ট্রুডোর ফের জয়ে বাংলাদেশের প্রত্যাশা

ট্রুডোর ফের জয়ে বাংলাদেশের প্রত্যাশা
ভোট দিচ্ছেন ট্রুডো।

পুনরায় কানাডার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হওয়ায় জাস্টিন ট্রুডোকে নিউ ইয়র্ক থেকে অভিনন্দন জানিয়েছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি আশা প্রকাশ করেন, দুই দেশের ঐতিহাসিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে।

কানাডার হাউস অব কমন্সে ৩৩৮টি আসনের বিপরীতে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ১৭০টি আসনের প্রয়োজন। জাস্টিন ট্রুডোর দল লিবারেল পার্টি ১৫৮টি আসন নিয়ে আবারও মাইনরিটি সরকার গঠন করছেন।

গত ১৫ আগস্ট সংসদ ভেঙে দিয়ে মধ্যবর্তী জাতীয় নির্বাচনের ডাক দিয়েছিলেন ট্রুডো। তবে নির্বাচনকে বিরোধীদল ও কানাডিয়ানরা ভালোভাবে নেননি। তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ছিলেন প্রধানমন্ত্রী।

এ বিষয়ে নির্বাচনী প্রচারণার সময় জাস্টিন ট্রুডো জানিয়েছিলেন, অর্থনৈতিকভাবে চাঙ্গা করার জন্য মধ্যবর্তী নির্বাচনের বিকল্প ছিল না। যেহেতু মাইনরটি সরকার হওয়ায় সংসদে বিল পাস করতে আটকে যাচ্ছিল। তাই নির্বাচন অনিবার্য হয়ে পড়েছিল।

৬০০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে অনুষ্ঠিত ৪৪তম নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যাচ্ছে- লিবারেল পার্টি ১৫৮টি, কনজারভেটিভ ১১৯টি, ব্ল্যাক কুইবেক ৩২টি, এনডিপি ২৫ এবং গ্রিন পার্টি দুটি আসন পেয়েছে।

২০১৯ সাল অর্থাৎ গত নির্বাচনে লিবারেল ১৫৭টি, কনজারভেটিভ ১২১টি, ব্ল্যাক কুইবেক ৩২টি, এনডিপি ২৪, গ্রিন পার্টি তিনটি ও ইন্ডিপেন্ডেন্ট পার্টি একটি আসন পেয়েছিল। সংসদের ৩৩৮টি আসনে ভোটার দুই কোটি ৭০ লাখ।

গতবারের তুলনায় দুটি আসন কম পেয়েছে প্রধান বিরোধী কনজারভেটিভ পার্টি। তাদের মোট আসন সংখ্যা ১১৯টি। যদিও ভোটের ব্যবধানে তারা এগিয়ে। কনজারভেটিভ পার্টি মোট ভোট পেয়েছে ৫৪ লাখ ৩২ হাজার ৪১টি। অন্যদিকে লিবারেল পার্টি মোট ভোট পেয়েছে ৫১ লাখ ৫৫ হাজার ৯৪৭টি। এবার আসনের দিক দিয়ে ব্ল্যাক কুইবেক তৃতীয় স্থানে থাকলেও এনডিপি ১৭.৭১ শতাংশ ভোট পেয়ে তৃতীয় স্থানে রয়েছে। আর ব্ল্যাক কুইবেক পেয়েছে ৭.৯১ শতাংশ ভোট।

ব্লক কুইবেকিস ৩৪টি আসন নিয়ে রয়েছে তৃতীয় অবস্থানে। ২০১৯ এর নির্বাচনে তারা ৩২টি আসন পেয়েছিল। নিউ ডেমোক্রেটিক পার্টি (এনডিপি) গতবারের চেয়ে এক আসন বেশি পেয়েছে। মোট ২৫টি আসন নিয়ে তাদের অবস্থান চতুর্থ। এনডিপি মোট ভোট পেয়েছে ২৮ লাখ ৩১ হাজার ২৬৩টি। ব্লক কুইবেকিস পেয়েছে ১২ লাখ ৩৯ হাজার ৩০১ ভোট। এছাড়া দুটি আসন পেয়েছে গ্রিন পার্টি। পিপলস পার্টি কোনো আসন পায়নি।

আর আট বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত প্রার্থী বিজয় অর্জন করতে না পারলেও কমিউনিটিতে তারা বিপুল সাড়া জাগিয়েছেন। তবে ‘‘বাংলাদেশিদের কানাডিয়ান মন্ত্রী’ বলে খ্যাত কানাডার সীমান্ত নিরাপত্তা এবং অপরাধ নিয়ন্ত্রণ বিষয়কমন্ত্রী বিল ব্লেয়ার টরন্টোস্থ স্কারবোরো সাউথওয়েস্ট আসন থেকে দ্বিতীয় বারের মতো নির্বাচিত হলেন।

তৃতীয় মেয়াদে ট্রুডো প্রধানমন্ত্রী হলেও তার স্বপ্ন পূরণ হলো না। সংখ্যা গরিষ্ঠতার জন্য তিনি মধ্যবর্তী নির্বাচন দিয়েছিলেন। কিন্তু তার দল একক সংখ্যাগরিষ্ঠ আসন পায়নি। অভিবাসীবান্ধব বলে খ্যাত লিবারেল পার্টির প্রধান ট্রুডো তৃতীয় বারের মতো প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিবেন এ সপ্তাহেই।

ইত্তেফাক/ইউবি

  • সর্বশেষ খবর
  • সর্বাধিক পঠিত
আরও
আরও
x