শচীন মেলায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান

মো. লুত্ফুর রহমান

কুমিল্লা প্রতিনিধি

 

বাংলা ও হিন্দি গানের অমর স্রষ্টা শচীন দেব বর্মণ (এস ডি বর্মণ) স্মরণে বর্ণে-গন্ধে-ছন্দে-গীতিতে কুমিল্লায় দ্বিতীয়বারের মতো বর্ণাঢ্য আয়োজনে অনুষ্ঠিত হলো দুই দিনব্যাপী শচীন মেলা ও সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। কুমিল্লা নগরীর চর্থা এলাকায় শচীন কর্তার বাড়ি থেকে শিল্পীদের গানের সুর ভেসে বেড়ায়, গানে মুগ্ধ হন শচীন ভক্তরা। অসংখ্য দর্শক-শ্রোতা আর গুণীজনের আগমনে শচীনের বাড়ি যেন সুরের মূর্ছনায় প্রাণ ফিরে পায়। সমাপনী দিবসের অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল মান্নান। এতে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. আবুল ফজল মীর। অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন কুমিল্লা পুলিশ সুপার সৈয়দ নুরুল ইসলাম, অধ্যাপক আমির আলী চৌধুরী, অধ্যাপক শান্তিরঞ্জন ভৌমিক প্রমুখ। এর আগে বিভাগীয় কমিশনার মেলার বিভিন্ন স্টল ও শচীনের স্মৃতিচিহ্ন স্থানসমূহ ঘুরে দেখেন।

শচীনের বাড়িতে শিল্পীরা গেয়েছেন ‘বাঁশি শুনে আর কাজ নাই সে যে ডাকাতিয়া বাঁশি’, ‘কে যাস রে ভাটির গাঙ বাইয়া’, ‘তাকদুম তাকদুম বাজাই বাংলাদেশের ঢোল’, ‘নিশিথে যাইও ফুলবনে’, ‘শোন গো দখিন হাওয়া’, ‘তুমি এসেছিলে পরশু কাল কেন আসোনি’, ‘ঘাটে লাগাইয়া ডিঙ্গা পান খাইয়া যাও’, ‘নিটোল পায়ে রিনিক ঝিনিক’, ‘রঙিলা রঙিলা রঙিলা রে’সহ আরো বেশকিছু গান। অতিথিরা বলেন, এসব গান শুনতেই মনের মাঝে ভেসে ওঠে যার নাম তিনি শচীন দেব বর্মণ। তিনি উপমহাদেশের এক কিংবদন্তী সংগীতশিল্পী এবং একাধারে গায়ক, সুরকার ও গীতিকার। সুরের জগতে তিনি শচীনকর্তা নামে ভারত ও বাংলাদেশে ব্যাপক পরিচিত। বর্ণে-গন্ধে-ছন্দে-গীতিতে শচীন কর্তার গান এখনো দোলা দেয় লাখো শ্রোতাকে। বক্তারা উপমহাদেশের প্রখ্যাত সঙ্গীতশিল্পী কুমিল্লার কৃতিসন্তান শচীন দেব বর্মণের জীবনী পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্তকরণের দাবি জানান।

এদিকে ২ দিনব্যাপী শচীন মেলাকে কেন্দ্র করে নগরীর বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সংস্কৃতিকর্মীসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষের অংশগ্রহণে এ বাড়িটি হয়ে ওঠে প্রাণবন্ত। বাড়ির আঙিনায় রঙিন বাতির আলোর ঝলকানি সকলের নজরকাড়ে। শচীন দেব বর্মণ সম্পর্কিত রচনা প্রতিযোগিতা, প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন, সংগীত প্রতিযোগিতা, সেমিনার, পুরস্কার বিতরণ ও বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে এ মেলা সম্পন্ন হয়। ২ দিনের শচীন মেলায় কুমিল্লার ঐতিহ্যবাহী খাদি, মৃত্পণ্য, ঢোল-তবলা ও বাদ্যযন্ত্রসহ রকমারি পণ্যের ১৮টি স্টল ও শচীন দেব বর্মণের জীবনচিত্র নিয়ে প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।

উল্লেখ্য, শচীন দেব ১৯৭০ ও ১৯৭৪ সালে জাতীয় পুরস্কার ও ১৯৬৯ সালে ভারত সরকার কর্তৃক পদ্মশ্রী খেতাব পান। এর আগে ১৯৩৪ সালে তিনি অল বেঙ্গল ক্লাসিক্যাল মিউজিক কনফারেন্সে স্বর্ণপদকও লাভ করেন। উপমহাদেশের এই কিংবদন্তী সংগীতজ্ঞ ১৯৭৫ সালে প্যারালিটিক স্ট্রোক হয়ে কোমায় ছিলেন ৫ মাস। একই সালের ৩১ অক্টোবর তিনি ভারতের মুম্বাইয়ে পরলোক গমন করেন।