ঢাকা মঙ্গলবার, ২৪ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৯ আশ্বিন ১৪২৬
২৬ °সে


সুইডেনে শোক দিবস পালন

সুইডেনে শোক দিবস পালন
সুইডেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ নাজমুল ইসলাম। ছবি-ইত্তেফাক

বিনম্র শ্রদ্ধা, শোক ও যথাযথ ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে স্বাধীনতার মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৪৪তম শাহাদাত বার্ষিকী ও জাতীয় শোক দিবস-২০১৯ পালন করেছে সুইডেনের রাজধানী স্টকহোমস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস। বৃহস্পতিবার সকালে দূতাবাস প্রাঙ্গণ ও বাংলাদেশ হাউজে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত করার মধ্য দিয়ে শোক দিবসের কার্যক্রম শুরু হয়।

বিকেলে দূতাবাস প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধুর জীবন, আদর্শ ও কর্মের উপর আলোচনা সভা, প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনী ও বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।

‘চিরঞ্জীব বঙ্গবন্ধু’ শিরোনামে বঙ্গবন্ধুর কর্মময় জীবনের উপর এক প্রামাণ্য চিত্র প্রদর্শনীর মধ্য দিয়ে বিকেলের আয়োজন শুরু হয়। সুইডেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোঃ নাজমুল ইসলামের উপস্থিতিতে উক্ত আয়োজনে দূতাবাসের কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ ও সুইডেনে বসবাসরত বিপুল সংখ্যক প্রবাসী বাংলাদেশি অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে ছিল আলোচনা সভা। দূতাবাসের প্রথম সচিব সায়মা রাজ্জাকীর সঞ্চালনায় আলোচনা সভার শুরুতে পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াত ও অন্যান্য পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয় এবং সমবেত কণ্ঠে জাতীয় সংগীত পরিবেশন করা হয়। অত:পর বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুননেছা মুজিব, তিন পুত্র ক্যাপ্টেন শেখ কামাল, লেফটেন্যান্ট শেখ জামাল, শেখ রাসেল, পুত্রবধু সুলতানা কামাল ও রোজী জামাল, বঙ্গবন্ধুর সহোদর শেখ নাসের, কৃষকনেতা আব্দুর রব সেরনিয়াবাত, যুবনেতা শেখ ফজলুল হক মনি ও তার অন্ত:সত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণি, কর্নেল জামিল, বেবী সেরনিয়াবাত, সুকান্ত বাবু, আরিফ, আব্দুল নঈম খান রিন্টুসহ ১৫ আগস্টের সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনের উদ্দেশ্যে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর রাষ্ট্রদূতের নেতৃত্বে আগত অতিথিবৃন্দ সারিবদ্ধভাবে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে ফুলেল শ্রদ্ধা জানান। এছাড়া জাতীয় শোক দিবস উপলক্ষে প্রদত্ত মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, মাননীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও মাননীয় পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীর বাণী পাঠ করে শোনানো হয়।

আলোচনা পর্বে আগত প্রবাসী বাংলাদেশিদের অনেকেই বক্তব্য রাখেন। বক্তাগণ তাঁদের আলোচনায় স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠায় জাতির পিতার দূরদর্শী নেতৃত্ব এবং অসামান্য আত্মত্যাগের কথা গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তারা বলেন, ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঘাতকেরা বঙ্গবন্ধুকে হত্যার মাধ্যমে বাঙালি জাতির ইতিহাসে একটি কলঙ্কজনক অধ্যায় রচনা করেছিল। বক্তারা ১৫ আগস্ট এর শোককে শক্তিতে পরিণত করে নিজ নিজ জায়গা থেকে অধিকতর দেশপ্রেমে আত্মনিয়োগ করবার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।

রাষ্ট্রদূত মোঃ নাজমুল ইসলাম তার বক্তব্যে জাতির পিতার স্বপ্ন ও আদর্শকে সামনে রেখে একটি অসাম্পদ্রায়িক, প্রগতিশীল এবং গণতান্ত্রিক স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়ার লক্ষ্যে বর্তমান সরকারের নেয়া বিভিন্ন সাফল্যজনক পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার মাধ্যমে ঘাতকরা মূলত মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, মূল্যবোধ এবং আদর্শকে ধ্বংস করতে চেয়েছিল, কিন্ত ঘাতকদের সেই হীন উদ্দেশ্য সফল হয়নি। তিনি আরো বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান শুধুমাত্র বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্বপ্নদ্রষ্টাই নন, স্বাধীনতা-উত্তর আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের জন্য স্বীকৃতি আদায়ে তার প্রাজ্ঞ কূটনীতি তাকে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেতার মর্যাদায় আসীন করেছে। রাষ্ট্রদূত প্রবাসী বাংলাদেশীদের বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সোনার বাংলার গড়ার জন্য ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান। তিনি বলেন, দেশের বাইরে বসবাসরত নতুন প্রজন্মকে বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে আরো জানতে হবে এবং তার সংগ্রামী জীবনের আর্দশকে ধারণ করে সুখী সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে বলিষ্ঠ ভূমিকা পালন করতে হবে।

আলোচনা অনুষ্ঠানের পর এক বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। উক্ত দোয়া মাহফিলে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান, বঙ্গমাতা ফজিলাতুননেছা মুজিবসহ ১৫ আগস্টে নিহত সকল শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। দূতাবাসের আয়োজনে উপস্থিত অতিথিদের আপ্যায়নের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের পরিসমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

ইত্তেফাক/আরকেজি

এই পাতার আরো খবর -
  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
facebook-recent-activity
prayer-time
২৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯
আর্কাইভ
বেটা
ভার্সন