লেবাননের প্রধানমন্ত্রী সাদ হারিরি গতকাল মঙ্গলবার পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন। হারিরি পদত্যাগের ঘোষণায় বলেন, আমার সময় শেষ। আমি এটা আপনাদের কাছ থেকে লুকাতে চাই না। তিনি গতকাল এক টেলিভিশন ভাষণে বলেন, আমার রাজনৈতিক সহকর্মীদের দায়িত্ব লেবাননকে রক্ষা এবং অর্থনীতিকে সচল করা। গত দুই সপ্তাহ ধরে হারির বিরুদ্ধে বিক্ষোভ চলছে। খবর সিএনএন ও রয়টার্সের
সাদ হারিরি বলেন, এটি একটি সুবর্ণ সুযোগ। এই সুযোগ আমাদের নষ্ট করা উচিত হবে না বলে উল্লেখ করেন তিনি। হারিরি বলেন, গত ১৩ দিন ধরে জনগণ অপেক্ষা করছিল একটি রাজনৈতিক সিদ্ধান্তের জন্য। আমি এই সময়ের মধ্যে সমাধান খোঁজার চেষ্টা করেছি। আমি প্রেসিডেন্ট প্রাসাদে যাচ্ছি সরকারের পদত্যাগপত্র জমা দিতে। রাজনৈতিক জীবনে দেশকে রক্ষা করা আমাদের দায়িত্ব। তার পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার পর বিক্ষোভকারীরা দেশটির রাজধানী বৈরুতের কেন্দ্রস্থলে আনন্দ মিছিল করে। তার পদত্যাগের দাবিতে গত দুই সপ্তাহ ধরে দেশব্যাপী বিক্ষোভ হয়েছে। তিনি অবশেষে নতি স্বীকার করলেন। তিনবারের প্রধানমন্ত্রী হারিরি জাতীয় ঐক্যের সরকার পরিচালনা করছিলেন। এতে তার প্রতিপক্ষরাও ছিলেন।
আরো পড়ুন : সেলফির জোরে হারানো মেয়েকে ফিরে পেলেন বাবা-মা
সম্প্রতি দেশটিতে দ্রুত অর্থনৈতিক অবনতি, অতিরিক্ত ঋণ এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধি দেখা যায়। গত ১৭ অক্টোবর দেশটির সরকার হোয়াটসঅ্যাপ কলের ওপর কর আরোপসহ বেশকিছু কঠোর পদক্ষেপ নেয়। এর ফলে শুরু হওয়া বিক্ষোভ ধীরে ধীরে দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়ে এবং সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। এই বিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর থেকে লেবাননে অচলাবস্থা বিরাজ করছিল। ব্যাংক ও স্কুলগুলো ১২ দিন বন্ধ ছিল। এসময় বিক্ষোভাকারীরা ভূমধ্যসাগরের পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত ছোট দেশটির প্রধান প্রধান সড়কপথ বন্ধ করে দেয়।
ইত্তেফাক/ইউবি