হংকং আন্দোলনের শেষ কোথায়

কোনোভাবেই বিক্ষোভ থামছে না হংকংয়ে। গত কয়েক সপ্তাহ ধরে চীনবিরোধী বিক্ষোভ প্রদর্শন করে আসছেন গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনকারীরা। তাদের বেশিরভাগই তরুণ। কঠোর নিরাপত্তা টপকাতে প্রতিবারই পরিবর্তিত হচ্ছে আন্দোলন কৌশল। ব্যানার, পোস্টার আর দেওয়াল লিখনে জ্বালাময়ী স্লোগান। আন্দোলনের ধারা এখন কেবল মারমুখী নয়, বরং মরণমুখী। ১৯৯৭ সালে নিজের উপনিবেশ হংকংকে চীনের কাছে ব্রিটেন ফেরত দেওয়ার পর এটা সর্ববৃহত্ ও উন্মত্ত বিক্ষোভ। একে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের জন্য সবচেয়ে বড়ো চ্যালেঞ্জ বলে মনে করা হচ্ছে। চীনকে খণ্ডিত করার যে কোনো তত্পরতা নস্যাত্ করে দেওয়ার অঙ্গীকার রয়েছে তার।

সম্প্রতি কাউলুন শহরে বড়ো ধরনের বিক্ষোভে নামে কয়েক হাজার আন্দোলনকারী। জরুরি আইনকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে মুখোশ পরেই রাস্তায় নামে তারা। ভারী অস্ত্রশস্ত্র আর জলকামান নিয়ে সুসজ্জিত নিরাপত্তাকর্মীদের বিপরীতে নিজেদের শক্তি প্রদর্শনই তাদের লক্ষ্য। যদিও পুলিশ বলছে, এই বিক্ষোভ অবৈধ, আইনবিরোধী। যার মানে হলো রাস্তায় নামলেই গ্রেফতার। কিন্তু এসবের তোয়াক্কা করছে কে? একদিকে কড়া রোদ, অন্যদিকে রাস্তায় রাস্তায় গোয়েন্দা ক্যামেরা। এছাড়া যে কোনো সময় পুলিশের জলকামান, টিয়ার গ্যাস আর গ্যাস স্পের ঝুঁকি তো আছেই। এসব থেকে রক্ষা পেতে মুখোশধারী বিক্ষোভকারীদের হাতে তাই দেখা যায় ছাতা। ব্যানারে লেখা- নগরীর রাস্তাজুড়ে লেখা ‘হংকংকে মুক্ত করুন’, পোস্টারে আঁটা ‘হংকংবাসীর প্রতিরোধ’। দেওয়ালেও দেখা যায় স্লোগান ‘রক্তাক্ত হওয়ার চেয়ে মরা ভালো’। কাউলুন এলাকার মেট্রো  স্টেশনে একটি গ্রাফিতিতে বিক্ষোভকারীরা লিখেছে ‘নতজানু হওয়ার চেয়ে সোজা পায়ে মৃত্যুবরণকেই আমরা বেছে নিয়েছি’।

এসবের বিপরীতে নিরাপত্তাব্যবস্থাও ছিল ঢের। বিক্ষোভকারীদের মার্চ রুট ধরে ছিল কড়া পুলিশ প্রহরা। মেট্রো রেলসহ বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে ওই রুটে আসার সব পরিবহন ব্যবস্থা। যেন যুদ্ধে নামছে দুই পক্ষ। সহিংসতাও বাধে যখন বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে যায় পুলিশ। সংঘর্ষে লিপ্ত হয় কালো পোশাকধারীরা। যাদের বলা হচ্ছে, নিনজা বিক্ষোভকারী। একাধিক মেট্রো স্টেশনে দেওয়া হয় আগুন। হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয় চাইনিজ ব্যাংক, দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান। রোববারের সহিংসতার এটাই ছিল সবচেয়ে ভয়ানক দিক। চীনের সঙ্গে সম্পর্ক রয়েছে এমন সবকিছুই তছনছ করার প্রত্যয়ে নামে বিক্ষোভকারীরা। ফলে চীনের মূল ভূখণ্ড থেকে এসে হংকংয়ে যারা বাস করছে, তাদের নিরাপত্তা এখন সবচেয়ে ঝুঁকিতে।

হংকংয়ে চীন সরকার কর্তৃক নিযুক্ত নির্বাহী ক্যারি ল্যাম থেকে শুরু করে বিক্ষোভকারীদের আক্রোশ এখন সব চীনাদের প্রতি। তারা মনে করেন, চীনা এবং চীনপন্থিদের কারণেই হংকং এখনও মুক্ত হতে পারেনি। পায়নি স্বাধীনতার স্বাদ। হংকংয়ের নেতা বলে দাবি করা ক্যারি ল্যাম নিজেও পারেননি অনধিকার চর্চাকারীদের কাছ থেকে জনগণের স্বাধীনতা রক্ষা করতে। উলটো স্বাধীনতাকামী গণতন্ত্রপন্থি সাধারণ মানুষের বিরুদ্ধে তিনি লেলিয়ে দিয়েছেন পুলিশ বাহিনীকে। জোর করে আন্দোলন থামিয়ে দিতে চাইছেন ক্যারি ল্যাম। এমনকি এ কাজে তিনি ব্যবহার করেছে ঔপনিবেশিক আমলের জরুরি আইনকে। কিন্তু তাতে পরিস্থিতির কোনো পরিবর্তন নেই। উলটো বিক্ষোভকারীরা হয়ে উঠেছে আরো মারমুখী। তারা বলছেন, কোনোভাবেই ক্যারি ল্যামকে সাধারণ জনতার কথা শোনানো যাচ্ছে না।