প্রীতি-বেশী প্রতিবেশী

পাড়ার একেবারে কোণের দিকের একটা বাড়ি কিনে নিয়েছেন এক লোক। এই এলাকায় একেবারে নতুন লোকটা। কোণার দিকে বলে তার বাড়ির ওদিকটাতে হিরুদের যাওয়াও হয় কম। একদিন কোনো এক কারণে সেদিকটাতে গিয়ে হিরুর চোখ পড়ল একটা সাইনবোর্ডে।

বাড়ির দরজায় সাইনবোর্ডে বড় বড় করে লেখা—‘আমার স্ত্রী গত দুদিন ধরে নিখোঁজ। এ ব্যাপারে কারোর কোনো মাথা ব্যথার দরকার নেই!’

হিরুর চক্ষু চড়কগাছ। এ আবার কেমনতর বিজ্ঞপ্তি। বাড়ির মালিক রমিজউদদীন পাটোয়ারী। হিরুদের প্রতিবেশী হলেও তার সাথে ওদের তেমন একটা ভাব-সাব নেই। তবে হিরু শুনেছে, লোকটা নাকি অনেক আন্তরিক। আর মিশুকও বেশ। আর এতটাই আন্তরিক যে নিজের ‘ঘরের কথা পরে জানল ক্যামনে’ কথাটা তার বেলায় কাঁটায় কাঁটায় মিলে যায়। ঘরের কথাটা পরকে জানাতে তার মতো প্রীতিময় প্রতিবেশীর দেখা খুব কমই মিলবে।

তবে, প্রথম প্রথম তাকে তার প্রতিবেশীরা খুব একটা ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে গ্রহণ করেনি। প্রথমত, অন্যরা তাকে খুবই সুযোগ সন্ধানী একজন মানুষ বলে ধরে নিয়েছিল। তার পেছনে অবশ্য কারণও আছে। সে এ পাড়ায় আসার কদিনের মাথায় পাড়ায় প্রবল জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। পাড়ার লোকজন মিটিংয়ে বসে—জল নিষ্কাশনে আজ থেকেই কাজ শুরু করে দিতে হবে। সেই মিটিংয়েই রমিজউদদীন পাটোয়ারী সকলকে অনুরোধ জানান, ‘পানি নিষ্কাশনের কাজটা এক-দুদিন পর করা যায় না?’

সকলে অবাক। এ আবার কেমন কথা! যত তাড়াতাড়ি জল সরানো যাবে, ততই মঙ্গল। রাজি হলো না কেউ! তাকে একপাশে রেখে সকলে জল সরানোর কাজে লেগে পড়ল। এরই মাঝে তারা অবাক হয়ে লক্ষ করল, জনাব রমিজউদদীন পাটোয়ারী আবদ্ধ জলে সারা গায়ে সাবান মেখে মনের সুখে গোসল সেরে নিচ্ছেন!

রমিজউদদীন পাটোয়ারী আগে পুলিশের সার্জেন্ট ছিলেন। অবসরে গেছেন তাও বহু বছর হলো। কিন্তু অভ্যাস ছাড়তে পারেননি। পাড়ার ছেলে-ছোকরাদের গাড়ি প্রায়ই আটকে দেন। অবসরে গেলেও পুলিশের লোকজনের সঙ্গে এখনো ভালোই সদ্ভাব রয়েছে। ওদিকে, ছেলে-ছোকরাদের গাড়ির কাগজপত্রেও ঘাপলা থাকে। দুটো সুযোগই তিনি নেন। খাপমতো পেলেই কথার বানে ঘায়েল করেন তাদেরকে। একদিন, পাড়ায় একজন ময়লার গাড়ি নিয়ে এসেছিল। এর আগে তাকে মোটরসাইকেল, ট্রাক ইত্যাদি চালানোর সময় বেশ ক’বার কথার বিষ মেরেছেন রমিজউদদীন পাটোয়ারী। অভ্যাসমতো সেদিনও আটকালেন। ‘এত জোরে গাড়ি চালাচ্ছ, বিষয়টা কী!’

ছেলেটা যে খুব বেশি স্পিডে চালাচ্ছিল, তাও নয়। তবুও বেশ বিনয়ী সে, ‘স্যার, তাড়া আছে একটু... তাই।’

‘লাইসেন্স, ব্লু বুক বের করো।’

‘স্যার লাইসেন্স, ব্লু বুক সাথে নাই। বাসায়।’ মিথ্যে বলল সে। লাইসেন্স, ব্লু বুক তার সঙ্গেই আছে।

‘তাই?’

‘নইলে স্যার আপনে ইচ্ছে করলে গাড়ির সব মাল সিজ করেন।’

রমিজউদদীন পাটোয়ারী পড়লেন বেকায়দায়। নিজের বাড়ির সামনে ময়লার গাড়ি আটকেছেন তিনি। গাড়ির সব মালামাল সিজ করে তিনি করবেনটাই বা কী! বাধ্য হয়ে আমসি মুখে গাড়ি ছেড়ে দিতে হলো তাকে।

এই ঘটনার পরে এলাকায় নিজের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করার লক্ষ্যে তিনি সবার সঙ্গে মেশার চেষ্টা করে যাচ্ছেন।

 

রমিজউদদীন পাটোয়ারীর বাড়িতে ভাড়া থাকত মিলন বাটালিওয়ালা নামের এক লোক। সেদিন চায়ের দোকানে তিনি সেই মিলন বাটালিওয়ালার প্রসঙ্গ তুললেন।

‘আর বলবেন না, আমার ভাড়াটে প্রতি রাতে এক বোতল মদ খেয়ে হৈ-হুল্লোড় করত।’

‘কী বলেন! আপনার বাড়িতে এমন কাণ্ড! এত্ত বড় সাহস!’ অন্যরা বিস্মিত।

‘তারপর তাকে ভালোমতো শাসিয়ে দিলাম। এখন সে আর টু-শব্দটি পর্যন্ত করে না।’

‘তা না করারই কথা। আপনি ছুঁলেও তো ছত্রিশ ঘাঁ!’

‘না মানে... এখন সে চার বোতল মদ খেয়ে ঝিম মেরে পড়ে থাকে কিনা!’ রমিজউদদীন পাটোয়ারী বেশ বিনয়ের সঙ্গে কথাটা বললেন।

এবারে অন্যরা একটু ক্ষেপে উঠলেন। ‘এটা মোটেও ঠিক হচ্ছে না ভাইসাব। আপনার উচিত মিলন বাটালিওয়ালাকে উচিত শিক্ষা দেওয়া।’

রমিজউদদীন পাটোয়ারী বললেন, ‘তারওপরে মিলন বাটালিওয়ালার তিন মাসের বাসা ভাড়া বাকি পড়ে গেছে।’

‘হায় হায়! লোকটা তো আপনাকে পেয়ে বসেছে। ওকে বাসা থেকে বের করে দিন।’

‘সেদিন তাকে বলেছিলাম—অন্য বাসা খুঁজে নিতে।’

‘ভালো করেছেন। তা সে কী বলল?’

‘সে একটু চিন্তিত হয়ে পড়ে বলল—তা নাহয় নিলাম। কিন্তু আপনার মতো বাড়িওয়ালা কি পাওয়া যাবে?’

‘তা অবশ্য যাবে না। আপনার মতো ভালো মানুষ ক’জন মেলে!’ অন্যরা আদিখ্যেতা দেখিয়ে বলল।

এমন প্রীতিময় প্রতিবেশী পেয়ে হিরুরা যারপরনাই খুশি। রমিজউদদীন পাটোয়ারীকে এভাবে মন খুলে কথা বলতে দেখে দেখে অন্যরাও তাদের মনের পর্দা খুলে দিলেন।

সেদিন এক প্রতিবেশী আরেকজনকে বলছিলেন, ‘আর বলবেন না ভাই, আমার বউ তো রান্নাঘরেই যেতে চায় না।’

অন্যজন বললেন, ‘আর আমার বউ ঠিক তার উল্টো। সারাদিন রান্নাঘরেই পড়ে থাকে।’

‘বাহ! কী সংসারী বউ আপনার!’

‘না, আমাদের বাসার টেলিফোনটা রান্নাঘরেই সেট করা যে!’

পাশ থেকে তৃতীয় একজন বললেন, ‘আপনারা আছেন স্ত্রীর রান্না ঘরে থাকা না থাকা নিয়ে। আর আমি যে গত সপ্তাহে পাঁচদিনের জন্য জেলখানা থেকে ঘুরে এসেছি, সে খবর কি আপনারা রাখেন?’

‘শুনেছিলাম আইন অমান্য করায় আপনার একশ টাকা ফাইন হয়েছে। সেটা না দিয়ে পাঁচ দিনের জেল ‘ভ্রমণ’ করার কারণটা কী?’ অন্যরা জানতে চাইল।

জেল ফেরত লোকটা বলল, ‘আমার বাসার বাবুর্চি পাঁচ দিনের ছুটিতে গিয়েছিল। ওই পাঁচদিন আমার স্ত্রীই রান্না করবে বলে বায়না ধরেছিল!’

রমিজউদদীন পাটোয়ারী এতক্ষণ সবার কথা শুনছিলেন। তিনি হঠাত্ বলে উঠলেন, ‘তবে, যে যাই বলেন, আমার বউয়ের জন্যই আমি এখনো বেঁচে আছি।’

‘ভাবি আপনার অনেক সেবা করেন বুঝি?’

‘না, আসলে তার হাতের টিপ মোটেও ভালো নয়।’ রমিজউদদীন পাটোয়ারীর সরল স্বীকারোক্তি।

সেদিন কথার মাঝে হিরু হঠাত্ এক বেফাঁস কথা বলে বসল, ‘কিন্তু লিফটের ঘটনাটা তো বললেন না...’

রমিজউদদীন পাটোয়ারী হঠাত্ চুপ মেরে যান। আর ভেতরে ভেতরে বেশ ফুঁসতে থাকেন।

অন্যরা ততক্ষণে হিরুকে চেপে ধরেছে। ‘কিসের লিফটের ঘটনা? তুমিই বলো, হিরু।’

রমিজউদদীন পাটোয়ারীকে চুপ করে থাকতে দেখে হিরুই বলতে শুরু করল, ‘ঘটনাটা ওনাদের বাসার লিফটম্যানের। সেদিন এক লোক তার স্ত্রীকে নিয়ে লিফটে ওঠার পরে হঠাত্ বিদ্যুত্ চলে গেল। ঘন অন্ধকার হয়ে গেল চারপাশ। লিফটবয় চুমু খেয়ে বসল লোকটাকে। উনি গর্জে উঠলেন, ‘এসব কী?’ তখন লিফটবয় কাঁচুমাচু হয়ে বলল, ‘মাফ করবেন, আপনার স্ত্রী ভেবে ভুল করে ফেলেছি!’

রমিজউদদীন পাটোয়ারী ওখান থেকে মানে মানে কেটে পড়লেন। অন্যরা বুঝতে না পারলেও, হিরু ঠিকই বুঝল, ঘটনাটা সকলের কাছে ফাঁস করে দেওয়ায় রমিজউদদীন পাটোয়ারী বেশ চটেছেন। যদিও অন্যরা বুঝতে পারেনি, ঘটনাটা তারই!

ঘটনার আকস্মিতায় হিরু বেশ টাস্কিত। ওভাবে বেফাঁস মন্তব্য করার পেছনে লোকটার হাসি হাসি মুখভঙ্গিই বেশি কাজ করেছে। কিন্তু তিনি এভাবে ক্ষেপে যাবেন কে জানত!

ঐ ঘটনার পরে হিরু তার সম্পর্কে আরও খোঁজখবর নিল। তাতে যা বেরোলো তা মোটেও সুখকর নয়। রমিজউদদীন পাটোয়ারীর দাম্পত্য জীবন সুখের নয়। স্বামী স্ত্রীকে এবং স্ত্রী স্বামীকে দমাতে বিভিন্নভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সেদিনের ঘটনা...

রমিজউদদীন পাটোয়ারীর শাশুড়ি বেড়াতে আসবেন। তিনি তার বাবুর্চিকে বললেন, ‘এই যে তার পছন্দের খাবারের তালিকা। আমি অনেক কষ্টে সংগ্রহ করেছি।’

বাবুর্চি বলল, ‘আমি এখনি রেঁধে ফেলছি, স্যার।’

তখন রমিজউদদীন পাটোয়ারী বাবুর্চিকে বলেন, ‘এগুলোর একটাও রেঁধেছ কি তোমার চাকরি শেষ!’

শুধু রমিজউদদীন পাটোয়ারীই নন, তার স্ত্রীও কম যান না। আরেকটা ঘটনা হিরুর কানে এলো...

একদিন রমিজউদদীন পাটোয়ারীর স্ত্রী তাকে বললেন, ‘আমাদের সন্তান খুব বদমেজাজি হয়েছে। কার কাছ থেকে এটা পেয়েছে, বলো তো?’

রমিজউদদীন পাটোয়ারী তাকে শায়েস্তা করতে বললেন, ‘যার কাছ থেকেই পাক, আমার কাছ থেকে পায়নি এটা শিওর।’

তার স্ত্রী বললেন, ‘তা ঠিক, কারণ তোমার বদমেজাজের পুরোটাই তো এখনো তোমার সাথেই আছে!’

হিরু তার প্রতিবেশী এই দম্পতির এমন কর্মকাণ্ড শুনে তাজ্জব। যার প্রসঙ্গ নিয়ে স্বামী-স্ত্রী একে অন্যকে জব্দ করতে চাইছে, হিরু এবার সেই একমাত্র সন্তানটির খোঁজখবর নেওয়ার চেষ্টা করল।

রমিজউদদীন পাটোয়ারীর একমাত্র সন্তান জারিন, বয়সে হিরুর কাছাকাছিই। বেশ সুন্দরী। হিরু মেয়েটিকে কব্জা করতে নানা কৌশল খাটাল। কিন্তু সবই ব্যর্থ। শেষ কৌশল হিসেবে একদিন সে জারিনকে বলল, ‘আমি তোমার জন্য আগুনেও ঝাঁপ দিতে পারি। পানিতেও লাফ দিতে পারি।’

জারিন মিষ্টি কণ্ঠে জবাব দিল, ‘পানিতে না, তুমি আগুনেই ঝাঁপ দাও।’

‘কেন?’ হিরু অবাক হবার ভান করে বলল।

‘রোস্ট আমার খুবই প্রিয়!’ জারিনের মিষ্টি-মধুর জবাব।

হিরুর আর বুঝতে বাকি রইল না, বাপকা বেটি!

ও বলল, ‘তোমার বাবার নিশ্চয়ই আফ্রিকায় পোস্টিং ছিল?’

জারিন মিষ্টি হাসি দিয়ে বলল, ‘হ্যাঁ, ওখানে আমার জীবনের মধুর সময়গুলো কেটেছে।’

‘বেশ, আমি চললাম।’

‘কোথায় যাচ্ছ?’ মেয়েটা উত্কণ্ঠিত। ‘তোমার প্রস্তাবে আমার কী জবাব—তা না শুনেই চলে যাবে?’

হিরুর বুঝতে বাকি রইল না, মেয়েটা তাকে ‘স্বভাব’বশত আগুনে ঝাঁপ দিতে বললেও, এখন আর সেটা বাস্তবে করতে বলবে না। বরং হিরু যদি তার সঙ্গে প্রেম এবং পরবর্তীতে বিয়ের সম্পর্কে জড়ায়, তাহলে স্বয়ংক্রিয়ভাবেই তার আগুনে ঝাঁপ দেওয়াই হয়ে যাবে!

হিরু তার প্রতিবেশী কন্যাটিকে বলল, ‘পরে শুনব।’

আর কোনো কথা না শুনে সে বাড়ির পথ ধরল।

 

ছয়মাস পরের ঘটনা। সেদিন হিরুরা খবর পেল, রমিজউদদীন পাটোয়ারী গঞ্জের দোকানে বিশ টাকার বিষ কিনতে গেছেন। খবরটা দোকানের ছেলেটা হিরুকে ফোনে জানিয়েছে। রমিজউদদীন পাটোয়ারীর কিপটেমির কথা হিরুর অজানা নয়। তার স্ত্রী একবার তাকে বলেছিলেন, ‘তোমার লজ্জা থাকা উচিত, গত মাসেই আমার মামা তোমাকে দুই হাজার টাকা দিয়েছেন!’

তখন রমিজউদদীন পাটোয়ারী তার ইস্ত্রী থুড়ি স্ত্রীকে বলেছিলেন, ‘তুমি কি চাও মাত্র দুই হাজার টাকায় আমি এক বছর লজ্জা ধরে রাখব?’

দোকানের ছেলেটা জানতে চাইল, ‘লোকটা আত্মহত্যা করতে চাইছে। কারণটা আপনার জানা আছে কি?’

কারণটা হিরুর জানা—পারিবারিক কলহ!

সেদিন বাসে এক মহিলা কথায় কথায় হিরুকে বলেছিলেন, ‘ছয়মাস ধরে আমার স্বামীর দেখা নেই। কোথাও তার দেখা না পেয়ে চিন্তায় শেষ হয়ে যাচ্ছি। পুলিশে খবর দেব—এমন সময় তার দেখা পেলাম।’

‘কোথায় পেলেন তাকে?’ হিরু জানতে চেয়েছিল।

‘আর বলবে না, একদিন সন্ধ্যায় হঠাত্ করে বাড়ি ফেরার ইচ্ছে হয়। গিয়ে দেখি ঠিকই বসে আছে!’ মহিলাটি জানিয়েছিলেন ওকে। সেই সঙ্গে এটাও বললেন, তিনিই রমিজউদদীন পাটোয়ারীর এক ও অদ্বিতীয় স্ত্রী!

আর বাসায় ফিরে নোটিসবোর্ডে টাঙানো রমিজউদদীন পাটোয়ারীর বিজ্ঞপ্তিটি (প্রথমে উল্লিখিত) দেখার পরে তিনি কী কাণ্ড করেছিলেন, তা সহজেই অনুমেয়। হয়তো, সেই কাণ্ডের জেরেই এখন সে আত্মহত্যা করতে চাইছে।

দোকানের ছেলেটাকে হিরু অন্য কিছু না বলে শুধু বলল, ‘ওনাকে বলো বিশ টাকার কোনো বিষ নাই। এক দাম চারশ বিশ টাকা।’ হিরু জানে এতেই কাজ হবে। বিষ কিনতে গিয়ে কিপটে রমিজউদদীন পাটোয়ারীর বিষক্ষয় হবেই!

একটু পরে আবারও দোকানদার ছেলেটার ফোন, ‘ভাই, লোকটা তো নাছোড়বান্দা, বলে এক ফোঁটা বিষ হলেও দিতে। প্রয়োজনে বিষে ভেজাল আইমিন পানি মেশাবেন। কিন্তু বিষ কিনতে উনি কিছুতেই বিশ টাকার বেশি দিতে পারবেন না।’

হিরু বলল, ‘আচ্ছা, তাহলে ওনাকে একটা কাচের বোতলে একটুক কোল্ড ড্রিংক্স ঢেলে দিয়ে দাও। বাকিটা তুমি খেয়ে নিও। আর টাকাটা আমার থেকে নিও।’

‘আচ্ছা ভাই।’ ছেলেটা ফোন রাখল।

 

সেদিন বিকেলেই চায়ের দোকানে রমিজউদদীন পাটোয়ারীর দেখা। সুন্দর একটা বোতলের ছিপি খুলে লোকটা কী জানি খেতে শুরু করেছে।

হিরু কৌতূহলী হয়ে জানতে চাইল, ‘এত মজা করে কী খাচ্ছেন? আমাকেও একটু দিন না!’

রমিজউদদীন পাটোয়ারী সোত্সাহে বোতল থেকে কিছুটা পানীয় ঢেলে হিরুর দিকে বাড়িয়ে দিয়ে বললেন, ‘এই নাও, তুমিও খাও।’

খাওয়ার পরে ও বুঝতে পারল, এটা কোল্ড ড্রিংক্স। মুহূর্তেই সকালে রমিজউদদীন পাটোয়ারীর বিষ কেনার কথাটা মনে পড়ল। ও অভিনয় করে বলল, ‘এ কী খাওয়ালেন, আমার কেমন জানি লাগছে!’

রমিজউদদীন পাটোয়ারী বললেন, ‘আত্মহত্যা করতে যা খেতে হয়, তাই খাচ্ছিলাম। তুমি প্রতিবেশী মানুষ, চাইলা তাই না দিয়া পারলাম না। কিন্তু কথা হলো আমরা কেউ মরতেছি না কেন!’

হিরু মুচকি হেসে বলল, ‘বোতালের বিষটা আপনার স্ত্রী খেয়ে নিয়েছেন। আপনি মারা যাবেন—এটা তিনি চান না, তারচে তিনি নিজেই মরবেন...’

‘কী!’ রমিজউদদীন পাটোয়ারী বিস্মিত। ‘বউ আমাকে এত্ত ভালোবাসে!’

ওদিকে, কিপটে রমিজউদদীন পাটোয়ারীর স্ত্রীকেও হিরু বুঝ দিয়ে এসেছে, তাকে জ্বালিয়ে তার স্বামীটি এখন অনুতপ্ত। তাই বিষ খেতে চাইছেন। সে কথা শুনে তার স্ত্রীও নিজের ভুল বুঝতে পারলেন।

এভাবে হিরুর এই প্রতিবেশী দুজন সুখে শান্তিতে বসবাস করতে লাগল!

ওদিকে ‘বিয়ে করবে কবে?’ প্রতিবেশী কন্যা জারিনের এই কথার তোড়ে হিরুর এখন মাথা প্রায় নষ্ট হওয়ার দশা!   g