নেত্রকোনা প্রতিনিধি
এক সময় নেত্রকোনা জেলার বিভিন্ন উপজেলার গ্রামে গ্রামে লোকজন মাটির তৈরি ঘরেই বসবাস করতেন। কিন্তু কালেরআবর্তে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের অন্যতম নিদর্শন মাটির তৈরি ঘর। এখন গ্রামগঞ্জে মাটির ঘর আর আগের মতো চোখে পড়ে না। এখন সেখানে স্থান পেয়েছে টিনের বেড়া দেওয়া বাড়িঘর। কয়েক যুগ আগে জেলার কলমাকান্দা উপজেলার সীমান্তবর্তী গ্রামের লোকজন নিজেরাই তৈরি করতেন ঐসব ঘর।
কলমাকান্দা উপজেলার সীমান্তবর্তী লেংগুরা ইউনিয়নের গৌরীপুর গ্রামে বর্তমানে হাতেগোনা ১০/১৫টি মাটির তৈরি ঘর দেখতে পাওয়া যায়। ঘরগুলোতে রয়েছে মাটির দেওয়াল আর ওপরে রয়েছে টিনের চাল। অপরদিকে কিছু ঘরে খড়ের তৈরি চালও দেখা যায়।
মাটির ঘরে বসবাসকারী সুদীপ্ত হাজং বলেন, ঐসব মাটির ঘরে গরমের সময় ঠান্ডা ও শীতের সময় গরম লাগে। এ ঘরটি তার ঠাকুরদাদা তৈরি করে গেছেন। এখন শুধু বছরে একবার দেওয়ালে মাটি আর মাঝে মধ্যে শুধু প্রলেপ দিলেই চলে। তাই তারা প্রায় তিন যুগ আগের তৈরি মাটির ঘর এখনো ব্যবহার করছেন বলে জানান।
একই এলাকার মাটির ঘর ব্যবহারকারী সিরাজুল ইসলাম বলেন, পৈত্রিক সম্পত্তি হিসেবে মাটির এ ঘরটি তিনি পেয়েছেন। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বর্ষা মৌসুমে পানি লেগে মাটি গলে ঘরের কিছুটা ক্ষতি হলেও অন্যান্য সময় তেমন কোনো ক্ষতি হয় না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন বলেন, শুধু কলমাকান্দা নয় সারাদেশেই নতুন নতুন প্রযুক্তি ও আধুনিকতার স্পর্শে এখন মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হয়েছে। প্রত্যন্ত গ্রামেও পৌঁছে গেছে বিদ্যুত্। গ্রামীণ অর্থনীতির গতি সচল হওয়ায় মাটির ঘরের পরিবর্তে তৈরি হচ্ছে পাকা ঘর। গ্রামকে শহর করা সরকারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আওতায় মাটির ঘরের পরিবর্তে সকল ঘরই এক সময় পাকা ঘরে পরিণত হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নেত্রকোনা : কলমাকান্দা গ্রামে মাটির তৈরি ঘর —ইত্তেফাক