ছোট্ট শিশু ফারহাতুল মাহমুদ হাসান, বয়স মাত্র ৯ বছর। তার দিন কাটে কম্পিউটারে গেম খেলে। তবে এই ছোট্ট বয়সেই তার শরীরে বাসা বেঁধেছে ই-বিটা থ্যালাসেমিয়া, হেপাটাইটিস সি ও ব্লাড ক্যানসার। তিন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে বেঁচে থাকতেই এক রকম যুদ্ধ করতে হচ্ছে ফারহাতুলকে। একটির চিকিৎসা করলে অন্যদিক আরেকটি কাহিল করে ফেলছে তাকে।
সন্তানকে সুস্থ করে তুলতে চেষ্টার কমতি নেই বাবা সাদেকুল ইসলাম এবং মা শিউলি আক্তারের। ফারহাতুলের বাবা সাদেকুল ইসলাম পেশায় ব্যবসায়ী। তবে ছেলের চিকিৎসার জন্য প্রায় সবসময়ই দেশ-বিদেশের হাসপাতালেই ছুটে বেড়াতে হয় তাকে। প্রতিদিন ছেলের জন্য লাগে প্রায় ছয় হাজার টাকার ওষুধ। ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও অন্যান্য দেশিয় হাসপাতাল ছাড়াও সন্তানকে নিয়ে এ পর্যন্ত চেন্নাই গিয়েছেন পাঁচবার। যখন যে হাসপাতালে গেছেন, সেখানকার চিকিৎসকদের দেওয়া ব্যবস্থাপত্র, সুপারিশ, রিপোর্ট যত্ন করে রেখে দিয়েছেন সাদেকুল। ছেলের চিকিৎসার জন্য ইতোমধ্যে বিক্রি করে ফেলেছেন রংপুরের জমি। সরকারি–বেসরকারি বিভিন্ন ব্যাংক-সংস্থা আর আত্মীয়ের সহযোগিতায় চালিয়ে এসেছেন ছেলের চিকিৎসা। এরপরও সন্তানের চিকিৎসা চালিয়ে যেতে দেশের জনগণের কাছে হাত পাততে বাধ্য হয়েছেন তার বাবা-মা।
ফারহাতুলের বয়স যখন চার বছর, তখন থ্যালাসেমিয়া ধরা পড়ে। এরপর আস্তে আস্তে ধরা পড়ে ব্লাড ক্যান্সার ও হেপাটাইটিস সি। গত ৫ বছরে সন্তানের চিকিৎসায় খরচ হয়ে গেছে প্রায় দেড় কোটি টাকা। আগামী বছরের ১৫ জানুয়ারি ছেলেকে নিয়ে আবারও ভারতের চেন্নাইয়ের অ্যাপোলো ক্যানসার হাসপাতালে যাবেন সাদেকুল। পরীক্ষা আর অন্যান্য সবকিছু ঠিক থাকলে সেখানেই হবে ফারহাতুলের অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপন। এ ক্ষেত্রে বাবা নিজেই দাতা হওয়ায় খরচ কিছুটা কমবে। এরপরও অস্থিমজ্জা প্রতিস্থাপনে লেগে যাবে বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৪০ লাখ টাকা।
সাদেকুল জানান, ছেলের জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে সহায়তার থেকে জমা পড়েছে ২০ লাখ টাকা। জনগণের কাছে বেশি চেয়ে লাভ নেই, এই মুহূর্তে যদি ২০ লাখ টাকা সহায়তা পাই, তাহলেই হয়তো ছেলের মুখে হাসি ফিরিয়ে আনতে পারবো।
সাদেকুল আরও জানান, আগে তেমন কিছুই বুঝতো না ফারহাতুল। এখন সে নিজেই ইন্টারনেট থেকে তার রোগগুলো সম্পর্কে জানার চেষ্টা করে। ফলে দিন দিন নিজের মধ্যেই গুটিয়ে যাচ্ছে সে। বিশেষ করে গণমাধ্যমকর্মীরা বাসায় এলে সে খুব বিরক্ত হয়। অসহায় বোধ করে। কেননা, বুঝতে পারে, তাকে নিয়ে কথা বলার জন্যই গণমাধ্যমকর্মীরা এসেছেন।
প্রতি মাসে তিন ব্যাগ রক্ত (রেড সেল) দিতে হয় ফারহাতুলকে। অবস্থা একটু বেশি খারাপ হলেই পা ব্যথা করে, গিঁঠে গিঁঠে ব্যথা হয়, খিঁচুনি হয়। বমি করে, খেতে পারে না। অনেক দিন থেকেই তার। তাকে এক রকম খুশি রাখতেই মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের বনশ্রী শাখায় স্কুলের হাজিরা খাতায় তার নাম আছে। স্কুলের শিক্ষকেরা প্রতিবছর তাকে প্রমোশন দিয়ে দেন। সেই হিসাবে ফারহাতুল বর্তমানে চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী।
বড় হয়ে কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন দেখতো ফারহাতুল। তবে এখন ভবিষ্যৎ নিয়ে জানতে চাইলে চুপ করে থাকে সে। এখন তার দিন কাটে কম্পিউটারে গেমস খেলেই।
ফারহাতুলের চিকিৎসায় কেউ সহায়তা করতে চাইলে:
মো. সাদেকুল ইসলাম, সঞ্চয়ী হিসাব-১২৫১১, ইসলামী ব্যাংক, রামপুরা শাখা অথবা সঞ্চয়ী হিসাব-১৯২২১০৭০০১০৪৪০, প্রাইম ব্যাংক, বনশ্রী শাখায় পাঠাতে পারেন। এ ছাড়া ০১৮৬৪২৯১৩২৭ অথবা ০১৮৬৪২৯১৩২৮ বিকাশ নম্বরেও পাঠানো যাবে।
ইত্তেফাক/জেডএইচডি