সীমান্ত বন্ধ: কলকাতায় আটকে পড়েছেন সহস্রাধিক বাংলাদেশি

সীমান্ত বন্ধ: কলকাতায় আটকে পড়েছেন সহস্রাধিক বাংলাদেশি
বেনাপোল স্থলবন্দর। ছবি: ইত্তেফাক

ভারতে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ভয়ঙ্কর আকার ধারণ করেছে। এই পরিস্থিতিতে ভারতের সঙ্গে সীমান্ত বন্ধ করে দিয়েছে বাংলাদেশ। গত ২৬ এপ্রিল থেকে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়েছে। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভারতে অবস্থানরত বাংলাদেশের নাগরিকদের দেশে ফেরার ক্ষেত্রে এনওসি বা ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এ কারণে কলকাতাসহ পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন প্রান্তে আটকে পড়েছেন সহস্রাধিক বাংলাদেশি।

এর মধ্যে অসুস্থ এবং চিকিত্সা করাতে আসাদের সংখ্যাই বেশি। এরকম সাড়ে আটশো বাংলাদেশিকে দেশে ফেরার জন্য ছাড়পত্র দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে কলকাতাস্থ বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশন। আরও পাঁচশোর বেশি মানুষ ছাড়পত্র পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছেন। এদিকে, করোনা সংক্রমণের ঢেউ লেগেছে কলকাতার বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনেও। আক্রান্ত তিন কর্মকর্তাসহ ২০ জনের বেশি। এমন পরিস্থিতিতে মিশনের কার্যক্রম বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে।

ময়মনসিংহ থেকে ক্যান্সার আক্রান্ত স্ত্রী রাখী ঘোষের চিকিত্সা করাতে কলকাতায় এসেছেন অ্যাডভোকেট অরুণ ঘোষ। তিনি জানান, ২০ এপ্রিল স্ত্রীর কেমো শেষ হয়েছে। অ্যাপোলোয় চিকিত্সা চলছিল। ফিরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি এমন সময় সীমান্ত বন্ধের সিদ্ধান্ত এসেছে। তবে বাংলাদেশ উপ-হাইকমিশনের পক্ষ থেকে দ্রুত এনওসি দেওয়া হয়েছে। টাঙ্গাইলের ব্যবসায়ী মোহম্মদ ফারুক হাসান গত বছর ভারতে এসে লকডাউনের কারণে আটকে পড়েছিলেন। ভিসা শেষ হয়ে যাওয়ায় দেশে ফিরতে পারেননি। ভারতের এফআরআরও-র দেওয়া এগজিট পারমিট নিয়ে দেশে ফিরবেন এমন সময় নিষেধাজ্ঞা জারি হয়। কয়েকদিনের মধ্যে যেতে না পারলে এগজিট পারমিট বাতিল হয়ে যেত। তিনি বলেন, দ্রুত এনওসি পাওয়ায় ঝামেলা এড়াতে পেরেছি।

এদিকে উপ-হাইকমিশনে প্রায় ২০ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারী করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। হাইকমিশনের কাউন্সেলর (কনস্যুলার) মোহম্মদ বসির উদ্দিন জানিয়েছেন, করোনা আক্রান্ত হওয়ায় বিভাগের একাধিক কর্মী এখন কাজে নেই। তারপরও বাংলাদেশ থেকে আসা অসুস্থ মানুষজন যাতে দ্রুত, নির্বিঘ্নে দেশে ফিরতে পারেন তার জন্য গভীর রাত পর্যন্ত আমরা কাজ করছি।

ইত্তেফাক/এসআই

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x