চাকরির আশ্বাসে তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনায় মামলা, মূল অভিযুক্তকে জুতাপেটা করে থানায় সোপর্দ

আপডেট : ১৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৭:২৯

হবিগঞ্জের চুনারুঘাটে চাকরির আশ্বাস দিয়ে এক তরুণীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মামলা করেছেন ভুক্তভোগী। গতকাল শনিবার বিকেলে প্রধান অভিযুক্ত বাসির মিয়াকে (২৬) আটক করেন তরুণী ও তার বোন। পরে তাকে জুতাপেটা করে পুলিশের হাতে তুলে দেন তারা। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

পুলিশ ও মামলার অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী তরুণী চুনারুঘাট উপজেলার বাসিন্দা। তিনি শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার ওলিপুর শিল্প এলাকার একটি কারখানায় কাজ করতেন। সেখানেই শায়েস্তাগঞ্জের রমাপুর গ্রামের বাসির মিয়ার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। সম্প্রতি চাকরিচ্যুত হন ওই তরুণী।

অভিযোগ অনুযায়ী, ৭ অক্টোবর বাসির মিয়া ফোনে তরুণীকে জানান, তিনি তরুণীর জন্য একটি চাকরির ব্যবস্থা করেছেন এবং সেদিনই দেখা করে সাক্ষাৎকার দিতে হবে। সেই অনুযায়ী তরুণী চুনারুঘাট উপজেলা সদরে এলে বাসির ও আরেক তরুণ তাকে অটোরিকশায় করে লালচান চা-বাগানে নিয়ে যান। তরুণীকে বলা হয়েছিল, চাকরিদাতা বাগানের বাংলোয় অবস্থান করছেন।

ভুক্তভোগীর ভাষ্য, বাগানের নির্জন স্থানে নিয়ে প্রথমে দুজন তাকে ধর্ষণ করেন। পরে মোটরসাইকেলে বাসিরের পরিচিত আরও তিনজন সেখানে যান এবং তারাও ধর্ষণে অংশ নেন। বাগানের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা একজনও ঘটনা দেখে ধর্ষণ করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। সব মিলিয়ে একে একে ছয়জন তাকে ধর্ষণ করেন বলে তিনি জানান।

ঘটনার কথা পরিবারকে না জানিয়ে তরুণী শুধু তার ছোট বোনকে জানান। দুই বোন মিলে বাসিরকে আটক করার পরিকল্পনা করেন। ছোট বোন মুঠোফোনে বাসিরের সঙ্গে সখ্য গড়ে তোলেন এবং গতকাল শনিবার দুপুরে দেখা করার সময় ঠিক করেন। বাসির চুনারুঘাট উপজেলা সদরে এলে দুই বোন তাকে আটক করেন। আশপাশের লোকজনও তাদের সহযোগিতা করেন। এরপর বাসিরকে জুতাপেটা করে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।

আজ রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ ঘটনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। ভিডিওতে এক তরুণীকে এক ব্যক্তিকে গালাগাল করে জুতাপেটা করতে দেখা যায়।

আটক ব্যক্তিকে থানায় আনার পর পুলিশ ভুক্তভোগীকে নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। শনিবার রাতেই তরুণী বাদী হয়ে বাসির মিয়াসহ অজ্ঞাতনামা ছয়জনকে আসামি করে চুনারুঘাট থানায় ধর্ষণের মামলা করেন।

চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল ইসলাম গণমাধ্যমকে বলেন, ‘বাসির মিয়াসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগ আমরা পেয়েছি। আমরা নিজেরাও ঘটনাস্থল ও আশপাশে তদন্ত করে ঘটনার আলামত পেয়েছি।’ তিনি জানান, বাসির মিয়াকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। অন্য আসামিদের আটকের চেষ্টা চলছে। ভুক্তভোগী তরুণীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য হবিগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

ইত্তেফাক/আরএইচ