অটোয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী পালন

অটোয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী পালন
অটোয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের জন্মবার্ষিকী পালন।ছবি: ইত্তেফাক

কানাডার অটোয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশনে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর সহধর্মিণী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিবের ৯০তম জন্মবার্ষিকী পালন করা হয়েছে। স্থানীয় সময় শনিবার (৮ আগস্ট) এ জন্মবার্ষিকী পালন করা হয়।

এছাড়া তাদের সুযোগ্য সন্তান শহীদ শেখ কামাল এর ৭১তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে অটোয়াস্থ বাংলাদেশ হাইকমিশন বিশেষ আলোচনা অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন অত্র মিশনের প্রথম সচিব মিস অপর্ণা রানী পাল। অনুষ্ঠানের প্রথমেই ঢাকার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রেরিত রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বাণী যথাক্রমে উপ-হাইকমিশনার চিরঞ্জীব সরকার ও কাউন্সিলর মো. সাখাওয়াৎ হোসেন পাঠ করেন।

এ সময় মিশনের অন্যান্য সকল কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন। বাণী পাঠ শেষে বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব ও শহীদ শেখ কামালের ওপর নির্মিত পৃথক দু’টি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনীর পর একটি বিশেষ ভার্চুয়াল আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। এতে কানাডাতে প্রবাসী বাংলাদেশি কমিউনিটি ও প্রবাসী বাংলাদেশিদের বিভিন্ন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ড. সৈয়দ সাজ্জাদুর রহমান, অধ্যাপক ওমর সেলিম শের, রাশেদা নেওয়াজ, মিস. মমতা দত্ত, সাংবাদিক কবির চৌধুরী, শাহ বাহাউদ্দিন শিশির, রিয়াজ উজ জামান ও হাসান জামান অংশগ্রহণ করেন।

আলোচনা অনুষ্ঠানের শুরুতেই হাইকমিশনার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

হাইকমিশনার বলেন, ইতিহাসে বেগম ফজিলাতুন্নেছা মুজিব কেবল একজন প্রাক্তন রাষ্ট্রনায়কের সহধর্মিণীই ছিলেন না, তিনি ছিলেন বাঙালির মুক্তিসংগ্রামে অন্যতম এক নেপথ্য অনুপ্রেরণাদাত্রী। বাঙালি জাতির সুদীর্ঘ স্বাধিকার আন্দোলনের প্রতিটি পদক্ষেপে তিনি বঙ্গবন্ধুকে সক্রিয় সহযোগিতা করেছেন। ছায়ার মত অনুসরণ করেছেন প্রাণপ্রিয় স্বামী বঙ্গবন্ধুর আদর্শকে। তৎকালীন রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে যখনই প্রয়োজন হয়েছেন তখনই সর্বাত্মক প্রচেষ্টায় আওয়ামী লীগ ও নেতা-কর্মীদের পাশে থেকেছেন তিনি। আন্দোলনের সময়ও তিনি প্রতিটি রাজনৈতিক ঘটনা জেলখানায় দেখা করার সময় বঙ্গবন্ধুকে অবহিত করতেন। সেখানে বঙ্গবন্ধুর পরামর্শশুনে তা আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নেতাদের জানিয়ে দিতেন বঙ্গমাতা।

আরও পড়ুন: ভারতে করোনায় আক্রান্ত ৯ দিনের শিশু জটিল অপারেশন!

তিনি আরও বলেন , বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে শহীদ শেখ কামাল অনন্য অবদান রাখেন। ছাত্রলীগের একজন নিবেদিত, সংগ্রামী ও আদর্শবাদী কর্মী হিসেবে শেখ কামাল ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান ও একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। স্বাধীনতা পরবর্তী যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশ তিনি পুনর্গঠন ও পুনর্বাসন কর্মসূচীতে সক্রিয় অবদান রাখার পাশাপাশি সমাজের পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীর ভাগ্যোন্নয়নে, সমাজকে মানবতাবদী চেতনায় উদ্ধুদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। দেশে সাংস্কৃতিক আন্দোলনে শেখ কামাল একজন প্রথম সারির সংগঠক ছিলেন। শুধু খেলাধুলাই নয়, পড়াশোনা, সঙ্গীতচর্চা, অভিনয়, বিতর্ক, উপস্থিত বক্তৃতা থেকে শুরু করে নানান বিষয়ে তিনি বেশ পারদর্শী ছিলেন।

আলোচকবৃন্দরা স্মৃতিচারণ করে বলেন, ‘তাদের জীবদ্দশায় তারা বঙ্গবন্ধু পরিবারের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ছিলেন। তারা বঙ্গমাতা ও শেখ কামালসহ বঙ্গবন্ধু পরিবারের সদস্যদের সাথে অতিবাহিত সময়ের স্মৃতিচারণ করেন। তারা সকলেই উল্লেখ করেন যে, শেখ কামাল ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তিনি বাংলার ইতিহাসে এক উজ্জ্বল নক্ষত্র হিসাবে চিরকাল অম্লান থাকবেন।’

আলোচনা শেষে বঙ্গবন্ধু, বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব, শহীদ শেখ কামালসহ পরিবারের নিহত সকল সদস্যদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়।

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত