কিংবদন্তি ফুটবলার পেলে মনে করেন ব্রাজিল আসন্ন বিশ্বকাপটিকে স্মরণীয় করে রাখতে পারবে। শুধু তাই নয় তিনি একই সঙ্গে কোচ লুইস ফেলিপ স্কলারীর প্রশিক্ষণাধীন ব্রাজিলের জাতীয় ফুটবল দল স্বাগতিক দেশ হিসেবে সব ধরনের চাপকে মোকাবেলা করতে পারবেন বলেও দৃঢ়বিশ্বাস ব্যক্ত করেন।
যদিও বিশ্বকাপের ম্যাচ আয়োজনের জন্য নির্ধারিত ১২টি ভেন্যুর কয়েকটির নির্মাণ কাজ সময়মতো শেষ করতে ব্যর্থ হওয়ায় ব্রাজিলের বিশ্বকাপ আয়োজক কমিটি সমালোচিত হয়েছে। সেই সঙ্গে যুক্ত হয়েছে রাজপথে আন্দোলনকারীদের সহিংসতা। ওই ঘটনা নিয়ে গত বছর ব্রাজিলে কনফেডারেশন কাপ চলাকালে সৃষ্টি হয়েছিল উত্তেজনা। তবে পেলের মতে সময়মত সবকিছুই নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে। পেলে বলেন, ‘এটি একটি দারুণ সুযোগ। এটি ব্রাজিলের জন্য অসাধারণ একটি ব্যাপার। আমি মনে করি কনফেডারেশন কাপের অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে ব্রাজিলীয় সরকার আরো সুপরিকল্পিতভাবে বিশ্বকাপ আয়োজনে সক্ষম হবে। তাই দারুণ একটি বিশ্বকাপ আয়োজন হতে যাচ্ছে বলে আমি আশাবাদী। আমরা সেটি করার সামর্থ্য রাখি।’
‘কালো মানিক’ খ্যাত এই কিংবদন্তী ফুটবলার বলেন, ‘ব্রাজিলের একজন নাগরিক হিসেবে আমি ওই ঘটনাগুলোর জন্য দু:খ প্রকাশ করছি। কারণ একটি দেশ নিজেদের মেলে ধরার জন্য এরকম দুই থেকে তিনটি সুযোগ পায়। এগুলো হচ্ছে- কনফেডারেশন কাপ, বিশ্বকাপ এবং অলিম্পিক গেমস (২০১৬ সালে আয়োজন করবে রিও ডি জেনিরো)। আমি মনে করি দেশকে বিশ্ব দরবারে তুলে ধরার জন্য এগুলো সেরা সুযোগ। যার মাধ্যমে অর্থ আয় করা যায় এবং পর্যটন শিল্পের সমপ্রসারণ ঘটানো যায়। পাশাপাশি এটিও ঠিক যে ওই সব আন্দোলন সবকিছু ধ্বংস করে দিয়ে যায়নি। তাই আমরা কঠিন পরিশ্রম করছি।’ তবে ১৯৫৮, ১৯৬২ এবং ১৯৭০ সালে তিনবার ব্রাজিলকে বিশ্বকাপ জেতানো এই ফুটবলারের কাছে বেশি স্মরণীয় হয়ে আছে ১৯৬৬ সালে ইংল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপটির কথা। সেবার গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছিল ব্রাজিলকে।
নেইমার এবং স্বাগতিক দলকে ঘিরে প্রত্যাশার চাপ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘তাকে (নেইমার) নিয়ে অন্তত এই কথাটি বলা যায় যে সে ব্রাজিলের স্মরণকালের সেরা ব্যর্থতার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়নি। যেটি ঘটেছিল ১৯৫০ সালে উরুগুয়ের বিপক্ষে শিরোপা নির্ধারণ ম্যাচে।’ সর্বশেষ বিশ্বকাপ আয়োজক ব্রাজিল সে সময় পরাজিত হয়েছিল প্রতিবেশী দেশটির কাছে। পেলের শিশুকালের ফুটবল নায়ক জিজিনহো ছিলেন ওই দলের সদস্য। ২-১ গোলে পরাজিত হওয়া ম্যাচটিতে পরাজয়ের নায়ক হিসেবে গোটা জাতি চিহ্নিত করেছিল তাকেই।
স্কলারির দলকে এবারও স্বাগতিক হিসেবে বিশাল চাপ নিতে হবে। অন্যদের তুলনায় ২২ বছর বয়সি বার্সেলোনার তরুণ তারকা নেইমারকে ঘিরেই যে গোটা জাতির বেশি প্রত্যাশা। ১৯৫৮ সালে সুইজারল্যান্ডে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপ জয়ী ব্রাজিল দলের হয়ে পেলে যখন অংশ নিয়েছিলেন, সে সময় তার বয়স ছিল মাত্র ১৭ বছর। এ বয়সে ব্যর্থ হবার সম্ভাবনা প্রবল। তিনি বলেন, ‘নেইমারের জন্য এটাই প্রথম বিশ্বকাপ। কেউ জানে না আসলে সেখানে কি ঘটতে যাচ্ছে। এটি তার জন্য বিশাল একটি দায়িত্ব। তবে নেইমারের জন্য সেরা বিষয় হচ্ছে স্পেনে এসে খেলাটা। তার ইউরোপে খেলাটা ব্রাজিলের জন্যও ভাল। কারণ এর ফলে বিশাল অভিজ্ঞতা নিয়ে তিনি ব্রাজিলে ফিরছেন। এটি তার জন্যও দারুণ ব্যাপার।’
পেলে বলেন, ‘চাপে থাকার বিষয়টি নেইমারের একার বিষয় নয়। এটি গোটা দলটির জন্যই সমস্যার বিষয়। এটি অস্বীকার করার উপায় নেই যে গোটা দেশ, জাতি এবং জনগণ জয় চায়। ব্রাজিলের হয়ে আমরা খারাপ অভিজ্ঞতাটি লাভ করেছিলাম ১৯৫০ সালে। যখন আমরা বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে উরুগুয়ের কাছে হেরে যাই। বর্তমানে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তির আশংকায় সবাই ভীত। তবে আমি মনে করি এখনকার প্রেক্ষাপট ভিন্ন।’ ফ্রান্সের বিপক্ষে ১৯৫৮ সালের বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে হ্যাটট্রিকের সুবাদে ‘ও রেই’ (দি কিং) খেতাব পাওয়া পেলে বিশ্বকাপের এবারের আসরেও সেলেচাওদের ফেভারিট মনে করছেন। তবে টুর্নামেন্টে ডার্ক হর্স হিসেবে তিনি চিহ্নিত করেছেন চিলিকে।
তিনি বলেন, ‘আর মাত্র তিন মাস পর শুরু হচ্ছে বিশ্বকাপ ফুটবল। এই মুহূর্তে দুই তিনটি দলকে খুবই শক্তিশালী মনে হচ্ছে। আমার মতে ওই তালিকায় প্রথমেই রাখা যায় জার্মানিকে। তাদের অনেকগুলো খেলা দেখেই আমি এই বিবেচনা করছি। রয়েছে স্পেনও। কারণ দীর্ঘ আট বছর ধরেই একই দলটি খেলছে। সেই সঙ্গে ব্রাজিলকে তো রাখতেই হবে।
তবে ইতালী এবং ল্যাটিন আমেরিকার দল চিলিকেও সেরা দলের বাইরে রাখার কোন সুযোগ নেই। আর বিশ্বকাপ মানেই হচ্ছে অঘটন ঘটার টুর্নামেন্ট। যেখানে যে কোন কিছুই ঘটতে পারে।’ উল্লেখ্য আসন্ন বিশ্বকাপে এ গ্রুপে পড়েছে ব্রাজিল। এতে তাদের প্রতিপক্ষ ক্রোয়েশিয়া, মেক্সিকো ও ক্যামেরুন। তবে শেষ ষোলর টিকিট পেলে ‘বি’ গ্রুপের দল চিলির মুখোমুখি হতে পারে সেলেচাওরা। বাসস/এএফপি
