মাস্টারকার্ড ও ক্রিসেন্ট রেটিংয়ের প্রকাশিত সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর ২৮ শতাংশ মুসলিম নারী একা ভ্রমণ করেছেন। গত বছর আনুমানিক ৬ কোটি ৩০ লাখ মুসলিম নারী ভ্রমণকারী তাদের ভ্রমণের পেছনে ৮০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয় করেছেন। বিশ্বব্যাপী ভ্রমণের বাজারের আকার ও প্রভাব ক্রমাগত বৃদ্ধি পাওয়ায় আগামীতে এই ভ্রমণকারীর সংখ্যা আরো বৃদ্ধি পাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এই ভ্রমণকারীদের প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের বয়স ৪০ বছর বা তার চেয়ে কম, যা সুস্পষ্টভাবে ইঙ্গিত দেয় যে তরুণ মুসলিম নারীরা পর্যটনশিল্পে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছেন। অর্ধেকের বেশি এই মুসলিম নারী তাদের ভ্রমণ গন্তব্যে থাকা-খাওয়াসহ যাবতীয় সব তথ্যের জন্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর সহায়তা নিয়েছেন।
‘ক্রমবর্ধমান মুসলিম নারীদের ভ্রমণবাজারে এই অগ্রগতি সত্ত্বেও খাতটি নিয়ে আজ পর্যন্ত খুব স্বল্প পরিসরে গবেষণা করা হয়েছে। এই গবেষণা অভ্যন্তরীণ ও বহিরাগত ভ্রমণশিল্পকে আরো ভালোভাবে বুঝতে নারী ভ্রমণকারীদের একটি পরিষ্কার ধারণা দিতে সহায়তা করবে। একাধিক মুসলিম নারী ভ্রমণকারীর অতীত ও ব্যক্তিগত প্রোফাইল পর্যালোচনার পরে প্রতিবেদনটি এ খাতের স্টেকহোল্ডারদের ট্রাভেল ইন্ডাস্ট্রিকে আরো ভালোভাবে পরিচালিত করতে সাহায্য করবে’ বলে মন্তব্য করেছেন ক্রিসেন্ট রেটিং ও হালাল ট্রিপ মার্কেটিং বিভাগের প্রধান রৌধা জাইনি।
মুসলিম নারীদের ভ্রমণের মূল বিষয় লাইফস্টাইল ও কমিউনিটি ভ্যালু: অন্যান্য খরচ ও ব্যয় বাদ দিয়ে নারীদের কাছে আগের চেয়ে বেশি অর্থ থাকছে, যার ফলে বেশির ভাগ নারীই ইদানীং প্রতি বছর কমপক্ষে দুই থেকে তিনবার বিদেশে ভ্রমণ করছেন। ভ্রমণের ক্ষেত্রে অবসরকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয় ৯০ শতাংশ, ধর্মীয় ক্ষেত্রে ২১ শতাংশ এবং ব্যবসায় ১১ শতাংশ। প্রকাশিত এই রিপোর্টে আরো দেখা যায় যে নারীরা ভ্রমণ পরিকল্পনায় যথেষ্ট প্রভাব ফেলছেন। তবে বেশির ভাগ, অর্থাত্ ৭১ শতাংশ নারী পরিবারের সঙ্গে ভ্রমণ করেন এবং সে জন্যে তারা পরিবারবান্ধব গন্তব্যগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে থাকেন।
নিরাপত্তা ও ধর্মীয় সুযোগ-সুবিধাগুলোকে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হয়: বিশ্বব্যাপী নারী ভ্রমণকারীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে এবং সুরক্ষার মতো বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। ভ্রমণকারীরা তাদের ভ্রমণের ক্ষেত্রে ধর্মীয় সুযোগ-সুবিধাগুলো এক করেছেন। জরিপে দেখা গেছে, ৯৪ শতাংশ উত্তরদাতা ভ্রমণের অগ্রাধিকার হিসেবে হালাল খাবারকে প্রাধান্য দিয়েছেন। ধর্মীয় সুবিধাগুলোর মধ্যে ৮৬ শতাংশ নারী প্রার্থনাকক্ষ এবং ৭৯ শতাংশ স্পা ও বিউটি সেলুনের কথা বেশি উচ্চারণ করেছেন। তাদের বিশ্বাসের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে রয়েছে সামাজিক ন্যায়বিচার। ৭৩ শতাংশ বিদেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে ইকো-ট্যুরিজম পছন্দ করেন।
‘তরুণ নারী ভ্রমণকারীরা বিশ্ব দেখতে প্রস্তুত। এই তরুণ নারী ভ্রমণকারীরা ইন্ডাস্ট্রি সেবাদাতাদের তথ্য দিতে প্রস্তুত, যারা নারীদের মূল্যবোধের মর্যাদা রাখেন ও সম্প্রদায়কে স্বাগত। মাস্টারকার্ড ও ক্রিসেন্ট রেটিংয়ের নতুন প্রতিবেদনের উদ্দেশ্য হচ্ছে, শিল্পের অংশীদারদের পণ্য ও পরিষেবাদি আরো বেশি বিশ্বাসযোগ্যভাবে তৈরি করা, যা আগামীতে আরো বেশি কাজে লাগে।’ বলেন আইশা ইসলাম, ভাইস প্রেসিডেন্ট, মার্কেট প্রোডাক্ট ম্যানেজমেন্ট, মাস্টারকার্ড।