যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নতুন কমিটি কবে হবে?

মেয়াদ ৩ বছর, চলছে ১০ বছর!

মেয়াদ ৩ বছর, চলছে ১০ বছর!
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সমাবেশ [ছবি: ইত্তেফাক]

২০১১ সালে নিউইয়র্কের ম্যানহাটনের হোটেল হিলটনে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কমিটি ঘোষণা করেছিলেন দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিন বছর মেয়াদের কমিটি পার করেছে ১০ বছর। এই দীর্ঘ সময়ে দেশের দলীয় রাজনীতির স্বার্থে যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগ সকল আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছে। দলের সভাপতির কাছে সেই ভূমিকা ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে বিভিন্ন সময়। তবুও নতুন নেতৃত্ব চান দলের নেতা-কর্মীরা। নিজেরাও আসতে চান নেতৃত্বে। এসব নিয়ে বিভিন্ন সময়ে নেতৃত্বের সংকট তৈরি হলেও নতুন কমিটির ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত আসেনি দীর্ঘদিনেও।

প্রথম তিন বছর পেরিয়ে যাবার পর প্রতি বছর যখনই শেখ হাসিনা নিউইয়র্কে এসেছেন, নেতৃত্ব প্রত্যাশী নেতা-কর্মীরা কমিটি চেয়েছেন। কিন্তু তাতে সায় দেননি দলের প্রধান। এবার জাতিসংঘের অধিবেশনে আগমন উপলক্ষে জোরালো হচ্ছে নতুন কমিটির দাবি। ত্যাগী নেতাদের পাশাপাশি নিষ্ক্রিয় নেতারাও সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। সবারই লক্ষ্য কমিটির পদ। কেউ চান শীর্ষ পদ, আবার কেউ চান ছোট পদ। কিন্তু আদৌ কি কমিটি ঘোষণা করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, সে জল্পনা চলছে সবখানে।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে সাধারণ সম্পাদক ছিলেন সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ। কিন্তু সভাপতির সঙ্গে নেতৃত্বের দ্বন্দ্বে তাকে সরে দাঁড়াতে হয়েছে। নিয়ম অনুযায়ী প্রথম যুগ্ম সম্পাদক নিজাম চৌধুরীর ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হবার কথা ছিল। কিন্তু একই ধরনের কোন্দলে জড়িয়ে নিজাম চৌধুরীর বদলে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পান যুগ্ম সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ। সেই থেকে দীর্ঘসময় ধরে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নড়েচড়ে বসেছেন অনেকে। নেতৃত্ব প্রত্যাশীরা মনে করছেন, দলের প্রধান এবার কমিটি ঘোষণা করতে পারেন। তবে অধিকাংশ নেতা-কর্মী মনে করছেন, এবার কমিটির ঘোষণার কোনো সম্ভাবনা নেই। তবে, সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে নেতৃত্বের দৌড়ে অনেকে সামনের সারিতে রয়েছেন। এমনকি বর্তমান সভাপতি ড. সিদ্দিকুর রহমানও নতুনভাবে নেতৃত্ব নিতে সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছেন। এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি ইত্তেফাককে বলেন, আমাদের নেত্রীর সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। নেত্রী যদি আমাকে পুনরায় সভাপতির দায়িত্ব দেন তাহলে তা পালনে সদা প্রস্তুত আছি। তিনি বলেন, নতুন কমিটি নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই। নেত্রী যা ভালো মনে করবেন তাই করবেন। তবে আমার ওপর নেত্রী যে দায়িত্ব দিয়েছেন তা পালন করছি, এটাই আমার ব্রত।

ড. সিদ্দিকুর রহমান বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগে অনেক ত্যাগী নেতা-কর্মী রয়েছেন। তারা সবাই নেতৃত্ব পাবার যোগ্য। তবে কিছু নেতা-কর্মী রয়েছেন যারা সারা বছর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ডে বাধা সৃষ্টির চেষ্টা চালিয়েছেন। তাদের ব্যাপারে নেত্রীর কাছে সব তথ্য রয়েছে। তাদের অনেকেই যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হতে চান।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে অনেকেই যোগ্য। তবে সাধারণ সম্পাদক পদে আমি অনেক নেতৃত্ব তৈরি করেছি, যাদের সবাই এই পদে যোগ্য।

সিদ্দিকুর রহমানের সঙ্গে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আব্দুস সামাদ আজাদ ভারমুক্ত হতে চান। প্রচার সম্পাদক দুলাল মিয়া এনাম সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী। এ লক্ষ্যে দীর্ঘদিন থেকে তিনি কাজ করছেন।

যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা ড. প্রদীপ রঞ্জন কর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের একটি ধারার নেতৃত্ব দিচ্ছেন। সভাপতি হিসাবে তিনিও নেতৃত্ব প্রত্যাশী। তার সঙ্গে রয়েছেন সাধারণ সম্পাদক পদে নেতৃত্ব প্রত্যাশী কাজী কয়েস। বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে তিনিও সক্রিয়।

সাধারণ সম্পাদক হিসাবে আরও যারা নেতৃত্ব প্রত্যাশী তারা হলেন, হিন্দাল কাদির বাপ্পা এবং মোহাম্মদ আলী সিদ্দিকী। তারাও দীর্ঘদিন থেকে দলের জন্য কাজ করছেন।

নতুন নেতৃত্ব প্রসঙ্গে ড. প্রদীপ রঞ্জন কর ইত্তেফাককে বলেন, নেত্রী যাকে দায়িত্ব দেবেন তাকেই আমরা মেনে নেব। কিন্তু ড. সিদ্দিকুর রহমানকে কেউ মেনে নেবেন না বলে দাবি করেন প্রদীপ কর। তিনি বলেন, দলের সভাপতির কাছে এবার আমরা কমিটি চাইবো। জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাবাব ফাতিমার মাধ্যমে আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাক্ষাত চেয়েছি। তিনি এ ব্যাপারে আমাদের পরে জানাবেন বলে জানিয়েছেন।

একটি সূত্র জানায়, এবার কমিটি ঘোষণার কোনো সম্ভাবনা নেই। কারণ প্রধানমন্ত্রীর এবারের সফরের কর্মসূচি সীমিত। দলের নেতা-কর্মীদের ভার্চুয়াল সমাবেশে বক্তব্য দেবেন তিনি। সেখানে কমিটির ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নাও আসতে পারে। দলের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা চান, করোনা পরিস্থিতি ভালো হলে অতীতের মত নেতা-কর্মীদের উপস্থিতিতে কমিটি ঘোষণা দিতে। সেটি আগামী বছরই হতে পারে।

অন্য একটি সূত্র জানায়, যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের কমিটি হয়েছে ২০১০ সালে। এরপর আর সেখানে কমিটি হয়নি। শেখ হাসিনা চান যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের কমিটি একই সময়ে ঘোষণা করতে। সে হিসাবে এবছর যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের কমিটি নাও হতে পারে। তবে সবকিছু নির্ভর করছে দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর। দলীয় প্রধানের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত।

ইত্তেফাক/এমআর

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x