কক্সবাজারে স্বেচ্ছাশ্রমে সড়ক নির্মাণ!

সায়ীদ আলমগীর, কক্সবাজার

কক্সবাজারের উপকূলীয় ভারুয়াখালী-পিএমখালী সেতু দ্রুত বাস্তবায়নের আশায় স্বেচ্ছাশ্রমে অ্যাপ্রোচ সড়ক তৈরি করছে স্থানীয় লোকজন। সপ্তাহখানেক ধরে প্রতিদিন শতাধিক লোক স্বেচ্ছায় সড়কের কাজ করছে। নদী পারাপারে ভোগান্তিতে থাকা ভারুয়াখালীর বড় চৌধুরী ও ছোট চৌধুরীপাড়া, ননামিয়াপাড়া, উল্টাখালী ও আদর্শগ্রামের লোকজন পালা করে এখানে শ্রম দিচ্ছে। তাদের আশা, সংযোগ সড়ক তৈরি হলে স্বপ্নের সেতুটি শিগিগর আলোর মুখ দেখবে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, কক্সবাজার সদরের ১০টি ইউনিয়নের মধ্যে ভারুয়াখালী ও পিএমখালী পাশাপাশি ইউনিয়ন। এদের পৃথক করেছে ভারুয়াখালী নদী। নদীর তীর থেকে সদরের দূরত্ব মাত্র ৮ থেকে ১০ কিলোমিটার। এর পাশ দিয়ে সদরে পৌঁছাতে সময় লাগে মাত্র ২৫-৩০ মিনিট। কিন্তু নদী পারাপারে সেতু না থাকায় ভারুয়াখালী নদীর তীরবর্তী ৮-১০টি পাড়ার প্রায় ২০-২৫ হাজার মানুষকে মহাসড়ক মাড়িয়ে প্রায় ২৫-৩০ কিলোমিটার পথ ঘুরে রামু পার হয়ে সদরে আসতে হয়। এতে সময় লাগে দেড়-দুই ঘণ্টা। ভারুয়াখালী-পিএমখালী সংযোগ সেতু বাস্তবায়িত হলে ভারুয়াখালী, রশিদনগর, জোয়ারিয়ানালার কিছু অংশের অধিবাসীর সদরের সঙ্গে যোগাযোগের পথ কমে যাবে প্রায় ১০-১৫ কিলোমিটার। সম্প্রতি সদর-রামু আসনের সাংসদ সাইমুম সরোয়ার কমল ভারুয়াখালী-পিএমখালী সংযোগ সেতুর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এতে আশাবাদী হয়ে ভারুয়াখালী ও আশপাশ এলাকার লোকজন সেতুর নির্ধারিত স্থানে স্থল এলাকায় তিন হাজার ৩০০ ফুট লম্বা ও ১২ ফুট প্রস্ত করে সংযোগ সড়কটি তৈরি করেছে।

ভারুয়াখালী-পিএমখালী সংযোগ সেতু বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি অ্যাডভোকেট শওকত বেলাল বলেন, প্রত্যাশা পূরণ দ্রুত হওয়ায় সরকারকে সহযোগিতার মনোভাব নিয়ে ভুক্তভোগীরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে স্বেচ্ছায় সংযোগ বা অ্যাপ্রোচ সড়ক নির্মাণে অংশ নিচ্ছে। কক্সবাজার সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কায়ছারুল হক জুয়েল বলেন, ভারুয়াখালী-পিএমখালী সংযোগ সেতু বাস্তবায়নে সম্ভব সব ধরনের সহযোগিতা উপজেলা পরিষদের পক্ষ থেকে করা হবে।