সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার ৫টি ও কামারখন্দ উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত সিরাজগঞ্জ-২ আসন। একাদশ জাতীয় নির্বাচন উপলেক্ষে এ আসনে সরকার দলীয় প্রার্থী ও তার কর্মী সমর্থকদের প্রচারণায় মাঠ সরগরম থাকলেও এখনো মাঠে নামেনি বিএনপি। বিভিন্ন স্লোগান ও গানে গানে উন্নয়নের কথা জানান দিয়েও চাওয়া হচ্ছে নৌকায় ভোট। কিন্তু এসব প্রচারণায় এখানো মাঠে নামেনি বিএনপির প্রার্থী ও তার কর্মী সমর্থকরা।
প্রতীক বরাদ্দের পরদিন সোমবার থেকেই এ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. হাবিবে মিল্লাত মুন্না প্রচারণায় নেমেছেন। প্রতিদিন সকাল থেকে প্রার্থী নিজে ও তার কর্মী সমর্থকরা পৃথকভাবে নির্বাচনী এলাকায় মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে নৌকার পক্ষে ভোট চাইছেন।
এদিকে নৌকার পোস্টারে পোস্টারে জেলা সদর ও কামারখন্দ উপজেলা সদরসহ সমগ্র নির্বাচনী এলাকা ছেয়ে গেলেও প্রতিদ্বন্দ্বী কোনো প্রার্থীর পোস্টার এখনও লাগানো হয়নি। আসনটিতে আওয়ামী লীগ ছাড়াও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মুফতি মুহিবুল্লাহ ও বাসদের নব কুমার কর্মকার প্রচারণা শুরু করেছেন। তবে প্রার্থী নিয়ে দ্বিধাদ্বন্দ্ব থাকায় এখনও মাঠে নামেনি বিএনপি। ধানের শীষের প্রকৃত মালিক কে হবেন তা নিয়ে চলছে সব মহলেই আলোচনা। এখানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান সাবেক প্রতিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুকে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছিল। দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায় প্রথম দিনেই তার মনোনয়ন বাতিল করেন জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা। পরবর্তীতে বিকল্প হিসেবে তার স্ত্রী সাবেক এমপি রুমানা মাহমুদকে চূড়ান্ত মনোনয়ন দেওয়া হয়। তবে প্রার্থিতা ফিরে পেতে দলের প্রভাবশালী নেতা টুকু আইনি লড়াইয়ে রয়েছেন।
আরো পড়ুন: হাতিয়ায় আওয়ামী লীগ-বিএনপি সংঘর্ষে আহত ২০
এ বিষয়ে জেলা বিএনপির যুগ্ম-সম্পাদক হারুন-অর-রশিদ খান হাসান বলেন, আমরা গত তিন দিন ধরে দোদুল্যমান অবস্থায় ছিলাম। তবে আমাদের নির্বাচনী প্রস্তুতি রয়েছে। বুধবার আদালতে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর মনোনয়ন চূড়ান্তভাবে বাতিল করা হয়। এখন আমাদের বিকল্প প্রার্থী রুমানা মাহমুদকে নিয়ে দুই-একদিনের মধ্যেই প্রচারণা শুরু করবো।
কামারখন্দ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান আব্দুল মতিন চৌধুরী বলেন, আমরা গত ১১ ডিসেম্বর থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু করেছি। সরকারের উন্নয়ন ও প্রার্থীর যোগ্যতার বিষয়টি মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে প্রচার করছি এবং নৌকা প্রতীকে ভোট প্রার্থনা করছি।
ইত্তেফাক/বিএএফ