কোভিড-১৯ উন্নতি সূচকে ইউরোপের শীর্ষ ৫ দেশের মধ্যে পর্তুগাল

কোভিড-১৯ উন্নতি সূচকে ইউরোপের শীর্ষ ৫ দেশের মধ্যে পর্তুগাল
[ছবি: সংগৃহীত]

বিশ্বের অন্যান্য দেশের মতোই আটলান্টিক পাড়ের নয়নাভিরাম প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে ভরপুর সাজানো-গোছানো ছোট্ট এই দেশটি করোনা ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করছে, তবে তাদের এই লড়াইয়ের সফলতা হাতছানি দিচ্ছে। বেলজিয়াম এবং স্পেনের মতো দেশ যেখানে দ্বিতীয়বারের মতো কোভিড১৯ দ্বারা পুনরায় আক্রান্ত যাকে বলা হয় সেকেন্ড ওয়েব, তবে সে ক্ষেত্রে পর্তুগালের চিত্র ভিন্ন।

ইউরোপীয় সেন্টার ফর ডিজিজ প্রিভেনশন এন্ড কন্ট্রোল এর প্রতিবেদন অনুযায়ী পর্তুগাল আক্রান্তের সংখ্যা প্রতিনিয়তই হ্রাস পাচ্ছে। গত ১৯ শে জুলাই থেকে ২রা আগস্ট পর্যন্ত (ইউডিসি) ইউরোপিয়ান ইউনিয়নের সকল দেশের অবস্থান সম্পর্কে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

নতুন আক্রান্তের সংখ্যা নিম্নমুখী দিকে বিবেচনা করলে পর্তুগালের অবস্থান দ্বিতীয় এবং মৃত্যুর হার বিবেচনায় তৃতীয়। নতুন করে আক্রান্ত এবং মৃত্যু আর এই দুটো সূচকে পর্তুগাল ভালো অবস্থানে রয়েছে, তথাপি পর্তুগালে ৩০ শতাংশ হারে সংক্রমণ হ্রাস পাচ্ছে এবং মৃত্যুর সংখ্যা খুবই নগণ্য অন্যান্য দেশের তুলনায়।

প্রতিবেদনে দেখা যায় পর্তুগালে ১৪ দিনে ১ লাখ নাগরিক প্রতি মাত্র ২৪ দশমিক ৪ নতুন আক্রান্ত হয়েছে, যেখানে প্রতিবেশী দেশ স্পেনের ৬০ দশমিক ২ এবং বেলজিয়ামে ৪৪ দশমিক ৪। এছাড়া লুক্সেমবার্গ রোমানিয়া আরো কয়েকটি দেশের সাথে তুলনা করলে দেখা যায় পর্তুগালের থেকে তাদের আক্রান্তের সংখ্যা দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ।

তবে সবচেয়ে ভাল অবস্থানে রয়েছে সুইডেন, নিম্নমুখী নতুন সংক্রমণ এবং মৃত্যুর ক্ষেত্রে প্রথম অবস্থানে রয়েছে। নতুন আক্রান্তের দিক থেকে সবচেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে রোমানিয়া, স্পেন, বেলজিয়াম, মালটা। নতুন সংক্রমণ বৃদ্ধির সূচকে ইউরোপের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশ ইতালির অবস্থান ১০ এবং সদ্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন ছেড়ে যাওয়া যুক্তরাজ্যে অবস্থান ১১ তম। অপরদিকে নিম্নমুখী মৃত্যুর হারের দিক থেকে ইতালি পাঁচ নম্বরে উঠে এসেছে এবং যুক্তরাজ্যের অবস্থান দ্বিতীয়।

অন্যদিক প্রতি এক লাখ লোকের কভিড১৯ পরীক্ষার হার অনুপাত করলে দেখা যায় ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ইউরোপিয়ান ইকোনমিক জোন এর মধ্যে পর্তুগালের অবস্থান অষ্টম, যেখানে প্রতিবেশী দেশ স্পেনের অবস্থান ১৪ তম।

এই রিপোর্ট প্রকাশের পর গত কয়েকদিন যাবত দেখা গেছে সংক্রমণের হার আরও অনেক কমে গেছে, এবং তা শুধুমাত্র সম্ভব হয়েছে পর্তুগালের সরকারের সময় অনুযায়ী দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং জনগণের সহযোগিতায়, বিভিন্ন সময় প্রধানমন্ত্রী আন্তোনিও কস্তা দেশের জনগণকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন ধৈর্যশীল আচরণ করার মাধ্যমে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার জন্য।

নতুন এ পরিস্থিতিতে প্রত্যেকটি দেশই খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন পন্থা অবলম্বন করছে এবং অর্থনীতির চাবিকাঠি চালু করার জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর ধারাবাহিকতায় পর্তুগাল ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক আয়োজন হাতে নিয়েছে যেমন, ইউরোপের ফুটবলের চ্যাম্পিয়ন লিগ ফাইনাল এই মাসে শেষ দিকে রাজধানী লিসবনে আয়োজন করা হচ্ছে এবং আন্তর্জাতিক ফর্মুলা ওয়ান অক্টোবর ও মটো জিপি রেস নভেম্বরে পর্তুগালের পর্যটন নগরী খ্যাত আলগার্ভে আয়োজন হতে যাচ্ছে।

কিছুটা পর্যটন অধ্যুষিত দেশটি নিজের মাথা তুলে দাঁড়ানোর সকল প্রচেষ্টাই করে যাচ্ছে সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত এবং পর্যটকদের আকৃষ্ট করার জন্য উপরোক্ত আয়োজন গুলো নিঃসন্দেহে প্রশংসা দাবি রাখে। তাছাড়া এখানে প্রবাসী বাংলাদেশীদের বেশিরভাগ অংশই পর্যটন নির্ভর কর্মকাণ্ডের সাথে সম্পর্কিত সুতরাং পর্যটনের ঘুরে দাঁড়ানো প্রবাসী বাংলাদেশীদের হালে পানি পাওয়ার মত। তাই সকলে আশা ব্যক্ত করছেন সংক্রমণ এবং মৃত্যুর হারের নিম্নগতি তথাপি সরকারের আন্তর্জাতিক আয়োজনের কারণে পর্তুগালের পর্যটনশিল্প পূর্বের ন্যায় না হলেও কিছুটা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে এবং আমাদের বাংলাদেশী প্রবাসীদের মুখে হাসি ফোটাবে।

ইত্তেফাক/এমআর

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত