গোলমরিচের চাষ

আবুল কাসেম ভূঁইয়া

 

সারা বিশ্বে বিশেষভাবে সমাদৃত এবং জনপ্রিয় মসলা কালো গোলমরিচের চাষ দেশেই হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বিক্ষিপ্তভাবে গোলমরিচের চাষ হলেও এখন বেশ কিছু উদ্যোক্তা বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কালো গোলমরিচের চাষ শুরু করতে যাচ্ছেন। প্রাপ্ত তথ্য থেকে জানা যায়, পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকায় গোলমরিচের চাষ শুরুর ব্যাপারে সরকারিভাবে উত্সাহিত করা হচ্ছে। জানা যায়, ষাটের দশকের দিকে বাংলাদেশে গোলমরিচের চাষ শুরু হয়। তখন সিলেট অঞ্চলে বসতবাড়িতে কিছু কিছু গোলমরিচের গাছ ছিল। বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট কর্তৃক জৈন্তিয়া গোলমরিচ জাতটি ১৯৮৭ সালে উদ্ভাবিত হয়, যা বারি গোলমরিচ-১ নামে পরিচিত। এছাড়া কারিমুন্ডা, বালনকাট্টা কুল্লভেল্লে, আরকুলপাম মুন্ডা প্রভৃতি জাতের গোলমরিচ রয়েছে।

সাধারণত গোলমরিচের চারা ডালের কলম থেকে তৈরি করা হয়। কৃষিবিজ্ঞানীরা জানান, বাংলাদেশের মাটি এবং জলবায়ু গোলমরিচের চাষের জন্য উপযোগী। আর্দ্রতাযুক্ত স্থানে গোলমরিচের চাষ ভালো হয়। গোলমরিচের চারা এমন স্থানে রোপণ করতে হবে, যেখানে পানি জমতে না পারে। এজন্য পাহাড়ি এলাকায় গোলমরিচের চাষ ভালো হয়। গাছের কাটিং কলমের চারা রোপণ করতে হয়। বড়ো  বড়ো গাছ যেমন আম, কাঁঠাল, বাদি গাছের গোড়ায় গোড়ায় গোলমরিচের চারা রোপণ করা হয়। একসঙ্গে তিনটির বেশি চারা রোপণ করা যাবে না। চারা রোপণের পর গাছ ধীরে ধীরে বড়ো গাছের মধ্যে বেয়ে ওপরের দিকে উঠতে থাকে।  গোলমরিচ গাছ লতা জাতীয়। প্রতিটি গোলমরিচ গাছ ২৫ থেকে ৩০ ফুট লম্বা হয়ে থাকে। জৈবসার যুক্ত বেলে দোঁআশ, দোঁআশ মাটিতে গোলমরিচের  চাষ ভালো হয়। চারা রোপণের দুই বছর পর থেকে গাছে ফুল এবং ফলন আসে। প্রতিটি গাছের বয়স সাত-আট হলে পুরোপুরি ফলন আসে।

প্রতিটি গোলমরিচের গাছ থেকে   পাঁচ-ছয় কেজি গোলমরিচ পাওয়া যায়। সেপ্টেম্বর মাসের দিকে গোলমরিচের গাছে ফলন দেখা দেয়। ডিসেম্বর মাসের দিকে ফলন তোলা হয়। ফলন তোলার পর  গরম পানিতে কাঁচা গোলমরিচ সিদ্ধ করতে হয়। গোলমরিচ সিদ্ধ হলে কালো বর্ণ ধারণ করে। সিদ্ধ গোলমরিচ ভালোভাবে শুকিয়ে সংরক্ষণ করতে হয়। গোলমরিচ। কাঁচা অবস্থায় গাঢ় সবুজ এবং পাকা অবস্থায় হলুদ থেকে লাল বর্ণের হয়।

ভারতে গোলমরিচকে কিং অব স্পাইসিজ বলা হয়। ভারত ছাড়াও ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, শ্রীলঙ্কা, ব্রাজিল, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশে গোলমরিচ চাষ করা হয়ে থাকে। সর্বাধিক পরিমাণে গোলমরিচ ভারতে উত্পন্ন হয়। ভিয়েতনামে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে গোলমরিচের চাষ হচ্ছে। উচ্চমূল্যের  মসলা গোলমরিচের চাষের ব্যাপারে আমাদের দেশে যে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, তাতে যদি সফল হওয়া যায় তবে বিদেশ থেকে আর গোলমরিচ আমদানি করতে হবে না।