পেশা হিসেবে হোটেল ম্যানেজমেন্ট বর্তমান সময়ের বহুল আঙ্খাখিত পেশা। তরুণ প্রজন্মের কাছে এ পেশার চাহিদা দিন দিন বাড়ছে। বর্তমানে হোটেল অ্যান্ড ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্ট একটি অপার সম্ভাবনাময় শিল্পে পরিনত হয়েছে এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশের পাশাপাশিবাংলাদেশেও এর প্রচুর কর্মসংস্থানের সুযোগ রয়েছে । বর্তমানে দেশে অসংখ্যা হোটেল, মোটেল ও রেস্টুরেন্ট রয়েছে এবং ২০২০ সালে দেশে নতুন আরো প্রায় ১২টি হোটেল যাত্রা শুরু করবে যেখানে প্রায় ৩০০০ এর অধিক দক্ষ লোকের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। এছাড়া বিদেশে বিশেষ করে যুক্তরাজ্য,কানাডা, জার্মানীসহ বিভিন্ন দেশের ভালো বিশ্ববিদ্যায়গুলোতে পড়ালেখার খরচ আমাদের দেশের তুলনায় অনেক বেশি তাই ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও অনেকেই স্বপ্নের এই দেশে পড়তে পারেন না । এই সীমাবদ্বতা অতিক্রম করে বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের স্বপ্নকে বাস্তবে রুপদানের উদ্দেশ্যে সরকার অনুমোদিত এবং আর্ন্তজাতিক স্বীকৃতিপ্রাপ্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ স্কিল ডেভেল্পমেন্ট ইন্সটিটিউট (বিএসডিআই) ২০০৩ সাল থেকে কনফেডারেশন অব ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি (সিটিএইচ) ইউকের অধীনে ডিপার্টমেন্ট অব হোটেল অ্যান্ড ট্যুরিজমের আওতায় ডিপ্লোমা ইন হোটেল ও ডিপ্লোমা ইন ট্যুরিজম কোর্স পরিচালনা করে আসছে । এই কোর্সে ডিপ্লোমা সম্পন্ন করে তারকা হোটেল ছাড়াও ক্যারিয়ার গড়তে পারেন এয়ার লাইন্স, হসপিটাল, চেইনসপ এবং ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেল এজেন্সিতে।
বাংলাদেশ স্কিল ডেভেল্পমেন্ট ইন্সটিটিউট (বিএসডিআই) এর পাসকৃত শিক্ষার্থীরা দেশে এবং বিদেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে উচ্চ শিক্ষা গ্রহনের সুযোগ পাচ্ছে এবং দেশ-বিদেশের স্বনামধন্য হোটেল এয়ারলাইন্সে বিভিন্ন পর্যায়ে কাজ করে যাচ্ছে।
ডিপার্টমেন্ট অব হোটেল অ্যান্ড ট্যুরিজমের আওতায় বিভিন্ন মেয়াদে সরকারি সনদে বেশ কিছু সার্টিফিকেট কোর্স রয়েছে যেমন- ফুড অ্যান্ড বেভারেজ প্রোডাকশন, সার্ভিস, হাউজ কিপিং এবং ফ্রন্ট ডেস্ক । এসকল স্বল্প মেয়াদি কোর্স করে শিক্ষার্থী দেশের বিভিন্ন হোটেল, রেস্টুরেন্ট, চেইন শপে ক্যারিয়ার গড়তে পারে কেননা এই ইন্ডাস্ট্রিতে ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, সার্ভিস, হাউজ কিপিং এবং ফ্রন্ট ডেস্ক এই বিভাগগুলোই প্রধান । নিজের দক্ষতা ও ধৈর্য্যশীলতার মাধ্যমে দ্রত এই পেশায় উন্নতি করা সমভব। আন্তর্জাতিক সনদ, ক্রেডিট ট্রান্সফার
চাকরি ও ইর্ন্টানশিপ সহায়তা, জাপানী ভাষার কোর্স / আইএলটিএসসহ বিভিন্ন সুবিধা উপভোগ করতে পারেন শিক্ষার্থীরা। প্রতি ক্লাসে হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পাঠদান করা হয়। পাশাপাশি থিওরি, আইটি স্কিলস, স্পিকিং স্কিলস, জব স্কিলস এবং ইন্ডাস্ট্রি ট্যুর পূর্ণাঙ্গ কোর্সটি সাজানো। যার ফলে একজন শিক্ষার্থী সম্পূর্ণভাবে দক্ষ হয়ে প্রফেশনাল জীবনে আত্মপ্রকাশ করতে পারে। আরও তথ্য জানতে কল করতে পারেন ০১৭১৩৪৯৩২৪৬ নম্বরে। এ প্রোগামের মাধ্যমে একজন শিক্ষার্থীকে চাকরি পাবার সকল কৌশল শেখানোর পাশাপাশি চাকরির বাজারে শিক্ষর্থীকে আরও দক্ষ হিসেবে গড়ে তোলা হয়। এছাড়াও রয়েছে অ্যাটাচমেন্ট সুবিধা ।
এ শিক্ষা ব্যবস্থায় যুক্তরাজ্যের সিটিএইচ কর্তৃক ডিপ্লোমা/এডভান্স ডিপ্লোমা সার্টিফিকেট প্রদান করা হয় এবং বাংলাদেশ টেকনিক্যাল এডুকেশন বোর্ডের সার্টিফিকেট কোর্সের সরকারি সনদ প্রদান করা হয় ।
বিএসডিআইতে রয়েছে অভিজ্ঞ শিক্ষকমন্ডলী। পড়ালেখায় মান নিয়ন্ত্রণ করে ভালো ফলাফল নিশ্চিত করার জন্য রয়েছে বিএসডিআই-এর একাডেমিক কাউন্সিলের তত্ত্বাবধান। যেকোনো গ্রুপে এইচএসসি/ও-লেভেল অথবা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে।
বিএসডিআইতে রয়েছে ৩টি ভিন্ন ক্যাম্পাস, আধুনিক লাইব্রেরি, প্র্যাকটিক্যাল ল্যাব এবং শিক্ষার্থীদের জন্য বিনামূল্যে ওয়াই-ফাই ক্যাম্পাস জোন ব্যবহারের সুবিধা। মেধাবী ও অস্বচ্ছলদের জন্য রয়েছে ১০% থেকে ১০০% পর্যন্ত ড্যাফোডিল ফাউন্ডেশন কর্তৃক স্কলারশিপের সুবিধা। মুক্তিযোদ্ধা পুরুষ ও নারী শিক্ষার্থীদের জন্য রয়েছে বিশেষ স্কলারশিপের সুবিধা।
বাংলাদেশ স্কিল ডেভেলপমেন্ট ইনস্টিটিউটে (বিএসডিআই) বছরে ৪টি সেশনে (মার্চ, জুন সেপ্টেম্বর,ডিসেম্বর) ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। বর্তমানে অক্টোম্বর সেশনে ভর্তি চলছে । চাকরিজীবীরা সান্ধ্যকালীন ব্যাচে অংশগ্রহণ করতে পারেন। বিস্তারিত www.bsdi-bd.org ঠিকানায়।