সুন্দরবনে কোনোভাবেই হরিণ শিকারিদের তত্পরতা রোধ করা যাচ্ছে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কঠোর নজরদারি সত্ত্বেও থেমে নেই হরিণ শিকার। সুন্দরবন এলাকা থেকে প্রায়ই আটক হচ্ছে হরিণের মাংসসহ শিকারিরা। জানা গেছে, সংঘবদ্ধ শিকারি চক্র সুন্দরবন এলাকায় মাছ ধরার পাশ-পারমিট নিয়ে হরিণ শিকারে বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। শুধু হরিণ শিকারই নয় সুন্দরবন থেকে গাছও পাচার করছে এসব চোরাকারবারিরা।
বন বিভাগের তথ্যমতে, সুন্দরবন সংলগ্ন পাথরঘাটার বিভিন্ন এলাকা থেকে গত তিন বছরে অভিযান চালিয়ে ১ হাজার ৬৩ কেজি হরিণের মাংস, ১০টি হরিণের চামড়া, ৮টি মাথা ও ১৫টি পা উদ্ধার করা হয়। এতে পৃথক ৬ মামলায় ৩০ জনকে আসামি করা হয়। তবে শিকারিরা আটক হলেও আইনের ফাঁক-ফোকর গলে কিছু দিনের মধ্যেই মুক্ত হয়ে আবারও তারা সদর্পে ফিরে আসছে পুরোনো পেশায়। এছাড়া সবসময়ই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায় মূল হোতারা।সর্বশেষ গত ৬ অক্টোবর কোস্টগার্ড ও বন বিভাগের যৌথ অভিযানে উপজেলার রুহিতা মাজের চর এলাকা থেকে একটি ইঞ্জিনচালিত নৌকায় ৭৫০ কেজি হরিণের মাংস উদ্ধার করা হয়। এ সময় একজন শিকারিকে আটক করা হলেও বাকিরা পালিয়ে যায়।
উল্লেখ্য, উপকূলীয় এলাকা পাথরঘাটায় ৬ হাজার হেক্টর জুড়ে ৪টি সংরক্ষিত বনাঞ্চল রয়েছে। এর মধ্যে হরিণঘাটা, রুহিতা মাজের চর, বাইনচুটকি মাজের চর এলাকায় রয়েছে হরিণের অভয়াশ্রম। এসব দেখভালের জন্য বন অধিদপ্তরের একটি রেঞ্জ রয়েছে। এ রেঞ্জের অধীনে ১২০ জন জনবল থাকার কথা থাকলেও সেখানে রয়েছে মাত্র ২৪ জন। আর হরিণ শিকার নিয়ন্ত্রণ না হওয়ার জন্য এই জনবল সংকটকেই দায়ী করছে পাথরঘাটা বন বিভাগ। বন বিভাগের পাথরঘাটা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, বন বিভাগের নিয়মিত অভিযান চলছে। অভিযান জোরদার করতে পুলিশ, কোস্টগার্ড ও বন বিভাগের যৌথ অভিযানের পরিকল্পনা চলছে। আশা করি অচিরেই এ এলাকা থেকে হরিণ পাচার বন্ধ হবে।