ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০১৯, ১৩ আষাঢ় ১৪২৬
৩২ °সে


লন্ডনে স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠিত

লন্ডনে স্বাধীনতা দিবসের আলোচনা অনুষ্ঠিত
স্বাধীনতা দিবস ও ৪৯তম জাতীয় দিবস উপলক্ষে লন্ডনে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ট্যারেজ প্যাভিলিয়নে বুধবার এক আলোচনা সভা

বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস ও ৪৯তম জাতীয় দিবস উপলক্ষে লন্ডনে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ট্যারেজ প্যাভিলিয়নে বুধবার এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে ব্রিটেনের মূলধারার রাজনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনা সভায় বক্তারা বলেন, আজকের দিনটি বাংলাদেশের মানুষের কাছে ছিল পরাধীনতার শিকল ছিড়ে মুক্তি পাওয়ার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হবার দিন। একইসঙ্গে এদিনটি তাদের জন্য অত্যন্ত বেদনার দিন। কারণ তারা এই দিনটিতে নির্বিচারে গণহত্যা শিকার হয়েছিলেন। অবশ্য তারা বেদনায় কাতর না থেকে মুক্তির শপথ নিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন এবং স্বাধীনতাকে ছিনিয়ে আনেন। যারা এই মহান যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন তাদেরকে আজ বিশ্বজুড়ে বীরসন্তান হিসাবে স্মরণ করছে।

তারা বলেন, বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গত এক দশকে বাংলাদেশ নানা খাতে বিশাল সাফল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশের সঙ্গে ব্রিটেন এখন আরও ঘনিষ্ঠ বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে তুলতে আগ্রহী। তারা বলেন, লাখ লাখ নির্যাতিত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ বিশ্বে মানবতার অনন্য নজির সৃষ্টি করেছে।

বক্তারা সকলেই বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ের প্রশংসা করেন। অনুষ্ঠানে সরকারিদল কনজারভেটিভ, বিরোধী দল লেবার এবং লিবারেল ডেমোক্র্যাটস দলের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে ৩৪জন পার্লামেন্ট সদস্য উপস্থিত হয়েছেন বলে আওয়ামী লীগের পক্ষথেকে জানানো হয়।

অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ সাজিদুর রহমান ফারুক ও কাউন্সিলর সায়মা আহমদ। এতে সভাপতিত্ব করেন যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সভাপতি সুলতান মাহমুদ শরীফ। অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম বাংলাদেশের নানা উন্নয়ন-অগ্রযাত্রার প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন।

ব্রিটিশ পার্লামেন্টে বাংলাদেশ বিষয়ক সর্বদলীয় কমিটির প্রধান অ্যান মেইন বাংলাদেশকে যুক্তরাজ্যের বেশ গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ব্রেক্সিট কার্যকর হওয়ার পর বাংলাদেশের সঙ্গে ব্রিটেনের আরও ঘণিষ্ঠ বাণিজ্য সম্পর্ক গড়ে তোলার কথা ভাবছে ব্রিটিশ সরকার। তিনি বলেন কিছুদিন আগেই আমি বাংলাদেশ সফর করেছি। চলতি বছরে আবারো তিনি বাংলাদেশ সফর করবেন বলে উল্লেখ করেন।

বিরোধী দল লেবার পার্টির আইনপ্রণেতা মি. ফিলিপস বলেন, বাংলাদেশ গত এক দশকে অর্থনৈতিকভাবে ব্যাপক উন্নয়ন করেছে। তিনি বাংলাদেশের পোশাক শ্রমিকদের নিয়ে কাজ করছেন উল্লেখ করে বলেন, খুব শিগগিরই আমি পোশাক শ্রমিকদের নানা বিষয়ে নিয়ে বাংলাদেশ সফর করবো।

এছাড়াও অন্যান্যদের মধ্যে ভ্যালেরি ভাজ, মাইক গেইফস, টেরি লয়েড, পল স্কালি, জনাথন অ্যাশওয়ার্থ সহ বিভিন্ন ব্রিটিশ রাজনীতিকরা বাংলাদেশ দ্রুত উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছে বলে প্রশংসা করেন। লেবার দলের আইনপ্রণেতা টবি লয়েড বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময়কার স্মৃতিচারণ করেন।

যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনীম বলেন, পাকিস্তানের জন্ম হয়েছিল ইসলামিক প্রজাতন্ত্র হিসেবে। বাঙালিরা মুসলিম হলেও ধর্মনিরপেক্ষতায় বিশ্বাসী। মৌলিক সেই পার্থক্য মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম কারণ। তিনি বলেন, ব্রিটিশ রাজনীতিকদের এখন নতুন করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে তাঁরা বর্তমানের ধর্মনিরপেক্ষ বাংলাদেশের পক্ষে থাকবে; নাকি ইসলামিক প্রজাতন্ত্রে ফিরে যাওয়া সমর্থন করবে।

অনুষ্ঠানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের পাশাপাশি মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের স্মরণে এক মিনিট নিরবতা পালন করা হয়। অনুষ্ঠানে জাতীয় সঙ্গীত ও দেশাত্ববোধন গানের সঙ্গে নৃত্য পরিবেশন করা হয়।

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৭ জুন, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন