বাংলাদেশের সাফল্য তুলে ধরতে গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী

প্রকাশ : ১৮ জুলাই ২০১৯, ০৪:৪৯ | অনলাইন সংস্করণ

  বিশেষ প্রতিনিধি, যুক্তরাষ্ট্র

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন- ইত্তেফাক

‘কোটি প্রাণ একসাথে‘ স্লোগান নিয়ে নিউইয়র্ক থেকে আনুষ্ঠানিক সম্প্রচার শুরু করেছে বাংলা ভাষার আইপি টেলিভিশন ‘বাংলা চ্যানেল‘। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সুইচ টিপে চ্যানেলটির সম্প্রচার কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন যুক্তরাষ্ট্র সফররত পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। এ উপলক্ষে বাংলাদেশিদের প্রাণকেন্দ্র নিউইয়র্কের অভিজাত পার্টি হল বেলোজিনায় এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক, মূলধারার রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, মুক্তিযোদ্ধা, সংস্কৃতিকর্মীসহ বাংলাদেশি কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হয় অনুষ্ঠান। এরপর অন্যান্য অতিথিদের নিয়ে মঞ্চে বাংলা চ্যানেলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. মোমেন। এসময় তিনি গণমাধ্যমের সহযোগিতা চেয়ে বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা রচনার ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই বেশ কিছু অর্জিত হয়েছে বাংলাদেশের। সেই অর্জন সমূহকে বস্তুনিষ্ঠ ভাবে উপস্থাপনের জন্যে গণমাধ্যমের আন্তরিক সহযোগিতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে প্রবাস প্রজন্মকে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস সম্পর্কে অবহিত এবং বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় সমগ্র জনগোষ্ঠীকে ঐক্যবদ্ধ করার জন্যও গণমাধ্যমের ভূমিকা অপরিসীম।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরো বলেন, ‘খুবই ভালো একটি সময়ে এই টিভির যাত্রা শুরু হলো। সামনের বছর হচ্ছে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের শততম জন্মবার্ষিকী। তার পরের বছর হবে বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সুবর্ণজয়ন্তী। এ দুটি বিশেষ বছরের সকল কার্যক্রম সুন্দরভাবে উপস্থাপনের মধ্য দিয়ে এই চ্যানেলটি বাঙালির হৃদয়ে ঠাঁই করে নিতে সক্ষম হবে বলে আশা করছি।

আরও পড়ুন: ওবায়দুল কাদের দেশে ফিরেছেন

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন বলেন, বঙ্গবন্ধু কন্যা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ বিভিন্ন ক্ষেত্রে, বিশেষ করে মানুষের জীবন-মানের উন্নয়নের পাশাপাশি দারিদ্র্য বিমোচনে অভাবনীয় সাফল্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশ এখন গোটাবিশ্বে উন্নয়নের মডেল হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশের সম্মান বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব অবিস্মরণীয় ঘটনাবলি নতুন এই টিভিতে চমৎকারভাবে উপস্থাপিত হবে বলে আশা করছি।

সাংবাদিক শামীম আল আমীন ও কমিউনিটি লিডার ফাহাদ সোলায়মানের যৌথ সঞ্চালনায় উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি ও রাষ্ট্রদূত মাসুদ বিন মোমেন। অতিথি হিসাবে আরো ছিলেন নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল সাদিয়া ফয়জুননেসা, নিউইয়র্ক স্টেট অ্যাসেম্বলিওম্যান ক্যাটালিনা ক্রুজ, স্টেট অ্যাসেম্বলিম্যান ডেভিড ওয়েপ্রিন, ডেমোক্রেটিক পার্টির কুইন্স ডিস্ট্রিক্ট লিডার অ্যাটর্নি মঈন চৌধুরী, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী জহিরুল ইসলাম, যুক্তরাষ্ট্র সেক্টর কমান্ডারস ফোরামের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা রাশেদ আহমেদ, যুক্তরাষ্ট্র বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল কাদের মিয়া, ফাহাদ সোলায়মান, স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের কণ্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায় ও শহীদ হাসান, কমিউনিটি লিডার মোহাম্মদ এন মজুমদার, খান’স টিউটোরিয়ালের চেয়ারপারসন নাঈমা খান, মূলধারার রাজনীতিবিদ মোর্শেদ আলম, জেবিবিএ সভাপতি মো. শাহনেওয়াজ প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন চ্যানেলটির ভাইস প্রেসিডেন্ট ফৌজিয়া চৌধুরী এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন বাংলা চ্যানেলের কর্ণধার শাহ জে. চৌধুরী। অন্যদের মধ্যে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন আমেরিকা-বাংলাদেশ প্রেসক্লাবের সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা লাবলু আনসার, সাংবাদিক মাহফুজুর রহমান, শাহাবউদ্দিন সাগর প্রমুখ।
বাংলা চ্যানেলের কর্ণধার শাহ জে. চৌধুরী জানান, বাংলা চ্যানেল প্রবাসী বাঙালিদের মনের কথা, বিশেষ করে তাদের সুখ-দু:খ, সমস্যা-সম্ভাবনার কথা তুলে ধরবে। বিনোদন ও খবরের পাশাপাশি থাকবে চলমান বিষয়ে টকশো।

অনুষ্ঠানে বিশিষ্টজনদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের যুগ্ম সম্পাদক হাজী এনাম, কৃষিবিদ আশরাফুজ্জামান, মোর্শেদা জামান, ট্যাভেল ব্যবসায়ী শামসুদ্দিন বশির, সিপিএ ইয়াকুব এ খান, মূলধারার রাজনীতিবিদ তৈয়বুর রহমান হারুণ, কমিউনিটি বোর্ড সদস্য ফখরুল ইসলাম দেলোয়ার, যুবদল নেতা এম এ বাতিন, মুক্তিযোদ্ধা রেজাউল বারী, কমিউনিটি অ্যাক্টিভিস্ট শুভ রায়, গোপন সাহা, গোপাল স্যানাল, সাংস্কৃতিক সংগঠক সবিতা দাস, হাজী জাফরউল্লাহ, এটিএম মাসুদ, তপন মোদক, শাহ শহীদুল হক সাঈদ, নাজিমউদ্দিন প্রমুখ।

উদ্বোধনী পর্বে ‘তীর হারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেব রে’ সঙ্গীত পরিবেশন করেন কন্ঠযোদ্ধা রথীন্দ্রনাথ রায় এবং শহীদ হাসান। এছাড়া উদ্বোধনী বাদ্যযন্ত্র সেতার পরিবেশন করেন মোরশেদ খান অপু।

এ অনুষ্ঠানে পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানান সেক্টর কমান্ডারস ফোরাম এবং আমেরিকা বাংলাদেশ প্রেসক্লাব (এবিপিসি)।

ইত্তেফাক/এমআরএম