ফিলাডেলফিয়ার রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের দাপট বাড়ছে

ফিলাডেলফিয়ার রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের দাপট বাড়ছে
মোহাম্মদ হারিস। ছবি সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের পেনসিলভানিয়া রাজ্যের ফিলাডেলফিয়ায় রাজনীতিতে বাংলাদেশিদের প্রভাব বেড়েই চলেছে। সেখানে ব্যাপারখানা এমন হয়েছে, বাংলাদেশিরা বিদ্রোহী প্রার্থী হিসেবে কেউ দাঁড়ালেও অনায়াসে জয় পেয়ে যান!

বাংলাদেশি অভিবাসীরা কীভাবে ফিলাডেলফিয়ার রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠছেন এ নিয়ে স্থানীয় গণমাধ্যম এনকোয়ারার প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। সেখানে বাংলাদেশি অভিবাসী মোহাম্মদ হারিসের কথা তুলে ধরেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৮ সালে ডেমোক্রেটিক পার্টি পজিশনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চেয়েও অনুমতি পাননি হ্যারিস। সিক্সথ ওয়ার্ডের ডেমোক্রেটিক লিডার পিট উইলসন তাকে বলেন, তার আসনে যে নারী আছেন তিনি ভালোই করছেন। উইলসনের ভাষায়, হারিস বাংলাদেশি কমিউনিটির হওয়ায় ভরসা রাখার মতো নন!

তবে যা ঘটে তা অবাক করার মত। হারিস এরপর একাই জিতে আসেন।

ওই বছর হারিসের পাশাপাশি কমিউনিটিতে আরও তিনজন বাংলাদেশি জয় পান। তারা এখন প্রবাসীদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।

ফিলাডেলফিয়া এমন একটি নগর যেখানে ‘বাইরের’ বিদ্রোহীরা প্রায়ই প্রতিষ্ঠিতদের হারিয়ে দেন। এনকোয়ারার জানিয়েছে, এই ধারাবাহিকতা বাংলাদেশিরা রীতিমতো অন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

এছাড়া সর্বশেষ পেনসিলভানিয়া অঙ্গরাজ্যের প্রাইমারি নির্বাচনে অডিটর জেনারেল পদে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নিনা আহমেদ ডেমোক্রেটিক পার্টির প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

মূল নির্বাচনে জয়ী হলে ২৩৩ বছরের ইতিহাসে এই প্রথম কোনো বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজ্য পর্যায়ের একটি সম্মানজনক পদে নির্বাচিত হবেন। এনকোয়ারারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত জুনে নিনা যখন প্রার্থী হিসেবে নির্বাচিত হন তখন তার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েও দমানো যায়নি।

১৯৮৬ সালে হারিস চট্টগ্রাম থেকে স্টুডেন্ট ভিসায় প্রথমে নিউ ইয়র্কে আসেন। প্রথম দিকের দিনগুলোতে বাংলাদেশিদের দিনগুলো অনেক কষ্টের ছিল বলে জানান হারিস। চার সন্তানের জনক হারিস বলেন, আমি এজন্য কাঁদি মাঝে মধ্যে।

বাংলাদেশ কমিউনিটি অব পেনসিলভানিয়ার বাংলাদেশি নেতারা। ছবি সংগৃহীত

হারিস আরো বলেন, ১৯৮০-৯০ সালের দিকে যখন লটারি ভিসায় বহু সংখ্যক বাংলাদেশি আসতে শুরু করে তখন তারা তাদের সাহায্যের উদ্দেশ্যে বাংলাদেশি কমিউনিটি অব পেনসিলভানিয়া নামে সংস্থা গড়ে। তাদের চাকরি, বাচ্চাদের জন্য ভাল স্কুল, ছোট ব্যবসায়ের জন্য আর্থিক সাহায্য এসবের জন্য গড়ে তুলে সংস্থাটি।

২০১৮ সালের জরিপ অনুযায়ী, ফিলাডেলফিয়ায় মাত্র ১ হাজার ৭৩৫ জন বাংলাদেশি বসবাস করেন। অথচ এই অঞ্চলের মোট জনসংখ্যা ১৫ লাখের বেশি। সংখ্যায় কম হয়েও স্থানীয় রাজনীতিতে বাংলাদেশিরা যেভাবে প্রভাব বিস্তার করছেন তা দেখে প্রতিষ্ঠিতরা বলছেন, ‘প্রবাসীদের নিয়ে আরও ভাবতে হবে।’

ইত্তেফাক/এসআর

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত