অবিশ্বাস্য হলেও সত্যি। দমকল এবং সিভিল ডিফেন্সের মতো প্রশিক্ষিত বাহিনীকে হারিয়ে জয় হল সেই এক কুয়ো শ্রমিকের! এক শ্রমিককে কুয়ো থেকে তুলতে যখন সবাই ব্যর্থ তখন আরেক শ্রমিকই তাকে উপরে তুলে আনলেন।
ভারতের পশ্চিমবঙ্গে এই ঘটনা ঘটেছে। সোমবার চার ঘণ্টা মাটির নীচে থাকার পরে দড়ি ধরে উপরে এলেন ৫৯ বছরের নিতাইচন্দ্র পাল। তার কিছুক্ষণের মধ্যেই তোলা হল ৪০ ফুট নীচে আটকে থাকা কুয়ো শ্রমিক অমর পালের দেহ। ৩০ ঘণ্টা লড়াইয়ের পরে অবশেষে যে কাজে সক্ষম হল প্রশাসন। তবে তা সম্ভব হল স্রেফ রাজারহাট গঙ্গানগরের বাসিন্দা নিতাইবাবুর মতো ৩৫ বছর ধরে কাজ করা কিছু কুয়ো শ্রমিকের কৃতিত্বেই। রবিবার দমকলসহ বিভিন্ন প্রশিক্ষিত বাহিনী কাজ শুরু করেছিল অবশ্য। তবে যত রাত গড়ায়, তাঁরাও কার্যত হাল ছেড়ে দিতে বাধ্য হন। রবিবার বিকেল ৩টা থেকে কুয়োয় আটকে থাকা অমরবাবুকে উদ্ধারের কাজ শুরু করেন কুয়ো শ্রমিকেরা। কাজটা ততোটা সহজ ছিল না। সতীর্থের দেহ তুলে আনার পরে নিতাইবাবু বলেন, গা গোলাচ্ছিল, বমি আসছিল। তবুও মাটি কাটার কাজ করে গিয়েছি। বিকেল থেকে প্রায় ৪০ ফুট নীচে ৪ ঘণ্টা ধরে মাটি কেটে গিয়েছেন নিতাইবাবু। তিনি জানান, নীচে অমরের একটি পা বালতি, দড়ি, কোদালের সঙ্গে আটকে ছিল, পুরো দেহটাই গেঁথে গিয়েছিল মাটিতে। মাটির নীচে এতটাই দুর্গন্ধ যে দুর্গন্ধ থেকে সুস্থ রাখতে উপর থেকে লেবুপাতার জল পাঠানো হয় কুয়োর মধ্যে। সেই জল দিয়ে অমরবাবুর দেহ ভেজানো হচ্ছিল। রাত সাড়ে ৮টা নাগাদ অবশেষে দেহটি তুলে আনতে সক্ষম হন নিতাইবাবু। এই প্রথম কুয়োর প্রায় ৪০ ফুট নীচ থেকে কাউকে তুলে আনলেন তিনি। তাঁর আর্জি, রাজ্য সরকার তাঁর মতো অভিজ্ঞ কুয়ো শ্রমিকদের চাকরির ব্যবস্থা করলে তাঁদের কিছুটা সুরাহা হয়।
