শুক্রবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৫ আশ্বিন ১৪২৯
দৈনিক ইত্তেফাক

মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনে স্থানীয় নেতৃত্বের সহযোগিতা প্রয়োজন : আনোয়ার হোসেন মঞ্জু

আপডেট : ০৫ জুলাই ২০২২, ০২:৪৮

জাতীয় পার্টি-জেপির চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি বলেছেন, মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করতে হলে স্থানীয় নেতৃবৃন্দের সহযোগিতা খুবই প্রয়োজন। তিনি বলেন, সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে সেতুবন্ধ সৃষ্টি করা গেলে সকল ধরনের উন্নয়নকাজ যেমন কাঙ্ক্ষিত পর্যায়ে করা যায়, আবার তার সুফলও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়। আমাদের স্বাধীনতার সুফল নিশ্চিত করতে সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ঐক্যবদ্ধতা।

গতকাল সোমবার বিকালে পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলার চিড়াপাড়ায় এক মতবিনিময় সভায় তিনি আরো বলেন, ১৯৮৫ সালে যখন পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির যাত্রা শুরু হয়েছিল তখন আমি বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ মন্ত্রীর দায়িত্বে নিয়োজিত ছিলাম। এটি আল্লাহর নেয়ামত। ১৯৮৮ সালে দক্ষিণাঞ্চলের পিরোজপুর ও ভোলা জেলা সদরসহ আরো দুইটি শহরকে বিদ্যুৎ বিভাগের ১৬ শহর প্রকল্পের আওতাভুক্ত করা হয়েছিল। এর আগে দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বরিশালের রূপাতলী, বাগেরহাট ও ভাণ্ডারিয়ায় তিনটি গ্রিড সাবস্টেশনও নির্মাণ করা হয়েছিল। তিনি বলেন, ইদানীং মাঝে মাঝে বিদ্যুতের লোডশেডিং হচ্ছে। এটি কোনো স্থায়ী সমস্যা নয়। দেশের সর্বত্র বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থায় যে চাপ পড়ছে তার কারণে স্বাভাবিকভাবে লোডশেডিং হচ্ছে। গ্রামে গ্রামে বিদ্যুতের ব্যাপক সরবরাহ নিশ্চিত করতে আরো ট্রান্সমিশন লাইন, সাবস্টেশন, মিটার ইত্যাদির প্রয়োজন রয়েছে। আজকে কাউখালী পল্লী বিদ্যুতের যে সাবস্টেশনটি উদ্বোধন করা হলো এটি এলাকার জন্য আশীর্বাদ।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু বলেন, আমার সৌভাগ্য হয়েছে ১৭ বছর যে মন্ত্রিসভায় থেকেছি তার ১০ বছরই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে কাজ করেছি। তার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ যাদের হয়েছে তারাই জানেন তিনি সরকার পরিচালনায় কতটা কার্যক্ষম ব্যক্তি। তিনি দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং তা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে তদারকি, মূল্যায়ন এবং সুফল নিশ্চিত করতে সদা সতর্ক ও আন্তরিক থাকেন। আমার এই মন্তব্যকে কেউ কেউ স্তুতি বা স্তাবকতা মনে করতে পারেন। প্রকৃতপক্ষে এটা হচ্ছে আমাদের উপলব্ধি। বাংলাদেশ যে আজকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হয়েছে তা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গতিশীল নেতৃত্বের কারণে। দেশের এই উন্নয়ন যাত্রা অব্যাহত রাখতে আমাদেরকে এক হয়ে কাজ করতে হবে। পাশাপাশি মানুষকে সচেতন করে তোলা আবশ্যক। এই কথাগুলো আমি ৩৭ বছর ধরে আপনাদের কাছে বলে এসেছি। ৭২ সাল থেকে এ পর্যন্ত দেশে অনেক অঘটন ঘটেছে। আমাদেরকে এসব অপ্রত্যাশিত ঘটনার কারণ খুঁজে বের করে তার পুনরাবৃত্তি রোধ করা দরকার। আরো মনে রাখতে হবে যে সরকারি কর্মকর্তাদের সাথে ভালো আচরণ করা সবার কর্তব্য। এলাকার উন্নয়নের জন্য আমলাতন্ত্রের সাথে সুসম্পর্ক বজায় থাকলে উন্নয়নকাজ নিশ্চিত হয়। কারণ সরকারি কর্মকর্তাদের হাত দিয়ে সকল উন্নয়ন চাহিদার আনুষ্ঠানিকতা সম্পাদন করা হয়।

তিনি আরো বলেন, আজকে যে পল্লী বিদ্যুতের উপকেন্দ্রটি কাউখালীতে উদ্বোধন করা হলো এর মধ্য দিয়ে এলাকার কৃষি সেচ, নতুন নতুন ক্ষুদ্র শিল্প, গ্রামে গ্রামে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত হবে এবং প্রধানমন্ত্রীর প্রতিটি ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছানোর নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণ হবে।

কাউখালী উপজেলার চিড়াপাড়া ইউনিয়নে ‘৩৩/১১ কেভি ১০/১৪ এমভিএ ইনডোর বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র’ নির্মাণকাজের শুভ উদ্বোধন উপলক্ষ্যে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে আরো বক্তব্য রাখেন পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার শেখ মোহাম্মদ আলী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট এ কে এম এ শহীদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড বরিশাল জোনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী দীপঙ্কর মন্ডল, কাউখালী উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মিয়া মনু, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছা. খালেদা খাতুন রেখা, উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মৃদুল আহমেদ সুমন, কাউখালী থানার ওসি বনি আমিন প্রমুখ।

এ ছাড়া রাজনৈতিক নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যানদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান পল্টন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি সুনীল কুণ্ডু, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রশীদ মিলটন, উপজেলা জেপির সাধারণ সম্পাদক মনজুরুল মাহাফুজ পায়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউল হাসান জুয়েল, জেপির উপজেলা যুগ্ম সম্পাদক বজলুর রহমান নান্নু, জেপি নেতা খান মো. বাচ্চু, যুব সংহতির সহ-সভাপতি মো. শামীম হোসেন, ছাত্র সমাজের সভাপতি তারিকুল ইসলাম কাউয়ুম শেখ প্রমুখ।

এ ছাড়া শিয়ালকাঠি ইউপি চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন সিকদার, সদর ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান, চিড়াপাড়া-পারসাতুরিয়ার ইউপি চেয়ারম্যান লায়েকুজ্জামান তালুকদার মিন্টু, আমরাজুড়ি ইউপি চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন। বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র উদ্বোধনকালে সংসদ সদস্য আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন।

আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি গতকাল সোমবার বিকালে কাউখালী উপজেলার সুবিধাবঞ্চিত অসচ্ছল পরিবারের মধ্যে সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিলের নগদ অর্থ (টাকা) বিতরণ করেন। এ সময় তার সফরসঙ্গীদের মধ্যে ছিলেন ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম, জেপি উপজেলা সদস্য সচিব ও ধাওয়া ইউপি চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু ও জেপি নেতা ইউসুফ আলী আকন।

ভাণ্ডারিয়া সংবাদদাতা শঙ্কর জীৎ সমদ্দার জানান, সোমবার রাতে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু এমপি ভাণ্ডারিয়ার সাবেক সদর ইউনিয়ন পরিষদ ভবন প্রাঙ্গণে নগর অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের (ইউআইআইপি) আওতায় পাঁচতলা ফাউন্ডেশন বিশিষ্ট একতলা ভেজিটেবল ও এগ্রিকালচার প্রোডাক্ট মার্কেট নির্মাণকাজের উদ্বোধন করেন। এ সময় তিনি দোয়া মোনাজাতে অংশ নেন। এ কর্মসূচিতে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ফাইজজুর রশিদ খসরু জোমাদ্দার, জাতীয় পার্টি-জেপির কেন্দ্রীয় নেতা মো. ইউসুফ আলী আকন, জাতীয় পার্টি-জেপির ভাণ্ডারিয়া উপজেলা সদস্য সচিব ও ধাওয়া ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সিদ্দিকুর রহমান টুলু, পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি শহিদুল আলম স্বপন সিকদার, জাতীয় পার্টি-জেপির ভিটাবাড়িয়া ইউনিয়ন সভাপতি রেজা আহম্মেদ দুলাল, ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শাহীন হাওলাদার, জাতীয় যুব সংহতির উপজেলা আহ্বায়ক মো. রেজাউল হক রেজভী জোমাদ্দার, জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক পার্টির উপজেলা সভাপতি মো. মনির সরদার, যুব সংহতির সদস্য সচিব মামুনুর রশিদ সরদার, যুবলীগ নেতা লিটন পেশকার, মো. জুয়েল আকনসহ স্থানীয় ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ। দোয়া মোনাজাত পরিচালনা করেন মাওলানা মোস্তফা হোসাইন। রাতে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু গৌরীপুর ইউনিয়নের রাধানগরে একটি উন্নয়ন প্রকল্প পরিদর্শন করেন।

এছাড়া গতকাল সকালে আনোয়ার হোসেন মঞ্জু নিজে বাসভবন ‘তাসমিমা ভিলা’র হলরুমে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা প্রশাসন ও কৃষি অধিদপ্তরের উদ্যোগে উফশী আমন চাষাবাদ প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় পৌরসভাসহ উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নের ৩৩০ জন কৃষকের মধ্যে বিনা মূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করেন। দুপুরে একই স্হানে উপজেলার সুবিধাবঞ্চিত অসচ্ছল পরিবারের মধ্যে আসন্ন ঈদুল আজহার উপহার হিসেবে সংসদ সদস্যের ঐচ্ছিক তহবিলের নগদ অর্থ বিতরণ করেন।

উভয় অনুষ্ঠানে ভাণ্ডারিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পৌর প্রশাসক সীমা রানী ধরের সভাপতিত্বে অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম মিরাজ, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আসমা আখতার, কৃষি কর্মকর্তা মো. আব্দুল্লাহ আল মামুন, উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা মো. লুত্ফর রহমান প্রমুখ।

ইত্তেফাক/ইআ