চরভদ্রাসন সদর বাজারে ইলিশ কেনাবেচার ধুম!

চরভদ্রাসন (ফরিদপুর) সংবাদদাতা

মা-ইলিশ রক্ষায় ২২ দিন নিষেধাজ্ঞার পর চরভদ্রাসন সদর মাছ বাজারে বৃহস্পতিবার থেকে শুরু হয়েছে ইলিশ কেনাবেচার ধুম। ডালায় ইলিশ সাজিয়ে চিরচেনা রূপে প্রাণ ফিরে পেয়েছে এই মাছ বাজার।

শুক্রবার সকাল ১০টার দিকে মাছ বাজার ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিটি মাছের ডালায় শোভা পাচ্ছে নানা আকৃতির ইলিশ। আর মাছের রাজা ইলিশ কেনার জন্য বাজারে ইলিশপ্রেমিদের উপচেপড়া ভিড় ছিল। ব্যবসায়ীরা বড়ো সাইজের এক কেজি ওজনের এক হালি ইলিশের দাম হাকছেন ৫ হাজার টাকা। মাঝারি সাইজের ৩-৪টায় কেজি ইলিশ মাছের দাম তুলনামূলকভাবে গত দুই বছরের চেয়ে বেশি।

ডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা মো. শামীম সিকদার বলেন, তিনি বড়ো সাইজের ১৭টি মাছ কিনেছেন ১৩ হাজার টাকায়। তবে গত দুই বছরের তুলনায় এবার মাছের দাম অনেকটা বেশি বলে জানান এই ক্রেতা।

বালিয়াডাঙ্গী গ্রামের বাসিন্দা মোতাহার মোল্যা বলেন, বড়ো সাইজের ইলিশের দাম বেশি তাই ৬০০ টাকায় ছোটো ১০টি ইলিশ কিনে বাড়ি ফিরছেন তিনি।

এদিকে মাছ ব্যবসায়ী শামচু, রিপন ও লিটন বলেন, ২২ দিন বন্ধের পর বাজারে প্রচুর ইলিশ উঠেছে। কিন্তু ক্রেতা বেশি হওয়ায় দাম তুলনামূলকভাবে কিছুটা বেশি। দাম যাই হোক কেনাবেচারও কমতি নেই বলে জানান তারা। এই মূল্য দুই-একদিনের মধ্যে কিছুটা কমবে বলে জানান তারা।

ইলিশের দাম তুলনামূলকভাবে বেশি উল্লেখ করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জেসমিন সুলতানা বলেন, শুক্রবার সকালে সদর মাছ বাজার মনিটরিং করেছেন। আড়তদারদের সিন্ডিকেটের বিষয়ে খোঁজ নিয়ে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে জানান তিনি।

যমুনায় নেমে আশাহত জেলেরা!

চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) সংবাদদাতা জানান, টানা ২২ দিন ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞার পর বৃহস্পতিবার নদীতে ফের শুরু হয়েছে নির্বিঘ্নে ইলিশ আহরণ। বিগত দিনের বেকারত্ব আর লুকিয়ে মাছ ধরার প্রবণতা দূরে ঠেলে অনেকটা উত্সবমুখর পরিবেশেই চলছে রূপালি শস্য ধরার কাজ। তবে যমুনায় ইলিশের আকাল দেখা দেওয়ায় জেলেরা আশাহত হয়ে পড়েছেন।

সরেজমিনে চৌহালী উপজেলার সদিয়াচাঁদপুর ইউনিয়নের বারবালা, চাঁদপুর, বোয়ালকান্দি, স্থলচর, চালুহারা, মিস্ত্রীগাঁতী, উমরপুর, ঘোরজান, বাঘুটিয়া এলাকায় দেখা গেছে, নদী জুড়ে কেবলই জেলেদের মাছ ধরা নৌকার সমারোহ। তবে দেখা নেই সেই কাঙ্ক্ষিত ইলিশের। যাও বা মিলছে ৪০০ থেকে ৬০০ হাত লম্বা জালে মাত্র ২-৪টি জাটকা।

জেলে সন্তেষ আলী ও আজিজল হক জানান, দীর্ঘদিন পর জাল নিয়ে যমুনায় এসে হতাশ হয়েছি। গত বছর জাল থেকে ইলিশ ছাড়াতেই ব্যস্ত থাকতে হতো। এখন দুই ঘণ্টা পর পর জাল তুলে আর সেরকম খুব একটা মাছ মিলছে না। ঋণ করে তৈরি করা জাল আর নৌকার টাকা উঠবে না।

এদিকে জালে ইলিশ না মেলায় বেতিল বাজারসহ উপজেলার ৩৩টি হাট-বাজারেও পর্যাপ্ত ইলিশ নেই। বেতিল গ্রামের প্রবীণ জেলে সুশীল চন্দ্র হলদার ও সিরাজুল ইসলাম জানান, ছোটোবেলা থেকেই মাছ ধরার সঙ্গে নিয়োজিত। তবে ইলিশের এমন আকাল কোনোদিন দেখিনি। 

 

 

 

চৌহালী (সিরাজগঞ্জ) : ইলিশ ধরায় ব্যস্ত জেলেরা        —ইত্তেফাক