বেটা ভার্সন
আজকের পত্রিকাই-পেপার ঢাকা শনিবার, ১১ জুলাই ২০২০, ২৭ আষাঢ় ১৪২৭
৩০ °সে

পাপুলের দুর্নীতির তথ্য পেয়েছে কুয়েত কর্তৃপক্ষ

পাপুলের দুর্নীতির তথ্য পেয়েছে কুয়েত কর্তৃপক্ষ
কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল। ফাইল ছবি

কুয়েতে আটক বাংলাদেশের সংসদ সদস্য কাজী শহীদ ইসলাম ওরফে কাজী পাপুলকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে দেশটির তদন্ত কর্মকর্তারা। কুয়েত টাইমস পত্রিকার এক খবরে বলা হয়েছে, আটক সংসদ সদস্যের দুর্নীতির অনেক চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ পেতে শুরু করেছে। তিনি মানবপাচার ও অর্থপাচারের কাজ অব্যাহত রাখতে কুয়েত সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কর্তা-ব্যক্তিদের ঘুষ দিতেন। সম্প্রতি তিনি কুয়েতের ব্যাংক হিসাব থেকে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে বিপুল অঙ্কের অর্থ স্থানান্তর করেছেন।

ঐ খবরে বলা হয়েছে, কাজী পাপুলকে জিজ্ঞাসাবাদকালে কুয়েতের সাত সরকারি কর্মকর্তার নাম এসেছে। এদের মধ্যে কয়েকজন ইতিমধ্যে অবসরে গেছেন। বাকিরা কুয়েতের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার কর্মকর্তা। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও টেন্ডার কমিটিতেও কর্মরত রয়েছেন কয়েকজন। তারা কাজী পাপুলের কাছ থেকে ঘুষ ও বিভিন্ন উপহার নিয়েছেন। কাজী পাপুল তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে স্বীকার করেছেন যে, তিনি কুয়েতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জন শীর্ষ কর্মকর্তাকে ঘুষ দিয়েছেন। ঐ কর্মকর্তা তাকে কাজ পাইয়ে দিতেন এবং তার হয়ে মধ্যস্থতা করতেন।

অভিযোগ রয়েছে, কাজী পাপুল কুয়েতের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ঘুষ হিসেবে কয়েকটি দামি গাড়ি উপহার দিয়েছেন। কুয়েতের তদন্ত কর্মকর্তারা বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত কানাডার এক নাগরিক এবং মিসরের এক নাগরিককে চলমান তদন্তের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে আটক করেছেন। তারা এমপি পাপুলের হয়ে কুয়েতের সরকারি দপ্তরগুলোতে লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। এদিকে দুর্নীতির বিষয়টি সামনে আসার পরে কুয়েতের এমপিরা মানব পাচার ও অর্থ পাচারের ঘটনায় জড়িত কুয়েতি কর্মকর্তাদের বিষয়ে জানানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করছেন।

আরব টাইমসের এক খবরে বলা হয়েছে, তদন্ত কর্মকর্তারা জানতে পেরেছেন যে, এমপি কাজী পাপুল সম্প্রতি ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে লাখ লাখ দিনার (১ দিনার প্রায় ২৭৭ টাকা) পাঠিয়েছেন কুয়েতের ব্যাংক হিসাব থেকে। কুয়েত থেকে বিভিন্ন দেশের ব্যাংকে ঐ লেনদেন বেশ সন্দেহজনক বলে তারা ধারণা করছেন। কর্মকর্তারা আরো জানতে পেরেছেন, ভিসা নবায়ন, মানব পাচার ও অবৈধ মুদ্রা পাচারের অভিযোগ ওঠার পর কুয়েত থেকে নিজের ব্যবসা গোটানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন কাজী পাপুল।

অন্যদিকে কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউশন তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাজী পাপুল ও তার ঘনিষ্ঠ সহযোগীদের রিমান্ডে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত কাজী পাপুলের বিরুদ্ধে মানব পাচার ও অর্থপাচারের অভিযোগে ১১ জন বাংলাদেশি অভিবাসী কর্মী সাক্ষ্য দিয়েছেন। তারা পাপুলের বিরুদ্ধে ভিসা বাণিজ্যের পাশাপাশি কুয়েতে ভিসা নবায়নের জন্য বিপুল অঙ্কের টাকা দেওয়ার কথা বলেছেন। এই সাক্ষ্যের পর আদালত ঐ নির্দেশ দিয়েছেন।

ইত্তেফাক/এসআই

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত