রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করলো টুইটার

জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টুইটার নিজেদের সাইটে রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। বুধবার প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী জ্যাক ডরসি এক টুইট বার্তায় এ ঘোষণা দেন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাজনীতিবিদদের ভুল তথ্য দেওয়া বিষয়ে ক্রমবর্ধমান সমালোচনার মুখে তারা এ পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে। খবর এএফপি ও বিবিসি’র

টুইটারে দেওয়া এক বার্তায় প্রধান নির্বাহী জ্যাক ডরসি বলেন, যাচাই না করে বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং একেবারে ভুয়া খবর পরিবেশনের কারণে সৃষ্ট ক্রমবর্ধমান সমস্যার কারণে প্রতিষ্ঠানটি এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।

একটি নতুন নীতিমালা করার কথা জানিয়ে ডরসি বলেন, টুইটারের নতুন নীতিমালায় নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা প্রার্থীদের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয়ের বিজ্ঞাপন নিষিদ্ধ করা হবে। নীতিমালার বিস্তারিত আগামী মাসে প্রকাশ করা হবে বলেও তিনি নিশ্চিত করেছেন। 

আরও পড়ুন: পলিউশন মাস্ক পরে দিল্লিতে অনুশীলন টাইগারদের

এদিকে ২০২০ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হওয়ার কথা। এই সময়ে টুইটারের এমন সিদ্ধান্তের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে। 

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের ব্যবস্থাপক ব্র্যাড পার্সকেল এই নিষেধাজ্ঞাকে ‘বামদের দ্বারা ট্রাম্প এবং রক্ষণশীলদের নীরব করার আরও একটি প্রচেষ্টা’ বলে অভিহিত করেছেন। 

তবে তবে ডেমোক্রেটিক ঘরানার জো বাইডেনের নির্বাচনী ক্যাম্পেইনের মুখপাত্র বিল রুশো বলেছেন, ‘যখন বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে অর্জিত অর্থ এবং আমাদের গণতন্ত্রের অখণ্ডতার মধ্যে যেকোনো একটিকে বেছে নেওয়ার প্রশ্ন আসে তখন এটা দেখে খুবই ভালো লাগলো যে অর্থের বিজয় হয় নি’।

টুইটারের এ সিদ্ধান্তের পর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী প্রতিষ্ঠান ফেসবুকের প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকারবার্গ বলেছেন, গণতন্ত্রের ক্ষেত্রে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর রাজনীতিবিদ ও সংবাদকে নিয়ন্ত্রণ করা উচিত নয়। 

উল্লেখ্য, আগামী ২২ নভেম্বর থেকে টুইটারের রাজনৈতিক বিজ্ঞাপন বন্ধের সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে এবং নভেম্বরের ১৫ তারিখের মধ্যে নীতিমালা সম্পর্কিত সকল তথ্য প্রকাশ করা হবে।

ইত্তেফাক/এসইউ