শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি চেষ্টায় ৫ জনকে আটক করা হয়। গত শনিবার (২৬ অক্টোবর) ‘বি’ ইউনিটের ভর্তি পরীক্ষায় ক্যালকুলেটর ও ছোট ডিভাইসে সিমকার্ড ব্যবহার করে জালিয়াতির চেষ্টার অভিযোগে তাদের আটক করা হয়। কিন্তু জালিয়াতদের সুষ্ঠু বিচার নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে। কেননা এবারই প্রথম ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতির চেষ্টায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের বাইরে পরীক্ষা কেন্দ্রের ইনচার্জরা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে।
এদিকে কেন্দ্রের ইনচার্জরা মামলা দায়ের বিষয়কে অস্বীকার করে তারা এ বিষয়ে কিছু জানেন না বলে দাবি করেন। যার ফলে অভিযুক্তদের সঠিক বিচার নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কেন্দ্রে দায়িত্বরত এক শিক্ষক বলেন, পরীক্ষাটা যেহেতু শাবির। সুতরাং মামলার দায়িত্বটা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের নেওয়া উচিত ছিল। কেননা, মামলা পরিচালনায় কেন্দ্রের দায়িত্বরত ইনচার্জরা যদি হয়রানির শিকার হয় তাহলে পরবর্তীতে তারা কেন্দ্রের কোন দায় নিতে চাইবে না। এতে জালিয়াতিদের সুষ্ঠু বিচার নিশ্চিত করতে না পারলে ভবিষ্যতে তারা আরও সুযোগ পেয়ে যাবে।
জালিয়াতির চেষ্টায় মঈন উদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজ থেকে সাদ মোহাম্মদ সায়েল, সিলেট পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট থেকে মাহমুদুল হাসান, শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা থেকে আহসান আলী ও ইব্রাহীম খলিল জীবন এবং সিলেট সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজ মোহাইমিনুল ইসলাম খান রিফাতকে ডিজিটাল ডিভাইসসহ আটক করেন দায়িত্বরত শিক্ষকরা। পরবর্তীতে সিলেটের কোতোয়ালী থানা, এয়ারপোর্ট থানা, জালালাবাদ থানা ও দক্ষিণ সুরমা থানায় অভিযুক্ত ৫ জনের বিরুদ্ধে পৃথক ৪টি মামলা করা হয়।
আরও পড়ুন: রংপুরে ১২ সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলার তদন্ত করবে পিবিআই
জালিয়াতির ঘটনায় আটক সাদ মোহাম্মদ সায়েল বগুড়া সদরের বৃন্দাবন পাড়ার মাকছুদুর রহমানের ছেলে, মাহমুদুল হাসান একই এলাকার আব্দুল গফুরের ছেলে, আহসান আলী বগুড়ার সারিয়াকান্দি এলাকার তোফাজ্জল হোসেনের ছেলে ও ইব্রাহীম খলিল জীবন তৌহিদুল ইসলামের ছেলে এবং মোহাইমিনুল ইসলাম খান ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার জহিরুল ইসলামের ছেলে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার ইশফাকুল হোসেন জানান, শাহজালাল জামেয়া ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসা এবং সিলেট সরকারি মডেল স্কুল এন্ড কলেজ কেন্দ্র থেকে আটককৃতদের বিরুদ্ধে শাবি প্রশাসন মামলা দায়ের করলেও মঈন উদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজে থেকে আটককৃতের বিরুদ্ধে ঐ কেন্দ্রের ইনচার্জ কোতোয়ালী থানায় এবং সিলেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট থেকে আটককৃতের বিরুদ্ধে ঐ কেন্দ্রের ইনভিজিলেটর দক্ষিণ সুরমা থানায় বাদী হয়ে পৃথকভাবে মামলা দায়ের করেন।
এ বিষয়ে কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. সেলিম মিয়া বলেন, মঈন উদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।
দক্ষিণ সুরমা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খায়রুল ফজল জানান, এ থানায় শাবির ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোছাদ্দেক আহমেদ চৌধুরী বাদী হয়ে মামলা করেছেন। অভিযুক্তদের রবিবার আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। পাবলিক পরীক্ষায় অপরাধ আইন ১৯৮০ এর ৯(খ)/১৩ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়।
তবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার দাবিকে অস্বীকার করে মঈন উদ্দিন আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ ও ভর্তি পরীক্ষায় দায়িত্বরত ইনচার্জ মো. গিয়াস উদ্দিন বলেন, সেন্টার ইনচার্জ হিসেবে থানায় একটা লিখিত দিতে হয়। আমি ঐ হিসেবে একটা লিখিত দিয়েছি শুধু। পরে তাদের পুলিশে নিয়ে যাওয়ার পর আমি এ ব্যাপারে আর কিছু জানিনা। আমি এ মামলার বাদী না। শুধুমাত্র সেন্টার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছি। আসলে তাদের ধরে এনেছেন অধ্যাপক ড. নাজিম উদ্দিন। আমি এ মামলার বাদী কেন হবো? আমি মনে করি এটি সরকার কিংবা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দেখবে। আর এ বিষয়ে পরবর্তীতে আমার সঙ্গে কেউ যোগাযোগ করে নাই। এমনকি মামলার কোন কপিও আমার কাছে আসে নাই।
এ বিষয়ে রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, মামলার সঙ্গে আমার কোন সম্পৃক্ততাই নাই। এ বিষয়ে আমি কোন ডিল করি নাই। প্রক্টরিয়াল বডিই এসে সব কিছু দেখেছে। আমি শুধু ছেলেটাকে কিছু প্রশ্ন করেছি যে তার সঙ্গে আর কেউ জড়িত আছে কিনা।
এদিকে সিলেট পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট থেকে আটককৃত মাহমুদুল হাসানের মামলা সর্ম্পকে ঐ কেন্দ্রের দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোছাদ্দেক আহমদ চৌধুরী বলেন, তাদের বিরুদ্ধে এজাহার হওয়ার পরে পুলিশ তাদের নিয়ে গেল। কিন্তু পরবর্তীতে তাদের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে তা আমি জানিনা। আমরা শুধু আলামতসহ তাদেরকে দক্ষিণ সুরমা থানার পুলিশের কাছে হস্তান্তর করি। তারা শুধু কেন্দ্রের ইনভিজিলেটর হিসেবে আমার কাছ থেকে একটা লিখিত স্টেটমেন্ট নিয়েছে। আমার কাছে মামলার কোন কপি আসেনি।
এ বিষয়ে জানতে বিশ্ববিদ্যালয় ভিসি অধ্যাপক ফরিদ উদ্দিন আহমেদকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
ইত্তেফাক/এএএম