শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রধান শিক্ষকের কাছে চাঁদা দাবি

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন বিভাগ) পরিচয় দিয়ে এক প্রধান শিক্ষকের কাছে মোটা অংকের টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ পাওয়া গেছে। বুধবার টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার গেরামারা গোহাইলবাড়ি সবুজ সেনা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের কাছে এ চাঁদা দাবি করা হয়। 

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. মোজাম্মেল হক জানান, বুধবার মো. নাজমুল হোসেন নামে এক ব্যক্তি ০১৩১৪-৫২৭৫০৮ নম্বর থেকে ফোন দিয়ে বলেন, আমি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন বিভাগ)। বিভিন্ন পরীক্ষার সময় ছাত্র-ছাত্রীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, বিদ্যালয়ের অর্থ আত্মসাৎসহ আপনার নামে বহু অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ থেকে পার পেতে হলে আপনাকে এখনই ৩০ হাজার টাকা দিতে হবে। ঘটনার তদন্তের পর পরবর্তীতে আরও টাকা দিতে হবে বলে তিনি হুমকি দেন। ঘটনাটি মির্জাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. হারুন অর রশিদ ও একাডেমিক সুপারভাইজার প্রবীর কুমার চৌধুরীকে অবহিত করা হয়। এই দুই শিক্ষা কর্মকর্তা ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (শিক্ষা মন্ত্রণালয়) খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন মো. নাজমুল হোসেন নামে কোন সহকারী পরিচালক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে (প্রশাসন বিভাগে) নেই। একটি চক্র শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালকের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতারণার ফাঁদ পেতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষকদের জিম্মি ও ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা আদায় করে আসছিলো।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন বিভাগ) প্রতারক মো. নাজমুল হোসেনের এই ০১৩১৪-৫২৭৫০৮ ফোন নম্বরে বিস্তারিত জানার জন্য যোগাযোগ করা হলে নম্বরটি বন্ধ থাকায় কথা বলা সম্ভব হয়নি। 

আরও পড়ুন: ছাত্রীকে যৌন নিপীড়নের দায়ে মাদ্রাসা পরিচালক গ্রেফতার

এ ব্যাপারে মির্জাপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. হারুন অর রশিদ জানান, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি নিয়ে দুই গ্রুপের মধ্যে দ্বন্দ্ব রয়েছে। প্রধান শিক্ষককে বেকায়দায় ফেলানোর জন্য একটি প্রতারক চক্র শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সহকারী পরিচালকের নাম ভাঙ্গিয়ে প্রতারণা এবং মোটা অংকের টাকার চাঁদা দাবি করে আসছে বলে তার ধারনা। 

ঢাকা মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরে (শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের) সহকারী পরিচালক মো. জাকির হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘মো. নাজমুল হোসেন নামে কোন সহকারী পরিচালক(প্রশাসন বিভাগ) নেই। একটি চক্র ভুয়া নাম ব্যবহার করে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে টাকা দাবি করে আসছে।’ তদন্ত সাপেক্ষে এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য আইন-শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন বলে জানান তিনি।

ইত্তেফাক/এএএম