ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৫ এপ্রিল ২০১৯, ১২ বৈশাখ ১৪২৬
২৯ °সে

অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আরও বেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে: ড. আতিউর

অদূর ভবিষ্যতে বাংলাদেশ আরও বেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণ করবে: ড. আতিউর
ব্যাংককে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান। ছবি: ইত্তেফাক

'বাংলাদেশের অবিশ্বাস্য উন্নয়ন অভিযাত্রার যে গল্প তার পুরোটা এখনও শেষ হয়নি। এখন আমাদের দেশ দুই অঙ্কের জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন, ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত দেশ গঠনের মতো বড় বড় লক্ষ্য অর্জনের চেষ্টা করছে। তবে সরকারের পাশাপাশি বেসরকারিখাত এক যোগে কাজ করলেই কেবল এ লক্ষ্যগুলো অর্জন করা সম্ভব হবে'। মঙ্গলবার (২২ জানুয়ারি) ব্যাংককের হোটেল 'আমারি ওয়াটার ফ্রন্ট'-এ আয়োজিত এশিয়ান ফাইনান্সিয়াল ইনস্টিটিউশনস ফোরামে বক্তৃতাকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. আতিউর রহমান এ কথা বলেন।

ড. আতিউর তার বক্তব্যে আগামী দিনগুলোতে বাংলাদেশের অর্থনীতির গতি-প্রকৃতি এবং আর্থিক সেবাদানকারি প্রতিষ্ঠান এবং উদ্যোক্তাদের উপর প্রভাব নিয়ে আলোচনা করেন। তিনি বলেন, 'ব্যাংকগুলো উদ্যোক্তাদের জন্য নির্ভরযোগ্য জ্ঞানের উৎস হিসেবে কাজ করে। অর্থায়ন বিষয়ে উদ্যোক্তাদের মূল্যবান পরামর্শ ও নির্দেশনা দিতে পারে। কয়েক বছর আগে দেশের ব্যাংকগুলোকে মোট ঋণের একটি অংশ বাধ্যতামূলকভাবে কৃষি ঋণ হিসেবে দেওয়ার বিধান চালু করা এবং নতুন করে কৃষিঋণের সংজ্ঞা নির্ধারণের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংক যে সময়োচিত উদ্যোগ নিয়েছিলো তার ফলে দেশের ব্যাংকগুলো এবং ক্ষুদ্র ঋণ প্রদানকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে খুবই কার্যকর একটি সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। যে সমস্ত ব্যাংকের প্রত্যন্ত অঞ্চলে শাখা নেই বা কম শাখা রয়েছে তারা এর ফলে বিশেষভাবে উপকৃত হয়েছে। এছাড়াও এর ফলে দেশের কৃষি খাতের বিকাশের জন্য অর্থের সরবরাহ বেড়েছে এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির প্রসার ঘটানোর যে উদ্যোগ কেন্দ্রীয় ব্যাংক নিয়েছিলো তা জোরদার হয়েছে'।

তিনি আরও বলেন, 'এ ধরণের বিভিন্ন উদ্ভাবনী উদ্যোগের মাধ্যমে বাংলাদেশে যে উন্নয়নমুখী কেন্দ্রীয় ব্যাংক কার্যক্রম হয়েছে সেগুলোর ফলেই বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ চাহিদা বৃদ্ধির মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনৈতিক মন্দা কার্যকরভাবে মোকাবিলা করার সামর্থ দেখাতে পেরেছে'।

'উন্নতবিশ্বের দেশগুলোতে যখন কেবল বড় বড় আর্থিক সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানকে বেইল আউট সুবিধা দেওয়া হচ্ছিল, সে সময় আমরা ধীর গতিতে আমাদের গ্রামীণ কৃষি এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোগগুলোকে মজবুত করতে অর্থায়ন করেছি। এর ফলেই বাংলাদেশ অন্তর্ভুক্তি মূলক অর্থায়নের ক্ষেত্রে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করতে পেরেছে এবং জাতীয় অর্থনীতিতে ঈর্ষণীয় স্থিতিশীলতা অর্জন করেছে। বাংলাদেশ এ মূহুর্তে যে দ্রুতগামী উন্নয়ন প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে তা অব্যাহত রাখতে আরও সম্পদ প্রয়োজন', জানান ড. আতিউর। এটাই বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ পাওয়া বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সোনার খনির সন্ধান পাওয়ার শ্রেষ্ঠ সময় বলে তিনি মনে করেন।

আরও পড়ুন: ঢাকাকে ১৫৪ রানের টার্গেট দিয়েছে কুমিল্লা

গত কয়েক মেয়াদে সরকার রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাসহ বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ বজায় রাখার ক্ষেত্রে যে ধারাবাহিকতা দেখিয়েছে তা দেশ ও দেশের বাইরের বিনিয়োগকারীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করছে। পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ বান্ধব নীতি এবং উদার কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও সম্ভাবনাময় রপ্তানি মুখী শিল্পের পাশাপাশি ক্ষুদ্র ঋণ খাতে বিদেশি বিনিয়োগে সহায়ক হবে। মাইক্রোক্রেডিট রেগুলেটরি অথরিটি এবং বাংলাদেশ ব্যাংক বিদেশি বিনিয়োগকারীদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন ড. আতিউর। আগামীকাল বাংলাদেশে বিরাজমান বিনিয়োগ বান্ধব পরিবেশ বিষয়ে আলাপ চারিতার জন্য তিনি বিদেশী বিনিয়োগকারীদের একটি দলের (যাদের মধ্যে সিংহ ভাগই ইউরোপিয়) সঙ্গে সম্মেলন স্থলেই আরেকটি বৈঠকে মিলিত হবেন বলে জানা গেছে।

অনুষ্ঠানে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী, ব্যাংকার ও ক্ষুদ্র ঋণ সংস্থার প্রতিনিধিবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচকদের মধ্যে ছিলেন বাংলাদেশ এসোসিয়েশন অফ ব্যাংকারসের সভাপতি সৈয়দ মাহবুবুররহমান, বিইইএসের নির্বাহী পরিচালক সাইফুল ইসলাম এবং সিডিএফের নির্বাহী পরিচালক আব্দুল আউয়াল।

ইত্তেফাক/জেডএইচডি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৫ এপ্রিল, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন