গরমের দিনে বিশেষ করে ফোন একটু বেশি গরম হয়ে থাকে, কেনোনা বাইরের আবহাওয়াই অনেক গরম হয়ে যায় সে সময়ে। নর্মালভাবে আপনার স্মার্টফোন ৪৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত গরম হতে পারে, এটা স্বাভাবিক ব্যাপার, এর জন্য সাথে সাথে ফোনকে টেক স্টোর নিয়ে যাওয়ার কোনই দরকার নেই। কিন্তু সমস্যা হয় তখন যখন ফোন নিজে থেকেই ওভার হিটিং এর আলার্ট প্রদান করে। হ্যাঁ, আপনার ফোনের মধ্যে বিল্ডইন সেন্সর থাকে যেটা ফোনের সিস্টেম গরম হওয়ার তাপমাত্রা পরিমাপ করতে পারে।
প্রসেসিং পাওয়ার
আপনার স্মার্টফোনসহ দুনিয়ার সকল ইলেকট্রনিক ডিভাইজ ইলেক্ট্রিসিটি দ্বারা পরিচালিত। যত বেশি হেভি প্রসেসিং করানোর দরকার পরবে, প্রসেসর তত বেশি ইলেক্ট্রিসিটির ডিম্যান্ড করবে। যত বেশি ইলেক্ট্রিসিটি প্রবাহিত হবে, তত বেশি তাপমাত্রা জেনারেট হবে ফোন থেকে। এখনকার স্মার্টফোনগুলোতে অনেক মডার্ন প্রসেসর ও এসওসি ইউজ করা হয়। মানে আজকের কম্পিউটার আর মোবাইল ডিভাইজগুলো অনেক বেশি প্রসেসিং হ্যান্ডেল করতে পারে তাও অনেক কম গরম হয়ে।
ফোন অত্যাধিক গরম করার পেছনে অন্যতম কারণ হলেঅ বর্তমানের মডার্ন গেমগুলো। এগুলোর সিপিইউ এবং জিপিইউ রিসোর্স নিড অনেক বেশি। আপনার ফোন ১-২ ঘণ্টা টানা গেমিং করার পরেই নজরকারা গরম হয়ে যেতে পারে। যদি আরও বেশি সময় গেমিং করেন সেক্ষেত্রে সহজেই ফোন অত্যাধিক মাত্রায় গরম হয়ে যেতে পারে। আপনার ফোনের সিস্টেম অনেক উন্নত হওয়ার পরেও বেশি সময় ধরে গেমিং করার ফলে ফোন বেশি গরম হয়ে যেতে পারে।
স্ট্রিমিং ও হেভি টাস্ক
গেমিং থেকে অবশ্যই ফোন অনেক গরম হয়ে যায়, কিন্তু এমন যেকোনো কাজ যেটা প্রসেসরকে অনেক বিজি রাখে তা থেকে ফোন অত্যাধিক গরম হতে পারে। আপনি ফোনে ভিডিও প্রসেস করতে লাগিয়ে দিলে ফোন অত্যাধিক গরম হবে স্বাভাবিক। বর্তমান সময়ে বিশেষ এক পরিবর্তন হচ্ছে ফোন ইউজ করে সোশ্যাল মিডিয়াতে লাইভ ভিডিও স্ট্রিমিং করা। মাত্র ২০ মিনিট ধরে লাইভ স্ট্রিমিং করেই আপনার ফোন অত্যাধিক গরম হয়ে যেতে পারে। আপনার রুমে যদি এসি না থাকে বা আপনি কোন ঠাণ্ডা পরিবেশে না থাকেন এটা সত্যিই সমস্যা তৈরি করতে পারে। ব্যাপারটা আরো মারাত্মক হয়ে উঠতে পারে যদি আপনি গরম পরিবেশে গেমিং বা লাইভ স্ট্রিমিং করতে করতে, আবার ফোন চার্জে লাগিয়ে রাখেন।
ব্যাটারি থেকে ফোন গরম
শুধু যে প্রসেসর থেকেই ফোন গরম হয় এমন নয়, ফোনের ব্যাটারি থেকেও ফোন গরম হতে পারে। আপনার ফোনে ব্যাটারিই একমাত্র পাওয়ার সোর্স, যেটা সকল যন্ত্রপাতিকে পাওয়ার সরবরাহ করে। প্রত্যেকটি ফোনেই এখন ওভার চার্জড প্রটেকশন থাকে, কিন্তু ফোনে চার্জার লাগিয়েই রাখা বা ১০০% চার্জ করা ফোন অত্যাধিক গরম করতে পারে।
এটা সর্বদা আদর্শ হয় যদি ফোনের চার্জ ৭৫-৮৫% এর মধ্যে রাখতে পারেন। মানে ৮৫% চার্জ হয়ে গেলেই চার্জার থেকে ফোন খুলে ফেলতে পারেন। এতে শুধু ফোন ওভার হিটিং থেকে নয় বরং ব্যাটারি লাইফ ও অনেক দিন ভালো থাকবে। যদি সর্বদা ১০০% চার্জ করতে থাকেন ফোনকে, সেক্ষেত্রে ওভার হিটিং সমস্যা এড়াতে পারবেন না।
ইন্টারনেট কানেকশন
খারাপ ইন্টারনেট কানেকশন থেকেও আপনার ফোন ওভারহিটিং হতে পারে। খারাপ ওয়াই-ফাই সিগন্যাল বা সেলুলার সিগন্যালের ফলে প্রসেসরকে অনেক পাওয়ার খরচ করতে হয় আপনার কানেকশন স্ট্যাবল রাখার জন্য। সাথে ফোনের মডেম ঠিক মতো ডাটা সেন্ড/রিসিভ না করতে পারায় বেশি পাওয়ার ইউজ করতে থাকে স্টাবল হওয়ার জন্য। এতে ফোন প্রচন্ড গরম হয়ে উঠতে পারে।
এরমানে হুট করেই কিন্তু আপনার বিশেষ ভয় পাওয়ার দরকার নেই, দেখুন আপনার ফোন সকল টাইপের কাজ করার জন্য খুব ভালোভাবে অপ্টিমাইজড। কিন্তু ধরুন আপনি হেভি গেমিং করছেন, একই সাথে ব্রাউজার অন রেখেছেন ব্যাকগ্রাউন্ডে সাথে বন্ধুর সাথে ভিডিও চ্যাটে ও যুক্ত রয়েছেন, আপনার ওয়াইফাই বা সেলুলার সিগন্যাল ও লো হয়তো আর এর মধ্যেই আবার ফোনে চার্জার লাগিয়ে রেখেছেন তাহলে কি করতে বাকি রেখেছেন? ফোন তো ওভার হিটিং হবেই!
পরিত্রাণের উপায়
ফোন মারাত্মক গরম হওয়া থেকে বাঁচতে চাইলে ফোনের যত্ন নিতে হবে সাথে কিছু কমন জিনিষ মাথায় রাখতে হবে। প্রথমত ফোন অলরেডি অনেক গরম হয়ে গেলে ফোন থেকে কেস সরিয়ে ফেলুন, নর্মালভাবে ফোনে কেস ইউজ করলেও সেটা পাতলা কেস ইউজ করার চেষ্টা করুন, আপনি সিলিকনের তৈরি কেস ইউজ করতে পারেন।
ফোন চার্জ করার জন্য ভালমানের ক্যাবল এবং চার্জার ইউজ করুন, বেশি ভালো হয় ফোনের অরজিনাল চার্জার ও ক্যাবল ইউজ করা, কিন্তু যেকোনো ভালোমানের চার্জার ইউজ করলেও কোন সমস্যা নেই। তবে সারারাত ফোনে চার্জার না লাগিয়ে রাখায় ভালো, এতে ফোন গরম হয়ে যায় সাথে ব্যাটারির আয়ু কমে যায়। ফোনের চার্জ ৮৫% এর উপরে না করার ভালো, আবার ০% পর্যন্ত ডিসচার্জ ও করবেন না। গেমিং করার সময় ঠাণ্ডা পরিবেশে থাকার চেষ্টা করুন যাতে ফোন বাহ্যিক তাপমাত্রা থেকে আরো বেশি গরম না হয়ে যায়। সাথে ফোনের স্ক্রীনের আলো কমিয়ে রাখুন, এতে দুইটি লাভ হবে; একে ফোনের গরম হওয়া কমে যাবে, দ্বিতীয়ত ব্যাটারি লাইফ অনেক সেভ করা যাবে। অ্যাপ ম্যানেজার থেকে অত্যাধিক ব্যাকগ্রাউন্ড অ্যাপগুলোকে অফ করে দিন,তবে অনেক অ্যাপ কাজ করার জন্য ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস দরকারি হয়, যেমন- ফেসবুক অ্যাপ ব্যাকগ্রাউন্ডে চলে বলেই সাথে সাথে নতুন নোটিফিকেশন সেন্ড করতে পারে। অনেক অ্যাপ দরকার নেই আপনার কাছে সেগুলোর ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেস অফ করে রাখতে পারেন।