দুর্ভোগে জমির মালিক ও ক্রেতাসাধারণ
এম এইচ আরমান চৌধুরী, চকরিয়া (কক্সবাজার) সংবাদদাতা
কক্সবাজারের চকরিয়ায় সাবরেজিস্ট্রার না থাকায় দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার জনসাধারণ। একবছর আগে উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার এস এম শামসুজ্জামান অন্যত্র বদলি হয়ে গেলে পদটি শূন্য হয়। এতে জমি বেচাকেনা বা দলিল নিবন্ধন করার ক্ষেত্রে দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন জমি মালিক ও ক্রেতাসাধারণ। পাশাপাশি জমি বেচাকেনা কার্যক্রম ব্যাহত হবার কারণে সরকারও প্রতি মাসে বিপুল অঙ্কের রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।
চকরিয়া সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্র জানায়, উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার এস এম শামসুজ্জামান বদলি হওয়ার পর থেকে উল্লেখিত পদে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন রামু উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার মাহাবুবর রহমান। কিন্তু তিনি চকরিয়ায় অফিস করছেন সপ্তাহে দুই দিন। স্থানীয় লোকজন জানান, সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবসের স্থলে তিন দিন দলিল নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় জমি বেচাকেনায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট লোকজনকে। সূত্র জানায়, চকরিয়া উপজেলার ১৮টি ইউনিয়নে ৪৫টি ও একটি পৌরসভায় ১৪টিসহ মোট ৫৯টি মৌজা রয়েছে। এসব মৌজায় ব্যক্তিমালিকানাধীন অন্তত লক্ষাধিক একর আবাদি-অনাবাদি জমি রয়েছে। দুই শতক আগে থেকে উপজেলার যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির কারণে বিভিন্ন এলাকায় বেড়ে চলছে জমি বেচাকেনা। এতে জমির দলিল সম্পাদনের চাপ বাড়ছে সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ে।
চকরিয়া উপজেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি সাইফুল আজম বলেন, একজন নিয়মিত সাবরেজিস্ট্রার না থাকায় প্রায় এক বছর ধরে উপজেলার লোকজন প্রয়োজনের সময় জমি বেচাকেনা করতে পারছেন না। এতে ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়পক্ষের সমস্যা হচ্ছে। তিনি বলেন, বর্তমানে চকরিয়া উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার কার্যালয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন রামু উপজেলা সাবরেজিস্ট্রার মাহাবুবর রহমান। কিন্তু তিনি চকরিয়া আসেন সপ্তাহে দুই দিন—রবিবার ও সোমবার। সপ্তাহে পাঁচ কার্যদিবসের জায়গায় তিন দিন দলিল নিবন্ধন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় জমি বেচাকেনায় চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে সংশ্লিষ্ট লোকজনকে। বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন জমি রেজিস্ট্রি কাজে ঢাকা, চট্টগ্রাম কিংবা বিদেশ থেকে আগত লোকজন।
জানতে চাইলে কক্সবাজার জেলা রেজিস্ট্রার রায়হান মন্ডল বলেন, ‘চকরিয়া একটি গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। কর্মকর্তা সংকটের কারণে আমরা রামু সাবরেজিস্ট্রার মাহাবুবর রহমানকে চকরিয়ায় দুই দিন অতিরিক্ত দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দিয়েছি। তিনি বলেন, চকরিয়া ও মহেশখালী উপজেলায় সাবরেজিস্ট্রার পদটি শূন্য আছে। তারপরও গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা হিসেবে চকরিয়ায় একজন নিয়মিত সাবরেজিস্ট্রার পোস্টিং দেওয়ার জন্য এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়ে লিখিতভাবে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরকে মৌখিকভাবে জানানো হয়েছে। আশাকরি, মন্ত্রণালয় জনদুর্ভোগ লাঘবে এখানে একজন নতুন সাবরেজিস্ট্রার নিয়োগ দেবে। জেলা সাবরেজিস্ট্রার আরো বলেন, চকরিয়ায় সাবরেজিস্ট্রার পদটি শূন্য থাকার বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য জাফর আলমকেও অবহিত করা হয়েছে।