের ঘনিষ্ঠতা। যত দিন সক্রিয় রাজনীতিতে ছিলেন, বাংলাদেশের বিষয়ে বিশেষ আগ্রহী ছিলেন তিনি। এখনও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা থেকে বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়া, বা জাতীয় পার্টির নেতা হুসেইন মহম্মদ এরশাদ, বাংলাদেশের সব মহলের সঙ্গে হূদ্যতা রেখে চলেন রাষ্ট্রপতি। তাঁর এই সফরে সামগ্রিক ভাবে দু’দেশের সম্পর্ক মজবুত হবে।” আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে আরো বলা হয়, নিরাপত্তার বিষয়ে ঢাকা তাদের প্রতিশ্রুতি পালন করে গিয়েছে। সে দেশ থেকে ভারতীয় জঙ্গিদের সব ঘাঁটি উত্খাত হয়েছে। ঢাকার নীরব তত্পরতার জেরেই উলফা ও উত্তর-পূর্বের বিভিন্ন জঙ্গি নেতা একে একে সীমান্ত টপকে বিএসএফের জালে এসে পড়েছে। এই পরিস্থিতিতে থিতিয়ে পড়া সম্পর্কে ফের উষ্ণতার ছোঁয়া আনতে প্রণব বাবু ছাড়া আর কাকেই বা দায়িত্ব দেয়া যেতে পারে? দিল্লি সেই কাজটাই করেছে বলে পত্রিকাটির খবরে প্রকাশ পেয়েছে। আনন্দবাজার পত্রিকার খবরে বলা হয়, এই মুহূর্তে মৌলবাদীদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে নিজেরাই এক বিরাট পরীক্ষার মুখে পড়ে গিয়েছে বাংলাদেশ সরকার। পাল্টা কামড় দিয়ে শক্তি প্রদর্শনে নেমেছে মৌলবাদীরা। বিরোধী নেত্রী খালেদা জিয়া হিংসার জন্য সরকারকেই দায়ী করে কার্যত জামায়াতের পাশে এসে দাঁড়িয়েছেন। ভারত অবশ্য বাংলাদেশের এই অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করছে না। বিদেশমন্ত্রী খুরশিদ বলেন, “আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ আদালত ও তার রায়ের বিষয়ে ভারতের কিছু বলার থাকতে পারে না। কিন্তু যে কোনও হিংসা ও প্রাণহানির ঘটনা দুঃখজনক। আশা করব, বাংলাদেশ সরকার দক্ষতার সঙ্গেই এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সক্ষম হবে।” সফরে সঙ্গী মুকুল, আশায় দিল্লি আনন্দবাজার পত্রিকার আরেক খবরে বলা হয়, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সেপ্টেম্বরে ভারতে আসার আগে ঢাকাকে সদর্থক বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর ঢাকা সফরে সঙ্গী হিসেবে মুকুল রায়কে পাঠাচ্ছেন তিনি। যা খুবই তাত্পর্যপূর্ণ বলে মনে করছে কেন্দ্র। বিদেশ মন্ত্রকের বাংলাদেশ বিষয়ক যুগ্ম সচিব হর্ষবর্ধন সিংলা বলেছেন, “পশ্চিমবঙ্গের তৃণমূল সাংসদ রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বাংলাদেশ যাচ্ছেন, এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর ফলে প্রতিবেশী দেশে ভাল সঙ্কেত যাবে।” রাষ্ট্রপতির সঙ্গে যে সাংসদ দলটি বাংলাদেশে যাচ্ছে, তাতে মুকুল ছাড়াও রয়েছেন সিপিএমের সীতারাম, বিজেপি-র চন্দন মিত্র, রেল প্রতিমন্ত্রী অধীর চৌধুরী এবং আসামের কংগ্রেস নেতা ভুবনেশ্বর কলিতা। প্রতিনিধি দলে ভারসাম্য তৈরির চেষ্টা করা হয়েছে ঠিকই, তবে মুকুলের অন্তর্ভুক্তিই সবচেয়ে তাত্পর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কারণ, তিস্তা চুক্তি ও স্থলসীমান্ত চুক্তি এই দুই চুক্তিতেই পশ্চিমবঙ্গের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে আনন্দবাজার পত্রিকা।