স্টকহোমস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের জন্মবার্ষিকী পালন

স্টকহোমস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের জন্মবার্ষিকী পালন
বক্তব্য রাখছেন রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলাম।ছবি: ইত্তেফাক

সুইডেনের স্টকহোমস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে ‘বঙ্গমাতা ত্যাগ ও সুন্দরের সাহসী প্রতীক’ এই প্রতিপাদ্য ধারণ করে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সহধর্মিণী বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা মুজিবের ৯০তম জন্মবার্ষিকী পালন কারা হয়েছে।

দিবসটি উপলক্ষে স্থানীয় সময় শনিবার (০৮ আগস্ট) বিকালে দূতাবাস প্রাঙ্গণে আলোচনা সভা, বিশেষ প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শনী ও দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়। কোভিড-১৯ এর প্রেক্ষাপটে স্বাস্থ্যবিধি ও যথাযথ সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় বাংলাদেশি কমিউনিটির সদস্যবৃন্দ অংশগ্রহণ করেন।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র ধর্মগ্রন্থ থেকে পাঠ শেষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কর্তৃক প্রদত্ত বাণী পাঠ করা হয়। এরপর উন্মুক্ত আলোচনা সভায় বক্তরা বঙ্গমাতার জীবন ও কর্মের ওপর আলোকপাত করে তার ত্যাগ ও আদর্শের উদাহরণ সকলের সামনে তুলে ধরেন।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একজন নীরব সৈনিক। কেবল সহধর্মিণী হিসেবে নয়, রাজনৈতিক সহকর্মী হিসেবে আজীবন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছায়াসঙ্গী ছিলেন শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব। জীবনের অন্তিম মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি ইতিহাসের কালজয়ী মহানায়ক শেখ মুজিবের পাশে অনুপ্রেরণাদায়িনী হয়ে ছিলেন। বাঙালি জাতি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতিটি ধাপে বঙ্গমাতার অবদান রয়েছে।’

আরও পড়ুন: ক্যাম্পাস খোলার আগেই অছাত্রদের হল ছাড়ার নির্দেশ ঢাবির

রাষ্ট্রদূত মো. নাজমুল ইসলাম তার বক্তব্যের শুরুতে জাতির পিতা ও তার পরিবারের শহীদ সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা প্রকাশ করেন এবং বাংলাদেশের রাজনীতিতে বঙ্গমাতার অসীম ত্যাগের বিষয়টি তুলে ধরে বলেন, ‘বঙ্গমাতা ছিলেন জাতির পিতার রাজনৈতিক সাফল্যের অনন্য উৎস ও প্রেরণার কেন্দ্র। বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা সংগ্রাম, মুক্তিযুদ্ধ এবং স্বাধীনতার পর দেশ পুনর্গঠনেও তার উল্লেখযোগ্য ভূমিকা ছিল। জাতির পিতার রাজনৈতিক জীবনসংগ্রামের সব কণ্টকাকীর্ণ পথ হাসিমুখে অতিক্রম করেছেন। সেই সাথে কঠিন সময়ে তিনি পরিবারও সামলেছেন একা হাতে।’

তিনি বলেন, ‘বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেছা মুজিব সাহসিকতা, প্রজ্ঞা ও ত্যাগের যে উদাহরণ তৈরি করে গেছেন, তা বাঙালি নারীদের জন্য অনুপ্রেরণার এক উৎস হয়ে থাকবে। এই মহীয়সী নারীর জীবনী চর্চা নতুন প্রজন্মকে, বিশেষ করে বাংলার নারী সমাজকে কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে সামনে এগিয়ে যেতে এবং একই সাথে সকলকে দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ করবে।’

আলোচনা শেষে বঙ্গমাতার ওপর নির্মিত ‘বঙ্গবন্ধুর ছায়াসঙ্গী বঙ্গমাতা’ শিরোনামে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। সবশেষে জাতির পিতা, বঙ্গমাতা এবং তাদের পরিবারের সকল শহীদ সদস্যের রূহের মাগফিরাত কামনা করে মোনাজাত করা হয়। বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বের অব্যাহত শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে বিশেষ দোয়া পাঠ করা হয়।

ইত্তেফাক/এএএম

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত