মায়ের লাশ নিয়ে বাড়ি ফিরলো ছোট্ট জেরিন

আপডেট : ১১ মার্চ ২০১৪, ২৩:০১
চার দিন আগে নানীর কোলে চড়ে সুদূর কক্সবাজারের মহেশখালী থেকে চট্টগ্রাম আসে জেরিন। তার মা ইয়াসমিন সুলতানা চট্টগ্রামের কালুরঘাট এলাকার একটি টেক্সটাইল মিলে চাকরি করেন। মা’র বাসায় কিছুদিন থেকে, শিশু পার্কে ঘুরে, মজা করে আইসক্রীম আর ফুচকা খেয়ে অনেক আনন্দ করার কথা ছিল জেরিনের। এভাবে মায়ের আদর ভালোবাসায় ১০-১৫ দিন কাটিয়ে আবার তার কক্সবাজার ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু জেরিন গতকালই ফিরে গেছে। সাথে নিয়ে গেছে প্রিয় মাকেও। তবে জীবিত মাকে নয়, হিমশীতল অ্যাম্বুলেন্সে মৃত মাকে নিয়ে চিরচেনা নানীর বাড়িতে ফিরে গেছে চার বছরের অবোধ এই শিশুটি। গতকাল মঙ্গলবার সকালে নগরীর চান্দগাঁও থানাধীন বাহির সিগন্যাল এলাকায় অরক্ষিত একটি রেলক্রসিংয়ে ট্রেন ও মিনিবাসের সংঘর্ষ হয়। এতে মিনিবাসের চার যাত্রী নির্মমভাবে নিহত হন। নিহতদের মধ্যে জেরিনের মা ইয়াসমিনও ছিলেন। মায়ের লাশের জন্য গতকাল প্রায় সারাদিন চমেক হাসপাতালের মর্গের সামনে অপেক্ষার প্রহর গুনেছে জেরিন। এসময় তার সাথে নানা নানী, খালাসহ পরিবারের অন্য সদস্যরাও ছিলেন। মর্গের ভেতরে যখন মায়ের শরীর কাটা ছেড়া করে ময়না তদন্তের কাজ চলছিল তখন বাইরে নানীর কোলে নির্বাক হয়ে বসেছিল মহেশখালির মাতারবাড়ি ইউনিয়নের দক্ষিণ ছ্যাড়ার ঢিল গ্রামের কফিল উদ্দিন ও ইয়াসমিন সুলতানার একমাত্র সন্তান জেরিন সুলতানা। জেরিনের নানী আনোয়ারা বেগম ইত্তেফাককে জানান, ৮ বছর আগে কফিলের সাথে ইয়াসমিনের বিয়ে হয়। এরপর কফিল ভাগ্য পরিবর্তনের আশায় মধ্যপ্রাচ্য যায়। চার বছর আগে বিদেশ থেকে ফেরার পর কফিল ইয়াসমিনকে না জানিয়ে দ্বিতীয় বিয়ে করে। এ ঘটনায় কফিলের সাথে ছাড়াছাড়ি হয়ে গেলে বছর দেড়েক আগে ইয়াসমিন চট্টগ্রাম শহরে এসে গার্মেন্টসে কাজ নেয়। আদরের মেয়ে জেরিনকে রেখে আসে নানা-নানীর কাছে। তারপর মাকে দেখার জন্য কয়েকবার নানা-নানীর সাথে চট্টগ্রাম এসেছে জেরিন। বঙ্গোপসাগরের উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে ট্রলারে করে প্রথমে কক্সবাজার। তারপর বাসে চেপে আরো দেড়শ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে চট্টগ্রাম শহর। চট্টগ্রাম মানেই মায়ের শহর। এই শহরে অনেক আদর, অনেক আনন্দ। তবে কষ্ট করে ছোট্ট জেরিনকে আর হয়তো কখনো চট্টগ্রাম আসতে হবে না। জেরিন মাকে বাড়িতে নিয়ে গেছে। নানীর বাড়িতে মায়ের কবর হবে।