জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট

‘ক্যাম্পাসের গল্পগুলো’

২০১৬ সালে প্রথম ব্যাচের মাধ্যমে যাত্রা শুরু করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট। অনার্স জীবন হাসি-তামাশা, মান-অভিমান, আড্ডা ইত্যাদির মধ্যেই কেটে যায় আর তা উপলব্ধি করা যায় একবারে শেষ পর্যায়ে এসে। এরই মধ্যে প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থীরা তাদের র্যাগ ডে উদ্যাপন করেছে। ইতি টানতে যাচ্ছে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সর্বশেষ ধাপ।

শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের পরিচালক ড. মনিরা জাহান বলেন, যখন প্রথম ব্যাচের মাধ্যমে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউট যাত্রা শুরু হয় তখন আমি একাই ছিলাম। শিক্ষার্থীরা যখন ভর্তি হয়েছিল তখন তারা অনেক ছোটো ছিল। এখন তারা অনার্স শেষ করেছে, অনেক বড়ো হয়েছে। তারা আমার ইনস্টিটিউট ছেড়ে চলে যাবে এটা ভাবতেও খারাপ লাগছে। আবার এই খারাপের মাঝেও একটা ভালো লাগা কাজ করছে যে তারা দেশের বড়ো বড়ো প্রতিষ্ঠানে চাকরি করবে, জীবনকে সুন্দরভাবে গুছিয়ে নিতে পারবে।

প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী টিটু খান বলেন, এই চার বছরে বন্ধুদের সঙ্গে বিভিন্ন উত্সব পালন,  ঘোরাঘুরি, সারারাত ক্যাম্পাসে আড্ডা, ঝগড়াঝাটি সবগুলো ছিল স্বপ্নের মতো। চারটা বছর কিভাবে যে কেটে গেল বুঝতেই পারছি না। ধীরে ধীরে সবাই জীবনযুদ্ধে ব্যস্ত হয়ে যাব। হয়তো কিছুদিন পর আর প্রতিদিন ক্যাম্পাসে যাওয়া হবে না, চাইলেও সবাই এক হওয়া যাবে না, রাত-বিরাতে আড্ডা দেওয়া যাবে না— এসব ভাবতেই এখন কষ্ট হয়।

প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী তানজিলা বৈশাখী বলেন, প্রথম ব্যাচ হওয়ার কারণে হয়তো আমাদের সীমাবদ্ধতা ছিল। কিন্তু শিক্ষক, সহপাঠীদের আন্তরিকতা ও ভালোবাসা, সহযোগিতা ছিল পরিপূর্ণ। আইইআর আরো সম্পূর্ণ হয়েছে নতুন নতুন ব্যাচের ছোটো ভাইবোনের আগমনে। এই চার বছরে বিভিন্ন উত্সব-অনুষ্ঠান পালনের মাধ্যমে কেটেছে আমাদের। শেষ দিনের আনন্দের মাঝে কিছুটা মন খারাপ হয়েছে এই ভেবে যে, এমনভাবে হয়তো সবাইকে একসঙ্গে পাব না। তাতে কি! মনের কোনো একটা জায়গা থেকে যাবে সবাই।

শাহজালাল শুভ বলেন, ২০১৬ সালের ২০ জানুয়ারিতে আইইআরে প্রথম পদার্পণ করেছিলাম। আর গত ২৪ অক্টোবর ২০১৯-এ র্যাগ ডে পালন করলাম। এই সুদীর্ঘ সময়ে অনেক স্মৃতি মনের মণিকোঠায় জমা পড়েছে। তারমধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টে আইইআরের রানার্সআপ হওয়াটা অন্যতম। গত ২৪ অক্টোবর কেক কাটা ও র্যালির মাধ্যমে আমাদের র্যাগ ডে শুরু হয় এবং শেষ হয় রং মাখামাখির মাধ্যমে। এর মধ্যে ফ্লাশমুভ, নাচ, গান সবই হয়েছিল। টিচার এবং অন্যান্য ব্যাচ মিলে এই দিনে অনেক মজা করেছি। এ রকম দিন হয়তো আর আসবে না এবং এভাবে সবাইকে হয়তো আর পাওয়া হবে না। তাই মনটা সেদিন বারবার খারাপ হয়ে যাচ্ছিল। তবে যাই হোক না কেন, আইইআরের জন্য অনেক অনেক শুভকামনা থাকল।

ইনস্টিটিউটের বড়ো ভাইবোনদের বিদায়বেলায় ব্যথিত হয় জুনিয়রাও। সিনিয়র-জুনিয়রদের সম্পর্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অবিচ্ছেদ্য অংশ। তেমনিভাবে বড়ো ভাইবোনদের বিদায়বেলায় ব্যথিত হূদয়ে শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় ব্যাচের শিক্ষার্থী মাহবুবুর রহমান বলেন, সিনিয়র ভাইবোনেরা আমাদের যেভাবে আগলে রেখেছে তা কখনো  ভোলার নয়। যখন যেভাবে বড়ো ভাইবোনদেরকে চেয়েছি ঠিক সেভাবেই আমরা তাদেরকে পেয়েছি। তারা আমাদের সাহায্য করেছেন কখনো আদর, স্নেহ, ভালোবাসা দিয়ে, কখনো উপদেশ, পরামর্শ দিয়ে। শিগগিরই তাদের অনার্স জীবনের পরিসমাপ্তি ঘটতে যাচ্ছে। রবিঠাকুরের ভাষায় বলতেই হয়: ‘যেতে নাহি দিব! হায়, তবু যেতে দিতে হয়। তবু চলে যায়।’ বাস্তবতা মেনে সবাইকেই চলে যেতে হয়। তবে আশা রাখছি আমাদের সম্পর্কগুলো থাকবে অটুট।