জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) হল উদ্ধার ও নতুন হল নির্মাণের দাবিতে ক্যাম্পাসের ফটক বন্ধ করে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে আট দফা দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন শিক্ষকরা।
মঙ্গলবার হলের দাবিতে সকাল সাড়ে ১০টায় ক্যাম্পাসের সব ফটক বন্ধ করে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন শিক্ষার্থীরা। এক ঘন্টার বেশি সময় ক্যাম্পাস থেকে কোন শিক্ষার্থী বের হতে পারেননি। প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীর একটি মিছিল পুরো ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে। এসময় হলের দাবিতে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন শ্লোগান দেয়। সমাজকর্ম বিভাগ পৃথক ব্যানারে একটি মিছিল নিয়ে মূল আন্দোলনে যোগ দেয়। এছাড়া কলা ভবন ও বিজ্ঞান ভবন থেকে কয়েকশ’ শিক্ষার্থীর আলাদা দুটি মিছিল মূল আন্দোলনে যোগ দেয়। মিছিল শেষে দুপুর ১২টায় স্বাধীনতা চত্বরের সামনে সমাবেশ করেন শিক্ষার্থীরা।
বেলা ১২টায় ভাষা শহীদ রফিক ভবনের নিচে আট দফা দাবি আদায়ে শিক্ষক সমিতির ব্যানারে অবস্থান কর্মসূচি ও সমাবেশ করেন শিক্ষকরা। শিক্ষকরা বলেন, এবার আমরা মাঠে নেমেছি, অনেক ত্যাগের পরিচয় দিয়েছি। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথ ছাড়বো না।
অন্যদিকে মঙ্গলবার উপাচার্যের সভা কক্ষে উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন কমিটির আহ্বায়ক ঢাকা-৬ আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. কাজী ফিরোজ রশীদের সভাপতিত্বে প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে বেদখলকৃত হল বা হলের জায়গা সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ঢাকা জেলা প্রশাসক শেখ ইউসুফ হারুন। জায়গা সংক্রান্ত আইনগত জটিলতা নিরসনে এটর্নি জেনারেলের সঙ্গে বৈঠকের সিদ্ধান্ত নেন কমিটির সদস্যরা।
বৈঠক শেষে কাজী ফিরোজ রশীদ সাংবাদিকদের বলেন, সবেমাত্র প্রথম বৈঠক অনুষ্ঠিত হলো। একদিনে সবকিছু করা সম্ভব না। এই কমিটি হল উদ্ধারে ফলপ্রসূ কিছু করতে পারবে কিনা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ফল পাওয়া যাবে কিনা ভবিষ্যত্ই তা বলে দিবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি অধ্যাপক ড. মীজানুর রহমান বলেন, আমি আশা করছি এই কমিটি সফল হবে। কমিটিকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবে বলে জানান তিনি।
শিক্ষকদের কর্মসূচির দুইদিন
স্থগিত, শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ আজ
বুধবার ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করবেন শিক্ষার্থীরা। তবে বুধ ও বৃহস্পতিবার কর্মসূচি স্থগিত ঘোষণা করেছেন জবি শিক্ষকরা। শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. সরকার আলী আক্কাস বলেন, ১৬ মার্চ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার মহাসমাবেশের প্রস্তুতি নিচ্ছেন শিক্ষকরা।
