বকেয়া বেতনের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে বকেয়া বেতনের দাবিতে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করেছে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। জিল ওয়্যারস্ লিমিটেড নামে বিদেশে রপ্তানিযোগ্য একটি জুতা ফ্যাক্টরির মালিকপক্ষ ব্যাংক লোন থেকে রক্ষা পেতে দীর্ঘদিন যাবৎ শ্রমিকদের বেতন আটক রেখে কৌশলে আন্দোলন উসকে দিচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার সকালে ওই ফ্যাক্টরির শ্রমিকরা অবরোধ করলে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। 

জানা গেছে, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের চৌদ্দগ্রামের বাতিসা ইউনিয়নের নানকরা নামক স্থানে জিল ওয়্যারস্ লিমিটেড অবস্থিত। বর্তমানে ফ্যাক্টরিটি ব্যাংক ঋণের বোঝা নিয়ে জর্জরিত অবস্থায় রয়েছে। প্রায় সময় মালিকপক্ষ ব্যাংক ঋণ থেকে রক্ষা পেতে শ্রমিকদের বেতন না দিয়ে কৌশলে প্রশাসনিক লোকজন দিয়ে শ্রমিকদের আন্দোলনমুখী করতে বাধ্য করছে। 

রাহেলা, লিজা আক্তার, রাহেলা আক্তার, জেসমিন আক্তার, খোদেজা বেগম, পারভেজ, আলী হোসেন ও মুরাদসহ অনেক শ্রমিক অভিযোগ করে বলেন, গত দুই মাস কর্তৃপক্ষ আমাদের বেতন পরিশোধ না করে গত ২১ অক্টোবর ফ্যাক্টরিটি বন্ধ করে দেয়। ফ্যাক্টরির প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ আমাদেরকে জানায় আজ বৃহস্পতিবার শ্রমিকদের বকেয়া বেতন পরিশোধ করা হবে। আমরা বেতনের আশায় সকালে ফ্যাক্টরিতে এসে জানতে পারি, আজকেও বেতন ভাতা পরিশোধ করা হবে না। এ সময় শ্রমিকরা বিক্ষোভে ফেটে পড়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে যান চলাচল বন্ধ করে দেয়। 

আরও পড়ুন: শাবি প্রেসক্লাব সভাপতি হোসাইন, সম্পাদক মেহেদী

এদিকে পরে খবর পেয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ আবদুল্লাহ আল মাহফুজের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদের মহাসড়ক  থেকে সরিয়ে দেন। যান চলাচল স্বাভাবিক করেন এবং শ্রমিকদের দাবি পূরণের আশ্বাস দেন। 

বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা সাংবাদিকদের নিকট অভিযোগ করে বলেন, মালিকপক্ষ শ্রমিকদের জন্য জেনারেল ফান্ডের নাম করে আমাদের থেকে প্রতি মাসে ৪’শ থেকে সর্বোচ্চ ৬’শ টাকা করে কেটে রেখে দেয়। পরবর্তীতে কৌশলে কর্তৃপক্ষ শ্রমিকদেরকে ছাটাই করে দেয়। কিন্তু কেটে রেখে দেওয়া জেনারেল ফান্ডে জমাকৃত টাকা কর্তৃপক্ষ ফেরত দেয় না। 

বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, জিল ওয়্যারস্ লিমিটেডের মালিক জহির উদ্দিন তারেক বেসিক ব্যাংক থেকে বিপুল পরিমাণের ঋণ গ্রহণ করে। বর্তমানে ব্যাংকের ঋণ পরিশোধ থেকে বাঁচতে তিনি প্রায় সময় নিজস্ব লোক দিয়ে শ্রমিক আন্দোলন উসকে দিয়ে মিডিয়াকে খবর দিয়ে কভারেজ পেতে মরিয়া হয়ে উঠে। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি নিজস্ব লোক দিয়ে শ্রমিকদের বিক্ষুব্ধ করে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে অচলাবস্থা সৃষ্টি করতে চেয়েছে। 

এ ব্যাপারে জিল ওয়্যারস্ লিমিটেডের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার শের বাহাদুরের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও তার বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। 

চৌদ্দগ্রাম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আবদুল্লাহ আল মাহফুজ বলেন, ‘খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকদেরকে মহাসড়ক থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। তাদের দাবির বিষয়ে ফ্যাক্টরি মালিকের সঙ্গে আলোচনা করে সমাধান করে  দেওয়া হবে’।

  ইত্তেফাক/এএএম