দীর্ঘ ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে বেশ কয়েকটি সরকারি ও আভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ এবং কর্মশালা পরিচালনা করেছেন মোহাম্মদ আব্দুল আউয়াল। তিনি একাধারে বিভিন্ন দেশীয় ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানে জেনারেল ম্যানেজমেন্ট, সাপ্লাই চেইন ও অপারেশন ম্যানেজমেন্টের ক্ষেত্রে ২০ বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি জেনারেল ম্যানেজার ও হেড অব অপারেশন হিসেবে কাজ করছেন ইনটাসল লজিস্টিকস লিমিটেডে।
এছাড়া আউয়াল জেনারেল ম্যানেজার ও হেড অব সাপ্লাই চেইন হিসেবে কাজ করেছেন রেনকন ইলেকট্রনিক্স লিমিটেডে। বেস টেকনোলজিস লিমিটেডের জেনারেল ম্যানেজার এবং গ্লোবাল সাপ্লাই চেইনের প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন, যেখানে তিনি দক্ষিণ ও পূর্ব এশীয় দেশগুলোতে সাপ্লাই চেইন নেটওয়ার্ক স্থাপন করেছিলেন। কাজ করে গেছেন দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে। এলএম এরিকসন বাংলাদেশ লিমিটেডের স্পিয়ার পার্টস ম্যানেজমেন্টের একটি সফল প্রকল্পের জন্য আইএসসিএএ বাংলাদেশ তাকে ‘বাংলাদেশ সাপ্লাই চেইন এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ড ২০১০’ পুরস্কারে পুরস্কৃত করে।
নিজের ক্যারিয়ার সম্পর্কে আউয়াল বলেন, ‘আমার সৌভাগ্য, ২০ বছর আগে ফরচুন-৫০০ এমএনসির একটিতে আমার ক্যারিয়ার শুরু করতে পেরেছিলাম। পরিষেবা ও উত্পাদন শিল্পে আমার জন্য এটি একটি উত্তেজনাপূর্ণ ও ফলপ্রসূ যাত্রা ছিল। মেরস্ক বাংলাদেশ লিমিটেড ও এরিকসন—এমন বিশাল সংস্থাগুলোয় আমি আমার পেশাগত জীবনের বেশিরভাগ সময় কাটিয়েছি। ফলে দেশে ও বিদেশে প্রচুর শিক্ষার সুযোগ পেয়েছি। আমদানি কার্যক্রম ও গ্রাহক পরিষেবা থেকে শুরু করে গুদাম পরিচালনা, প্রকল্প পরিচালনার ক্ষেত্রে আমার কাছে সাপ্লাই চেইন পরিচালনার সমস্ত ডোমেইনে কাজ করার অনন্য সুযোগ হয়েছে এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছি। ব্যবসার কৌশলের সঙ্গে একত্রিত করার জন্য সরবরাহ চেইনের নকশা তৈরি করা, ব্যবসায়ের বিভিন্ন সমস্যাগুলো সমাধান করা, সবচেয়ে কম সময়সীমার মধ্যে কাজ করা, কৌশলগত দিকনির্দেশনা এবং পারফরম্যান্স ম্যানেজমেন্ট আমার কয়েকটি দক্ষতার ক্ষেত্র।’
এদেশে সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট সোসাইটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা আউয়াল জানান, গত ২০ বছরে আমি সরবরাহ চেইনের সমস্ত ডোমেনের জন্য কাজ করেছি, যা আমাকে ব্যবসায়ীতে রূপান্তর ও চমত্কার অভিজ্ঞতা দিয়েছে। বাংলাদেশ সাপ্লাই চেইন ম্যানেজমেন্ট সোসাইটিকে ২০১২ সালে সাপ্লাই চেইন পেশাদারদের একটি প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তুলেছিলাম, যার মাধ্যমে নেটওয়ার্কিং, জ্ঞান ভাগাভাগি, পেশাদার এক্সচেঞ্জ, বৈশ্বিক স্তরের বেঞ্চমার্কিংয়ের মাধ্যমে একটি সৃজনশীল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে পলিসি অ্যাডভোকেসি করেছি।’
প্রশিক্ষক হয়ে ওঠা সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমি ব্যক্তিগতভাবে অনেক যুব উদ্যোগে, যেমন ক্যারিয়ার ফেয়ার, ক্যারিয়ার পরামর্শ ইত্যাদিতে জড়িত ছিলাম। আমি বুঝতে পারি যে, এদেশের শিক্ষার্থী ও নতুন স্নাতকেরা তাদের ভবিষ্যতের বিষয়ে পর্যাপ্ত জ্ঞান ও অন্তর্দৃষ্টি পায় না। তাদের মাঝে আমার পেশাদার জ্ঞান ছড়িয়ে দিতে এবং তাদের পেশাগত জীবনে গাইড করতে নেটওয়ার্ক তৈরির মাধ্যমে সাহায্য ও সহযোগিতা করার যথাসাধ্য চেষ্টা করছি। এটি সম্ভবত আমাকে যুবকদের জন্য আরো কিছু করতে অনুপ্রাণিত করেছে।’
কর্পোরেট প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশের পরিস্থিতি সম্পর্কে আউয়াল বলেন, ‘শেখা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া। বিশেষত যখন আমাদের পৃথিবীটি খুব দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে, তখন যথাযথ প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা বিকাশ না করে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা করা সম্ভব নয়। আমাদের তৈরি পোশাক খাত নানারকম চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়। এ খাতটি টিকিয়ে রাখতে, আমাদের প্রয়োজন প্রযুক্তিগত অগ্রগতিতে অভিযোজিত হওয়া।’
নবাগতদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘আশার কথা যে, দেশে যে উদ্যোগগুলো নেওয়া হচ্ছে, তার কেন্দ্রে রয়েছে তরুণ সমাজ। আমরাও এধরনের নানা উদ্যোগ নিয়েছি। যেমন আমরা আমাদের শিক্ষার্থীদের ব্যবসায়ীক সমস্যাগুলো সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার প্রশিক্ষণ দিয়ে থাকি। আমাদের গ্র্যাজুয়েটদের পেশাদার হয়ে উঠতে সহায়তা করার জন্য আমরা তিন মাসের ‘ক্যাম্পাস টু কর্পোরেট প্রোগ্রাম’ শুরু করছি। এই কোর্সের মাধ্যমে, আমরা তাদের কর্মসংস্থান এবং উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করতে দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য কার্যকর প্রশিক্ষণ দিই।’